পবিত্র কোরবানির দিন ঘনিয়ে আসছে দ্রুতই। 'বিরাট গরু ছাগলের হাট' থেকে অনেকে পছন্দের পশুও কিনে ফেলেছেন। শহরের পিচঢালা রাজপথে ঘট ঘট শব্দে হেটে যাচ্ছে গরু-ছাগল।কিন্তু কোরবানির জন্য শুধু যে পশু কিনলেই চলবে, এমনটিও কিন্তু নয়!
পশু জবাই করা থেকে শুরু করে হাড়-মাংস কেটে আলাদা করা। এসব কিছুতে পশু কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দা, বঁটি আর ছুরির দরকার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব অনুষঙ্গ আগেই সঠিক স্থানে সংগ্রহ করে রাখা গেলে পশু কোরবানির ঝামেলা অনেকাংশেই কমে আসবে।
বাজার কথন: বাজার ঘুরে দেখা যায়, কামারপল্লীগুলো খুব ব্যস্ত সময় পার করছে। দগদগে আগুনে গরম লোহায় পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। সেইসাথে রয়েছে হাপরের গোঙানি। তাছাড়া দা বটিতে শান দিতেও কামারশালায় ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। ভ্রাম্যমাণ শান দেওয়ার লোকেরাও ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়।
রাজধানীর খিলগাঁও বাজারের কামারশালায় শান দিতে আসা মাহমুদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বলেন, "আসলে কোরবানি চলে এসেছে।কাল পরশু গরু কিনতে যাব। এ সময় শান দিয়ে রাখা ভাল। সেইসাথে একটা ধারালো চাকুও কেনা প্রয়োজন।"
তবে কোরবানি অনুষঙ্গের রাজধানীর পাইকারি কারওয়ান বাজারের কামারশালাগুলোর ব্যস্ততা এখন সবচেয়ে বেশি। ঈদুল আজহার সময় হাজার হাজার পশু জবাই করা হয়ে থাকে। এসব পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যন্ত দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার আবশ্যকীয় হয়ে যায়।
তাই ঈদের বিপুল চাহিদার জোগান দিতে আরও এক মাস আগে থেকেই অর্ডার ও অর্ডারের বাইরে পুরোদমে কাজ শুরু করে দেন কামাররা।
যেখানে পাবেন : রাজধানীর খিলগাঁও বাজার, কারওয়ান বাজার সংলগ্ন কামারপল্লী, মগবাজার, ডেমরা, ঠাঁটারীবাজার, মহাখালী, জুরাইন, কুড়িল কামারপল্লী থেকে আপনার প্রয়োজনীয় দা, বঁটি, ছুরি সহজেই কিনে বা অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন।
দরদস্তুর:লোহার দা-ছুরি সবসময়ই বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে আকৃতি ও লোহাভেদে দাম ওঠানামা করে। ৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, ছুরি ৩০ থেকে ৩০০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি একেকটি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, লোহা ধার করা স্টিলের দাম পড়বে প্রতিটি ৫০ থেকে ১০০ টাকা।
তবে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হয়। অর্ডার দিয়েও এসব যন্ত্রপাতি বানিয়ে নেওয়া যায়। পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত মজুরি রাখা হয়।
সূত্র - poriborton.com

