home top banner

Health Tip

মাদকাসক্তির ভয়াবহতা
23 October,13
Tagged In:  drug addiction  
  Viewed#:   121

অ্যালকোহলের মতাদর্শে যারা বিশ্বাসী তারা মনে করেন ক্ষমতালিপ্সাই অ্যালকোহল নেশার কারণ। শৈশব থেকে হীনম্মন্যতা বোধ জন্মায় যদি বাবা-মা অতিরিক্ত শাসন বা চোখে চোখে রাখেন এবং এই ছেলেমেয়েরাই বড় হয়ে এই হীনম্মন্যতা বোধকে কাটিয়ে ওঠার জন্য অ্যালকোহলের নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় ‘হতাশা ব্যঞ্জক উচ্চাকাক্সা’বা অতিরিক্ত ক্ষমতার প্রতি ঝোঁক ছেলে মেয়েদের অ্যালকোহলের নেশার প্রতি আকৃষ্ট করে থাকে। কারণ অ্যালকোহল একটা কিছু পাওয়া গেল বা আমি ক্ষমতাবান এই রকম একটা ভাব বা ধারণা মনে সৃষ্টি করলেও তা সাময়িক। অনেকে মনে করেন যাদের মধ্যে অ্যালকোহলের নেশার প্রবণতা আছে তাদের মানসিক অবস্থা একটু অন্যরকম। এই ছেলে মেয়েদের ব্যক্তিত্বের গঠন কিছুটা অস্বাভাবিক, একে অ্যালকোহলিক পার্সোনালিটি বলা হয়। সাধারণ ভাবে কী দেখে ‘অ্যালকোহলিক পার্সোনালিটি’ চেনা যাবে তা বলা অনেক সময় কঠিন। বিভিন্ন মানসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে বলা হয়। এখন নিয়মিত অ্যালকোহল ব্যবহার করার জন্য, না এই ধরনের ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ছেলেমেয়েরা অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে সঠিক ভাবে বলা কঠিন। Psychoanalytic theory ফ্রয়েডীয় দৃষ্টিকোণ বিচার করলে অ্যালকোহলি জমের কারণ অন্তর্দ্বন্দ্ব। নেশায় আসক্ত অদম্য ইচ্ছা ও আক্রোশ প্রবণতার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব থেকে অ্যালকোহলের নেশার উৎপত্তি। অবদমিত আবেগ, নিরাপত্তা বোধের অভাব, নিজেকে কষ্ট দেয়ার প্রবণতা, নিজেকে শাস্তি দেয়ার প্রবণতা, বাবা-মায়ের প্রতি বিজাতীয় বিদ্বেষ প্রভৃতি নানা কারণের কথা মনে করা হয়। 

নিয়মিত অ্যালকোহল খাওয়া ও ক্রমেই নেশা গ্রস্ত হয়ে পড়ার সাথে প্রতিবর্ত-ক্রিয়া বা রিফেক্স সম্বন্ধ আছে বলে মনে করা হয়। এ সম্বন্ধে Learning I Inforcement theory আছে। অ্যালকোহল সাময়িকভাবে মনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, ভয়, কষ্ট, পারিবারিক সমস্যা, হতাশা দূর করে এবং তার জন্য অনেকে অ্যালকোহল খায় এবং অসুবিধা, কষ্ট, উদ্বেগ ভুলে যেতে চায়। ‘মন’ ভালো করার জন্য তারা ক্রমেই অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়ে। আবার নেশা করার জন্য শাস্তি, যন্ত্রণা নেশা গ্রস্তদের ভোগ করতে হয়। দুর্ভাগ্যের কথা এ অস্বস্তি যন্ত্রণা ভুলতেই আবার অ্যালকোহলের নেশা করে। তারা যন্ত্রণা দুঃখ-কষ্ট ভোলার চেষ্টা করে অ্যালকোহল পান করে, আবার দুঃখ-যন্ত্রণা এই আবর্তের মধ্যে বারবার আসতে থাকে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শারীরিক কারণগুলো পাওয়া যায় অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে। যদিও অনেকটাই পাওয়া যায়নি এবং সে সম্বন্ধে এখনো গবেষণা চলছে প্রতিনিয়তই। 

