দুই কারণে ডায়াবেটিস হয়। একটা হলো জিনগত কারণ অপরটি পরিবেশগত। বাবা-মার ডায়াবেটিস থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার, চর্বিজাতীয় খাবার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। স্থূলতা ডায়াবেটিসের একটি বড় কারণ, কিছু কিছু রোগের কারণেও ডায়াবেটিস হয়। যেমন- অগ্নাশয়ের প্রদাহ।
ডায়াবেটিসের পর্যায় টাইপ-১ ডায়াবেটিস, টাইপ-২ ডায়াবেটিস। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি না হলে যেটা হয় তাকে বলি টাইপ-১ ডায়াবেটিস। আর ইনসুলিনের প্রতি কোষের সংবেদনশীলতা কমে গিয়ে যে ডায়াবেটিস হয় তাকে বলি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, টাইপ-১ ডায়াবেটিস মূলত অল্প বয়স্কদের হয়। টাইপি-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে। বাচ্চাদেরও এ রোগ হতে পারে। তবে চলি্লশোধর্ে্বর মধ্যে এ রোগের প্রবণতা শতকরা ৭০ ভাগ। আরেক ধরনের ডায়াবেটিস আছে। একে বলে গেসেল্টশনাল ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। যখন কোনো মায়ের গর্ভাবস্থায় প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তখন তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ২৫-৫০ শতাংশ রোগী পরবর্তী সময় স্থায়ীভাবে টাইপ-২-এ আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা: সচেতনতা এবং সুশৃঙ্খল জীবনাচারই ডায়াবেটিসের প্রধান চিকিৎসা। খাবার দাবারে নিয়ম মেনে চলতে হবে। মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। শাক-সবজি এবং অাঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে। ধূমপান অ্যালকোহল একদমই না। ভাত খাবেন খুবই কম। রুটির অভ্যাস করলে ভালো। দৈনিক ক্যালরি হিসাব করে খাবার খেতে হবে। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হলো কায়িক শ্রম। দৈনিক হাঁটুন খোলা ময়দানে বা পার্কে। সাইকেল চালান, সাঁতার কাটুন কিংবা সিঁড়ি ভাঙুন। রক্তের গ্লুকোজগুলোকে পোড়াতে হবে কাজের মাধ্যমে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে হবে। খাওয়ার ওষুধ বা ইনসুলিন যাই হোক চিকিৎসা নিয়মিত চালাবেন। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকলে শরীরের সব অঙ্গই ঠিক থাকবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণযোগ্য, নিরাময়যোগ্য নয়। নিয়ম মানলে একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সূত্র - যায়যায়দিন

