নোবেল ফোরামে বাঙালি! তাও আবার স্বাস্থ্য-গবেষণায় সাফল্যের গল্প শোনাতে৷ ডায়ালিসিস চলাকালীন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কীভাবে রোগীকে দ্রূত সুস্থ করে তোলে তাই নিয়ে গবেষণা৷ গবেষক কলকাতার বিখ্যাত নেফ্রোলজিস্ট ডা. প্রতিম সেনগুপ্ত৷
১৩৭ জন রোগীর উপর পরীক্ষামূলক সমীক্ষা চালিয়ে প্রতিম খুঁজে পেয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঠেকাতে পারে কিডনির অসুখ৷ এমনকি পথ্যে পরিবর্তন এনে ‘অ্যান্ড স্টেজ রেনাল ডিজিস' (ইএসআরডি)-এ আক্রান্ত রোগীকেও ভালো রাখা যায়! এমনই দাবি বেলভিউ ও আইএলএস-এর এই চিকিৎসকের৷
এই নজিরবিহীন সাফল্যেরই স্বীকৃতি মিলেছে৷ ডাক এসেছে নোবেলের দেশ থেকে৷ সুইডেনে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড রেনাল নিউট্রিশন কনফারেন্স'-এ বক্তৃতা দেয়ার৷ আয়োজক ‘দি ক্যারোলিন্সকা ইনস্টিটিউট অফ স্টকহোম'৷ ওই সম্মেলনেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরবর্তী নোবেলজয়ীর নাম ঘোষিত হবে৷ এমন ‘নোবেল ফোরাম'-এ দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেয়া যে চাট্টিখানি কথা নয় তা স্বীকার করে নিয়েছে কলকাতার চিকিৎসক মহল৷ খুশি প্রতিমও৷ মাত্র ৩৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি! খুশি তো হবেনই৷ জানালেন, "বেলভিউ ও আইএলএস-এর ১৩৭ জন রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেছি৷ দেখেছি, শুধু খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কীভাবে কিডনির অসুখের প্রকোপ কমিয়ে আনছে৷ সেই কথাই এবার গোটা বিশ্বকে বলব৷"
প্রতিমের টোটকা প্রয়োগ করে ইতিমধ্যেই সুফল পেয়েছেন বহু রোগী৷ পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে বলে কিডনির অসুখে আক্রান্ত রোগীদের রসালো ফল খাওয়া বিপজ্জনক৷ ফল-পিপাসা মেটাতে বিকল্প পথের হদিশ দিয়েছেন প্রতিম৷ জানিয়েছেন, ‘জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর বিদ্যা কাজে লাগিয়ে এমন ফল উৎপাদন করা সম্ভব যাতে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে৷ এই ফল যত খুশি খেতে পারবেন কিডনির অসুখে ভোগা রোগীরা৷ ‘অর্গানিক' ফল, সবজি, শস্যও কিডনির রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী৷ প্রতিম জানালেন, "বিশ্বের ডায়াবেটিক-ক্যাপিটাল বলে ভারতে কিডনির অসুখের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি৷ অথচ কিডনির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল৷ এই পরিস্থিতিতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে কিডনির অসুখকে দূরে রাখা বুমিানের কাজ৷ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্যও এই ‘টোটকা' বিশেষ কার্যকর ভূমিকা নেবে৷
সূত্র - natunbarta.com

