সারা দেশের শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি এ কর্মসূচি শেষ হবে। নয় মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া হয়।
আজ রোববার সকাল নয়টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। হাম-রুবেলা ছাড়া এ ক্যাম্পেইনের আওতায় পোলিও টিকাও যুক্ত রয়েছে। শূন্য থেকে পাঁচ বছরের সব শিশুকে দুই ফোঁটা পোলিও টিকা খাওয়ানো হবে।
হাম-রুবেলা ও পোলিও ঠেকাতে মোট সাত কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এ প্রচারাভিযানের আওতায় বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হবে। তবে ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপে গতকাল থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব এবং অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। যাদের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৪৫ লাখ।
পরে (১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশের সব নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে কমিউনিটিতে ওই টিকা দেওয়া হবে। বিশ্বের বৃহত্তম এ ক্যাম্পেইনে প্রায় ৬৭ হাজার প্রশিক্ষিত টিকাদান কর্মী কাজ করছেন। তাঁদের সহযোগিতার জন্য প্রতিটি টিকাদানকারী দলে তিনজন করে মোট দুই লাখ ৪১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর আবু জাফর মো. মুসা গতকাল শনিবার বলেন, কর্মসূচির প্রথম দিনে সারা দেশের স্কুলপর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে ভালোভাবেই। এ কার্যক্রম থেকে কোনো স্কুলই বাদ যাবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কার্যক্রম সূত্র জানায়, এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাদান ক্যাম্পেইন। এতে এমআর টিকা পাবে পাঁচ কোটি ২০ লাখ ও পোলিও টিকা পাবে দুই কোটি ২০ লাখ শিশু। এ কর্মসূচিতে সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, লায়নস ইন্টারন্যাশনালসহ অনেক এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
একই সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত বয়সের কোনো শিশু আগে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বা অন্য কোনোভাবে হাম, এমআর বা পোলিও টিকা পেয়ে থাকলেও অথবা আগে কখনো টিকা না পেয়ে থাকলেও তাকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী এক ডোজ করে টিকা দেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসব টিকায় সাধারণত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। তবু সতর্কতার জন্য অসুস্থ কোনো শিশু-কিশোরকে এ সময় ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। এ টিকা ইনজেকশন পদ্ধতিতে দেওয়ার ফলে শিশুদের সামান্য জ্বর, গায়ে ব্যথা বা বমির ভাব হতে পারে। তবে এমনিতেই তা সেরে যাবে। তবু টিকা দেওয়ার পর কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে মনে হলে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী ও নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিশেষ স্কোয়াড তৈরি থাকবে। তবে পোলিও টিকায় কোনো পার্শ্বপতিক্রিয়া নেই।
সূত্র - প্রথম আলো

