home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

পুষ্টি ও ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ সবজি
২৭ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  vegetable quality  
  Viewed#:   298

vegetables-are-rich-in-nutrientsগাজর
সবজির মধ্যে গাজর অন্যতম প্রধান। গাজর কাঁচা ও বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। গাজরে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন। স্বাভাবিক অবস্থায় কাঁচা খাওয়া ছাড়াও গাজরে তৈরি হয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর নানা ধরনের খাবার। ব্যঞ্জন, সালাদ, স্যুপ, চপ, বড়া, হালুয়া সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে গাজরের ব্যবহার অতুলনীয়। এতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, বি ওসি এবং পর্যাপ্ত খাদ্য শক্তি রয়েছে। আমাদের দেশে প্রচলিত অধিকাংশ শাক সবজি ও ফলমূলের চেয়ে গাজরে ভিটামিন ‘এ’-এর মাত্রা অধিক। শিশুদের রাত কানা রোগ প্রতিরোধ ও শরীরে শক্তি জোগাতে গাজর খাওয়া উচিত। ৪-৬ বছর বয়সের একটি শিশুর দৈনিক ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ খাওয়া প্রয়োজন। অপরদিকে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ খাওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দু’একটি গাজর খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব সহজেই পূরণ হতে পারে।

গাজরের অন্যান্য খাদ্য উপাদান দেহের পুষ্টি জোগাতে ও দেহকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। গাজর অপেক্ষাকৃত দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে স্বল্প আয়ের লোকজন এই সবজিটি ফলের বিকল্প হিসেবে বাড়ন্ত শিশুদের খেতে দিতে পারেন।কাঁচা খেতে সুস্বাদু বলে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন দু-একটি গাজর পরিবারের সবাই খেতে পারেন। গাজর সহজেই হজম হয় এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে গাজর খেতে পারেন।পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে রয়েছে জলীয় অংশ ৮৫.০ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম, আঁশ ১.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৭ কিলোক্যালরি, আমিষ১.২ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা, ১২.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.২ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১০৫২০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ৬মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.০৪ এবং ভিটামিন বি২ ০.০৫ মিলিগ্রাম। গাজর স্বল্পদামে, সহজে পাওয়া যায় বলে ধনী-গরিব সব শ্রেণীর মানুষ খেতে পারেন।

মুলা
মুলা একটি অন্যতম শীতকালীন সবজি। সাধারণত দুই রকমের মুলা আমাদের দেশে বেশি জন্মায়। সাদা মুলা ও লাল মুলা। এটি রূপান্তরিত প্রধান মূল। মুলার মূল, পাতা ও বীজ সবজি হিসেবে তরকারি, সালাদ, ভাজি ছাড়াও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই সবজিটির রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ওষুধি গুণ। মুলাতে রয়েছে সিসটিন সমৃদ্ধ প্রোটিন। মুলার নির্যাস এন্টিইউরোলিথিক। মুলা শীতলকারক, মূত্রকারক ও হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক। যকৃতের প্রদাহ, জন্ডিস ও হিক্কায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। মুলা দেহকে ঠাণ্ডা রাখে। ক্ষুধা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। মুলা রুচিকর, কণ্ঠস্বর উন্নতকারক, গ্যাস, কফ ও পিত্তরোগ নাশক, জ্বর ও শ্বাসরোগে হিতকর। কাঁচা মুলা যকৃতের রোগ, প্লীহা, হিক্কা, অর্শ ও জন্ডিসে উপকারী।

মুলা ছোট-ছোট টুকরা করে এর সঙ্গে অল্প পরিমাণ বিট লবণ ও পুঁদিনা পাতা মিশিয়ে দিনে দু’বার খেলে ৮-১০ দিনের মধ্যে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। যকৃতের প্রদাহ ও জন্ডিসে ১০০ মিলি মুলার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ কালো মেঘের নির্যাস ও অল্প চিনি মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার ২০-২৫ দিন সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়। মূত্র কৃচ্ছ্রতা ও শরীর জ্বালাপোড়ায় ১০০ মিলিমুলার রসের সঙ্গে সম পরিমাণ গুলঞ্চের রস অথবা আরক বাদিয়ান মিশিয়ে দিনে ২/৩বার ২০-২৫ দিন সেবন করলে রোগ থেকে পরিত্রাণ মেলে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণাইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মুলা তাসাকিসান, পিংকি ও দ্রুতি খেতে সুস্বাদু, ঝাঁঝবিহীন, আঁশহীন ও সহজেই কাঁচা খাওয়ার উপযোগী। রান্না করে ছাড়াও কাঁচা মুলা খেলে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা মেটানো সহজেই সম্ভব।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, ১০০ গ্রাম মুলাতে রয়েছে খনিজ পদার্থ ০.৯গ্রাম, শর্করা ৬.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ ক্যালরি, ক্যালসিয়াম ৫০ মি. গ্রাম, ফসফরাস ২০ মি. গ্রাম, লৌহ ০.৫ মি. গ্রাম, ক্যারোটিন ৩ মি. গ্রাম, ভিটামিনবি, ০.০৬ মি. গ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ১৭-৩৫ মি. গ্রাম। শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত সবাই ভাতের সঙ্গে মুলার সালাদ অথবা কাঁচা মুলার টুকরো খেলে রুচি ওহজম শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও মুলা কাঁচা অথবা রান্না করে খেতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। উন্নত জাতের মুলা খেতে কিছুটা মিষ্টি, স্বাদযুক্ত ও ঝাঁঝালো গন্ধহীন।

সূত্র - আমারদেশ অনলাইন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: অতিরিক্ত ঘাম থেকে বাঁচতে হলে…
Previous Health Tips: মায়ের খাবারে শিশুর অ্যালার্জি!

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')