পঞ্চইন্দ্রিয়ের অন্যতম একটি হচ্ছে কান। কানের মধ্যে পর্দার কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। এই পর্দায় বাতাসের প্রবাহে সৃষ্ট কম্পনে প্রকম্পিত পর্দা মধ্যকর্ণের ছোট ছোট হাড়কে স্বাভাবিক নড়াচড়ায় চালিত করে। ফলে এই মধ্যকর্ণে হাড়ের নড়াচড়া আত্মকর্ণস্থ তরলকে আলোড়িত করে। এই আলোড়ন স্নায়ুকে আলোড়িত করে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। কানের অনেক অসুখ রয়েছে। বিভিন্ন কারণে এসব রোগ হয়। তবে কানের কিছু সমস্যা হঠাৎ করেই হয়। বিশেষত দুর্ঘটনা কিংবা আঘাতের জন্য এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। অনাকাক্সিত এই সমস্যা অনেক সময়ই সৃষ্টি হয় কানের পর্দা ফেটে যাওয়ায়। মারামারি করতে গিয়ে কানে চড়-থাপ্পড়, পড়ে গিয়ে কানে আঘাত ইত্যাদি অনেক কারণে কানের পর্দা হঠাৎ ফাটতে পারে।
যেসব কারণে অথবা আঘাতে কানের পর্দা ফেটে যায়:
কান খোঁচাখুঁচি করতে গিয়ে পর্দায় আঘাত লাগলে।
কানের মধ্যে শস্যদানা বা বিচি কিংবা পুঁতি ইত্যাদি ঢুকে গিয়ে কিংবা ঢুকে যাওয়া এসব জিনিস বের করার সময় আঘাতে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে।
হঠাৎ কানে বাতাসের চাপ, যেমন: বক্সিং, চড়-থাপ্পড়, খুব কাছে বোমা বিস্ফোরণ, বাতাসের চাপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন বিমানে আরোহণ ইত্যাদি।
হঠাৎ বাতাসের চাপ, যেমন: পানিতে ঝাঁপ দেয়া বা ডাইভিং, ওয়াটার পোলো খেলা, কান পরিষ্কার কিংবা অন্য কোনো কাজে সিরিঞ্জ দিয়ে কানে পানি দেয়ার সময় কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে।
মুখ ফুলিয়ে কানে বাতাস দেয়ার সময়।
আঘাতে খুলির তলদেশ ভেঙে গেলে।
বজ্রপাতের কারণে। আঘাতজনিত কারণে পর্দা ফাটলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়
আঘাত পাওয়ার সাথে সাথে কানে ব্যথা।
সেই সাথে কানে কিছু কম শোনা যাবে।
কানে ভন্ ভন্ শব্দ, মাথা ঘোরা। ষ কান দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
কান পর্যবেক্ষণ করলে কানের পর্দা ফাটার বিষয়টি বোঝা যায়। পর্দার ওপরে এবং বহিঃকর্ণের পথে রক্ত দেখা যায়। কানের পর্দার ছেঁড়া অংশ এবড়োথেবড়ো থাকে। চিকিৎসা আঘাতের কারণে কানের পর্দা ফাটলে প্রথমেই যে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে, রোগীর কানে যেন কোনো কিছু না ঢোকে সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। বিশেষ করে এ অবস্থায় কানে কোনো রকম ওষুধও ব্যবহার করা উচিত হবে না।
তবে কানে বাইরের কোনো বস্তু ঢুকলে তা বের করতে হবে। সাধারণত নিরাপদে এটি বের করার জন্য রোগীকে অজ্ঞান করার দরকার পড়ে। কানের ভেতর থেকে বাইরের বস্তু বের করার পর কানটি পর্যবেক্ষণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
কানে যেন পানি না ঢোকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এমনকি এই অবস্থায় কান পরিষ্কার করাও নিষেধ। ইনফেকশন প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের দরকার হতে পারে। সেই সাথে সর্দি-কাশি যেন না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সর্দি-কাশি হলে ফেটে যাওয়া পর্দা জোড়া লাগার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
এ ছাড়া গোসলের সময় তেলে ভেজানো তুলো চিপে কানে দিয়ে কিংবা কানে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করতে হবে। শেষ কথা : আক্রোশের বশে কাউকে আঘাত করে অঙ্গহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কানের পর্দা ফেটে যাওয়া অনেকটা অঙ্গহানিরই শামিল। ফেটে যাওয়া কানের পর্দা জোড়া না লাগলে কান দিয়ে মাঝে মধ্যে পুঁজ-পানি ঝরতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে রোগী কম শুনতে পারে। তাই কেনোভাবেই কাউকে কানে আঘাত করা উচিত নয়।
সূত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

