পাশ্চাত্যের তুলনায় এশিয়ার দেশগুলোতে গোশতের ব্যবহার কম হয়। আমাদের দেশে দৈনিক খাদ্য তালিকায় ৭০-৮০ শতাংশ শস্যজাতীয় খাবার থাকে। বাকি অংশ থাকেমাছ বা গোশত। এ দেশে মধ্যবিত্ত মুসলিম সম্প্রদায় কোরবানির ঈদে যতখানি গোশতখেয়ে থাকেন বছরের অন্য সময়টিতে ততখানি খাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।পেট ফাঁপা ও কিডনিতে পাথর হলে গোশত একেবারেই বাদ দেয়া উচিত। বাতের ব্যথা থাকলে মগজ, গুর্দা, কলিজা, সংরক্ষিত গোশত এবং গোশতের সুপ বর্জন করা উচিত।তবে চর্বিবিহীন গোশত খাওয়া যেতে পারে। কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিণ্ডের ব্যাধিতে গোশত যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। লিভার, গলব্লাডার ওপ্যানক্রিয়াসের অসুখে প্রাণিজ চর্বি বাদ দেয়া ভালো।
এক জরিপে দেখা গেছে, গোশত বেশি খাওয়ার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ, ক্যান্সার ও বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অসুখের আধিক্য দেখা যায়। এ কারণে প্রাণিজ আমিষ যত কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল। প্রতিদিন ৯০-১০০ গ্রামের বেশিগোশত না খাওয়াই ভালো। প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, শিম, বাদাম, মটরশুঁটিÑ এগুলো আমিষের বিকল্প হতে পারে। সবজির প্রোটিন হৃৎপিণ্ডের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।
গোশতের প্রোটিন ভাঙার জন্য এনজাইম প্রয়োজন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে pepsin নামক এনজাইম এ জন্য ব্যবহৃত হয়। এটা পাওয়া যায় কাঁচা পেঁপেতে। আমাদেরদেশে কাঁচা পেঁপে, ভিনেগার, জায়ফল, সুপারিÑ এগুলো দিয়ে গোশত নরম করা হয়।অনেক এনজাইমের ক্রিয়া রান্নার সময়ই হয়। সবশেষে বলা যায়, গোশত কোনোঅস্বাস্থ্যকর খাবার নয়। দেহের জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।সুস্বাস্থ্যের জন্য সপ্তাহে এক দিন অথবা দুই দিন গোশত বা রেড মিট খাওয়াযেতে পারে। তবে কোরবানির ঈদের সময় প্রায় প্রতিদিনই গোশত খাওয়া হলেও নিজনিজ স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে গোশত গ্রহণ করা উচিত।
সূত্র - নয়া দিগন্ত

