ফুসফুসহচ্ছে মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসেরনিশ্চয়তা প্রদান করে এ ফুসফুস। মানুষের শরীরে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি আবারনানা রকম রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ফুসফুসের বিভিন্ন ধরনের ব্যাধিরমধ্যে একটি জটিল ব্যাধি হচ্ছে এমফাইসিমা। এমফাইসিমার ফলে ফুসফুসেমাত্রাতিরিক্ত বাতাস জমা হয়। এটি প্রধানত একটি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। কারণ যখনফুসফুসের ভেতরের দিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাতাস জমা হয় তখন রোগীর বক্ষ, কাশির সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট প্রকোপ আকার দেখা দেয়। এমফাইসিমা একটিকষ্টদায়ক ব্যাধি এ রোগ মানবদেহে একদিনে বাসা বাঁধে না। দীর্ঘ সময় নিয়ে এটিসৃষ্টি হয়। বাড়তি বাতাস জমা হলে ফুসফুস খুব দ্রুত ফুলে উঠে এবং এরঅভ্যন্তরের অংশগুলো অকেজো হয়ে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
কারণ : কেউযদি হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগী হয়ে থাকে, তবে তার এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ারআশঙ্কা থাকে বেশি। ক্রনিক ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত রোগীদেরও ফুসফুসে এমফাইসিমাহতে পারে। কোনো কোনো শ্বাসকষ্টজনিত ব্যাধির কারণেও এমফাইসিমা হতে পারে।ধূমপান হচ্ছে ফুসফুসের সবচেয়ে বড় শত্রু। ধূমপায়ী ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ারসম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। বংশগত কারণেও কেউ কেউ এমফাইসিমাতে আক্রান্ত হয়েথাকেন। বিভিন্ন ধরনের জীবাণু সংক্রমণের কারণেও এ রোগ হতে পারে। পরিবেশদূষণ, গাড়ি ও শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়াও ফুসফুসের এমফাইসিমা সৃষ্টির কারণ।আবার উপরের কারণগুলো ছাড়াও যে কোনো ব্যক্তি এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে।
এমফাইসিমার লক্ষণসমূহ : প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়।
অল্প চলাফেরাতেই শ্বাসটানের উপক্রম হয় এবং দম ফুরিয়ে যায়। শ্বাস নেওয়ার সময় গলার শিরা ভরে যায়।
পেটেএবং পায়ে পানি আসে। লিভারের আকার বৃদ্ধি পায়। কখনো কখনো এ সব রোগীরক্তশূন্যতায় ভোগে। আবার রোগীর দেহ নীলও হয়ে যেতে পারে। বুকের আকৃতিপরিবর্তন হয়ে যায়। রোগী যখন ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে তখন শ্বাসযন্ত্র ওহার্টের অচলতার কারণে হার্ট অ্যাটাক (ফেইলিওর) হতে পারে। ক্রনিকব্রংকাইটিসের কারণে যদি এমফাইসিমা হয়ে থাকে প্রাথমিক অবস্থায় শ্বাসকষ্টেরতীব্রতা দেখা যায় না। কিন্ত পরে আস্তে আস্তে হৃদযন্ত্রের ডান পাশের অংশকার্যক্ষমতা হারিয়ে হার্ট ফেইলিওর হয়ে থাকে।
প্রতিরোধ : এমফাইসিমাসম্পূর্ণ ভালো করার কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞচিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করলে এ ব্যাধিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেহেতু এটিএকটি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ তাই ওষুধের দ্বারা শ্বাসকষ্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখাযায়। শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। ধূমপান পরিহার করতে হবে।রোগী জীবাণুর দ্বারা সংক্রমিত হলে কার্যকরী থাকতে এন্টিবায়োটিক সেবন করতেহবে। বিষাক্ত কালো
ধোঁয়া থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।
সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

