গাজর
সবজির মধ্যে গাজর অন্যতম প্রধান। গাজর কাঁচা ও বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। গাজরে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন। স্বাভাবিক অবস্থায় কাঁচা খাওয়া ছাড়াও গাজরে তৈরি হয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর নানা ধরনের খাবার। ব্যঞ্জন, সালাদ, স্যুপ, চপ, বড়া, হালুয়া সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে গাজরের ব্যবহার অতুলনীয়। এতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, বি ওসি এবং পর্যাপ্ত খাদ্য শক্তি রয়েছে। আমাদের দেশে প্রচলিত অধিকাংশ শাক সবজি ও ফলমূলের চেয়ে গাজরে ভিটামিন ‘এ’-এর মাত্রা অধিক। শিশুদের রাত কানা রোগ প্রতিরোধ ও শরীরে শক্তি জোগাতে গাজর খাওয়া উচিত। ৪-৬ বছর বয়সের একটি শিশুর দৈনিক ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ খাওয়া প্রয়োজন। অপরদিকে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ খাওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দু’একটি গাজর খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব সহজেই পূরণ হতে পারে।
গাজরের অন্যান্য খাদ্য উপাদান দেহের পুষ্টি জোগাতে ও দেহকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। গাজর অপেক্ষাকৃত দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে স্বল্প আয়ের লোকজন এই সবজিটি ফলের বিকল্প হিসেবে বাড়ন্ত শিশুদের খেতে দিতে পারেন।কাঁচা খেতে সুস্বাদু বলে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন দু-একটি গাজর পরিবারের সবাই খেতে পারেন। গাজর সহজেই হজম হয় এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে গাজর খেতে পারেন।পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে রয়েছে জলীয় অংশ ৮৫.০ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম, আঁশ ১.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৭ কিলোক্যালরি, আমিষ১.২ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা, ১২.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.২ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১০৫২০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ৬মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.০৪ এবং ভিটামিন বি২ ০.০৫ মিলিগ্রাম। গাজর স্বল্পদামে, সহজে পাওয়া যায় বলে ধনী-গরিব সব শ্রেণীর মানুষ খেতে পারেন।
মুলা
মুলা একটি অন্যতম শীতকালীন সবজি। সাধারণত দুই রকমের মুলা আমাদের দেশে বেশি জন্মায়। সাদা মুলা ও লাল মুলা। এটি রূপান্তরিত প্রধান মূল। মুলার মূল, পাতা ও বীজ সবজি হিসেবে তরকারি, সালাদ, ভাজি ছাড়াও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই সবজিটির রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ওষুধি গুণ। মুলাতে রয়েছে সিসটিন সমৃদ্ধ প্রোটিন। মুলার নির্যাস এন্টিইউরোলিথিক। মুলা শীতলকারক, মূত্রকারক ও হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক। যকৃতের প্রদাহ, জন্ডিস ও হিক্কায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। মুলা দেহকে ঠাণ্ডা রাখে। ক্ষুধা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। মুলা রুচিকর, কণ্ঠস্বর উন্নতকারক, গ্যাস, কফ ও পিত্তরোগ নাশক, জ্বর ও শ্বাসরোগে হিতকর। কাঁচা মুলা যকৃতের রোগ, প্লীহা, হিক্কা, অর্শ ও জন্ডিসে উপকারী।
মুলা ছোট-ছোট টুকরা করে এর সঙ্গে অল্প পরিমাণ বিট লবণ ও পুঁদিনা পাতা মিশিয়ে দিনে দু’বার খেলে ৮-১০ দিনের মধ্যে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। যকৃতের প্রদাহ ও জন্ডিসে ১০০ মিলি মুলার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ কালো মেঘের নির্যাস ও অল্প চিনি মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার ২০-২৫ দিন সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়। মূত্র কৃচ্ছ্রতা ও শরীর জ্বালাপোড়ায় ১০০ মিলিমুলার রসের সঙ্গে সম পরিমাণ গুলঞ্চের রস অথবা আরক বাদিয়ান মিশিয়ে দিনে ২/৩বার ২০-২৫ দিন সেবন করলে রোগ থেকে পরিত্রাণ মেলে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণাইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মুলা তাসাকিসান, পিংকি ও দ্রুতি খেতে সুস্বাদু, ঝাঁঝবিহীন, আঁশহীন ও সহজেই কাঁচা খাওয়ার উপযোগী। রান্না করে ছাড়াও কাঁচা মুলা খেলে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা মেটানো সহজেই সম্ভব।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, ১০০ গ্রাম মুলাতে রয়েছে খনিজ পদার্থ ০.৯গ্রাম, শর্করা ৬.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ ক্যালরি, ক্যালসিয়াম ৫০ মি. গ্রাম, ফসফরাস ২০ মি. গ্রাম, লৌহ ০.৫ মি. গ্রাম, ক্যারোটিন ৩ মি. গ্রাম, ভিটামিনবি, ০.০৬ মি. গ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ১৭-৩৫ মি. গ্রাম। শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত সবাই ভাতের সঙ্গে মুলার সালাদ অথবা কাঁচা মুলার টুকরো খেলে রুচি ওহজম শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও মুলা কাঁচা অথবা রান্না করে খেতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। উন্নত জাতের মুলা খেতে কিছুটা মিষ্টি, স্বাদযুক্ত ও ঝাঁঝালো গন্ধহীন।
সূত্র - আমারদেশ অনলাইন

