মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ মাদক ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তবে ভারত, মিয়ানমার এবং পাকিস্তানের মাদক সিজারের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মাদক পরিস্থিতি অতটা ভয়াবহ নয়। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণের মতো বহুমাত্রিক সমস্যা মোকাবিলায় এখনই সেনাবাহিনীর উপর দায়িত্ব দেয়া সমীচীন হবে না। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির একেএম মাইদুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব কথা বলেন। বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মৃত্যু কারোই কাম্য নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব লাশ পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর ব্যাপারে প্রশাসন তদন্ত করছে না এমনটি নয়। আমরা প্রতিটি বিষয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত করে দেখছি এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত। তদন্ত করে অবশ্যই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং হত্যার মোটিভ উদঘাটন করা হবে।
মাদক সংক্রান্ত মূল প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মধ্যবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ মাদক ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আমাদের মাদক সমস্যা প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তিন দিক দিয়ে ভারতের সঙ্গে চার হাজার কিলোমিটার ও দক্ষিণ পূর্ব কোণে মিয়ানমারের সঙ্গে আড়াই শ’ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত আরও একটি ভৌগোলিক নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়াও শহরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ইন্টারনেট ও আইটি’র ব্যাপক উন্নতি ও ব্যবহার, সামাজিক সচেতনতার অভাব ইত্যাদিকে মাদক সমস্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আসাদুজ্জামান বলেন, সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মিলে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৯১ লাখ ৬২ হাজার ৯৩৭ বোতল ফেনসিডিল, এক হাজার ২৩৩ কেজি হেরোইন, এক লাখ ৩৮ হাজার ২১৮ কেজি গাঁজা, নয় লাখ ৭০ হাজার ৮৬৮ এ্যাম্পুল ইনজেক্টিং ড্রাগস, ৮৮ লাখ ৯৮ হাজার ৩০৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩৫৬টি মামলা করে ১৬ হাজার ২৯২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
শামসুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নীতিমালা না থাকায় দেশে পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প স্থাপনের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের জনবল কাঠামো একই ধরনের। আর তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনে নীতিমালাও রয়েছে। এ বিবেচনায় ফাঁড়ির বিকল্প বর্তমানে তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়া গেলে বিবেচনা করা হবে।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

