জেল চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে এইচআইভি ভাইরাস বা মরণব্যাধি এইডস প্রতিরোধ করা যাবে। নতুন এক গবেষণায় এ আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বানরের ওপর চালানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের একটি গবষণা রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বৃহ্স্পতিবার এ তথ্য জানায় বিবিসি।
প্রাথমিকভাবে বানরের ওপর এ গবেষণা পরীক্ষা করা হয়। তাতে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার তিন ঘণ্টা পর তিনটি নারী বানরকে নতুন এ ওষুধ দেয়া হয়। যেটি তাদেরকে এইচআইভি ধরনের মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে পারে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।
এইচআইভি প্রতিরোধে জেলটি সহবাসের পর নারীরা ব্যবহার করতে পারবে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।
গবেষণাটি সাইন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিনে প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিশ্বব্যাপী এইচআইভি মোকাবেলায় এটি একটি নতুন পথের দিকে নিয়ে যাবে।
গবেষণায় বলা হয়, জেলটি মূলত যোনীতে ব্যবহার করা হবে। এই জেলেই এইচআইভি প্রতিরোধকারী ওষুধ মিশ্রিত করা আছে। মানুষের ওপরও ওষুধ মিশ্রতি এই জেলের সফল ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে।
এইচআইভি কিংবা এইডস প্রতিরোধের নতুন এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে গবেষক ড. চার্লস ডোবারড বলেন, “সহবাসের পর এইচআইভির সংক্রমণকে প্রতিহত করতে আফটার সেক্স-ভ্যাজিনাল জেল বেশ কার্যকর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।”
মার্কিন গবেষক দলটি নানানভাবে এর পরীক্ষামূলক গবেষণা চালিয়েছেন। বানরের ওপর তারা প্রথমে নতুন ধরনের এ চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষা করেছেন। তাতে তারা এইচআইভি আক্রান্তের পর তা প্রতিরোধে কার্যকর সম্ভাবনার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।
মানুষের তৈরি গবেষণাগারে খুবই সামান্য আকারে এইচআইভির ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া বানরের মধ্যে। তারপর আক্রান্ত হওয়ার তিন ঘণ্টা পর জেল চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় এদের মধ্যে। জেল পদ্ধতি প্রয়োগের পর আক্রান্ত ৬ থেকে সাতটি বানকে এইচআইভি থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
তবে তারা বলছেন, এই নতুন ধরনের চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা জরুরি।
গবেষকরা এ পরীক্ষাকে এনিম্যাল ট্রায়াল বা এনিম্যাল মডেল অফ ট্রায়াল হিসেবে দেখছেন। এ পর্যায়ে তাদের পরীক্ষার লক্ষ্য সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এর জন্য আরো ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
সূত্র - poriborton.com