এন্ডোক্রিন থিওরি : অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তির কারণ হিসেবে শরীরের হরমোন গ্ল্যান্ডের অস্বাভাবিকতার কথা ভাবা হয়। পিটুইটারি গ্ল্যান্ড, অ্যাড্রেনালিন কর্টেক্স প্রভৃতির গণ্ডগোল অ্যালকোহল বেশি খেলে অথবা যারা নিয়মিত অ্যালকোহল খায় তাদের মধ্যে দেখা যায়।

জেনেটোট্রাফিক থিওরি : মেটাবলিজমের জন্মগত ত্রুটির জন্য কিছু মানুষের শরীরে ভিটামিনের চাহিদা বেশি হয়। অ্যালকোহল যারা খায় তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক পুষ্টির চাহিদা দেখা যায় এবং এই চাহিদার জন্যই তারা অ্যালকোহলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। 

জেনিটিক থিওরি : অনেক বৈজ্ঞানিক মনে করেন অ্যালকোহলের নেশা বংশগত। একই পরিবারের অনেকে অ্যালকোহলের নেশা করে থাকে। তার জন্যই পারিবারিক বা বংশগত যোগসূত্রতার কথা অ্যালকোহলের নেশার ক্ষেত্রে ভাবা হয়, যারা নিয়মিত অ্যালকোহলের নেশায় আক্রান্ত তাদের মধ্যে ওপরের কারণগুলোর একটি মাত্র কারণই যে দেখা হয় তা নয়। একের বেশি কারণও থাকতে পারে। নেশাগ্রস্ত ছেলেমেয়েদের কিভাবে চেনা যায় যখন কিশোর-কিশোরী নেশা শুরু করে তখন তাদের প্রথম অবস্থাতেই অনেক সময় ধরা যায় না।

প্রাথমিক অবস্থায় মাদকাসক্ত হওয়ার লক্ষণ ধরা বেশ কঠিন। খুব সতর্ক ও অভিজ্ঞ চোখে এই পরিবর্তন বুঝতে পারা যায়। যেমন মুডের পরিবর্তন, উৎসাহী সতেজ মনের দিনে দিনে নিরুসাহী হয়ে ওঠা, লেখাপড়ায় উৎসাহ না থাকা, কাজকর্মে উৎসাহ না থাকা, সব সময় শুয়ে-বসে থাকা, ঝিমুনি, বেশি ঘুমানো, বেশি রাতে ঘুমাতে যাওয়া, সকালে ঘুম থেকে না ওঠা, অতিরিক্ত অলসতা, কান্তি, বাবা-মাকে এড়িয়ে চলা, বাড়ির লোকজনকে এড়িয়ে চলা, আলাদা থাকতে চাওয়া, বাড়ির বাইরে বেশি সময় কাটানো, বন্ধ ঘরে বেশি সময় একা একা কাটানো, বাথরুমে বেশি সময় পার করা, সবার প্রতি উদাসীন থাকা, বাবা-মায়ের প্রতি উদাসীনতা, টাকা-পয়সার প্রতি ঝোঁক, টাকা চাওয়া, প্রয়োজনে চুরি করা, ছিনতাই করা, মিথ্যা কথা বলা, বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, নিজের যত না নেয়া, অপরিচ্ছন্ন থাকা, অত্যধিক ফ্যাশনেবল হওয়া, চুল এলোমেলো করে রাখা, ঝগড়াঝাটি করা, গালি-গালাজ করা ইত্যাদি। অবশ্য ছেলেমেয়েদের মধ্যে সামান্য অস্বাভাবিকতা বা ওপরে যে উপসর্গ, লক্ষণ বলা হলো তা প্রকাশ পেলেই যে সন্তান নেশা করছে এটাও সব সময় ভাবা ঠিক নয়। মনে সন্দেহ এলে সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে তবেই কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।


সূত্র -দৈনিক নয়া দিগন্ত
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: সাঁতারের কিছু টিপস
Previous Health Tips: বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সমস্যা: প্রথম পর্ব

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')