ওবেসিটি বা স্থুলতা আমাদের স্বাভাবিক সুস্থ জীবনের জন্য মারাত্মক বাঁধা।বিশ্ব জুড়ে ওবেসিটি এখন কপালে ভাঁজ ফেলছে সাধারণ মানুষের। সারা পৃথিবী জুড়েই বাড়ছে মোটা মানুষের সংখ্যা। অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতায় বিশেষত ছোট্ট লেছে মেয়ে ও কিশোর-কিশোরীদের অস্বাভাবিক হারে ওজন বৃ দ্ধিহচ্ছে।
ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন ও শরীর মোটা হয়ে পড়ার সমস্যা ডেকে আনছে হাজারও শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, ওবেসিটির ফলে বিশেষ করে কিশোরীদের মধ্যে স্বাভাবিক বয়সের তুলনায় অনেক কম বয়সেই শুরু হয়ে যাচ্ছে ঋতু চক্র।
একাধিক বিশ্বমানের সংস্থার যৌথ গবেষণার মাধ্যমে উঠে এসেছে ওবেসিটির জেরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সমস্ত 'রেসের' কিশোরীদের মধ্যেই কম বয়সের জঃস্বলা হওয়ার সংখ্যা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কিশোরীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এর প্রভাব এতটাই মারাত্মক যে বিজ্ঞানীরা ঋতুচক্রের স্বাভাবিক বয়স ও মেনোপজের স্বাভাবিক বয়স নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন। দ্রুত রজস্বঃলা হওয়ার ফলে কিশোরীদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঠিক ভাবে হচ্ছে না।
তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দিচ্ছে, তৈরি হচ্ছে ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদগ্রস্ততা। সাধারণ আচরণে দেখা দিচ্ছে অস্বাভাবিকতা। পড়াশোনায় অবনতি হচ্ছে। শুধু তাই নয় কিশোরীদের মধ্যে বাড়ছে হাইপার টেনশন। স্তন, ওভারি, অন্ত্রের ক্যানসারের সম্ভাবনাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ওবেসিটি বা স্থুলতা থেকে মুক্তির জন্য বাবা মায়ের দায়িত্ব অনেক বেশি। শিশু বয়স থেকেই সন্তানের খাবারের অভ্যাসের ব্যাপারে বাবা মাকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে।
আধুনিক এবং নাগরিক পরিবেশে এ বিষয়গুলোতে বাবা মায়ের যথেষ্ট যত্ন ও সচেতনতার বিকল্প নাই। শুধু সন্তানের চাহিদাকে বেশি বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে আবেগ নির্ভর হয়ে পড়লেই সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে।
খাদ্য গ্রহণে নিয়মানুবর্তীত সহ নিয়ন্ত্রিত খাবার গ্রহণ, সর্বিযুক্ত খাবার কম গ্রহণ এবং খেলাধুলা ও হালকা ব্যায়ামে অভ্যস্ত করে তুলতে বাবা মাকেই ভূমিকা নিতে হবে।
আবেগ, ভালবাসার সাথে শুধু একটুখানি যত্ন আর স্বাস্থ্য সচেতনাই স্থুলতার মত কঠিন সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র - poriborton.com

