সমস্যাটা খুবই পরিচিত। বেশির ভাগ লোককেই কমবেশি এ সমস্যায় পড়তে হয়। ভুক্তভোগীরা প্রায়ই বুক জ্বালার কথা বলেন। অনেকে খাওয়ার পর ঢেঁকুর তোলেন, কখনো কখনো মুখ দিয়ে টক পানি আসে, কখনো কখনো পেটের উপরিভাগে ব্যথাও হয়। তবে বুকের নিচের অংশেও ব্যথা থাকতে পারে, যার সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক থাকতেই হবে এমন কথা নেই। আবার কারো কারো অরুচি, বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতেও পারে, পেটে গ্যাস জমে কখনো কখনো পায়ুপথে নির্গত হয়_ এ সমস্যাগুলো ডিসপেপসিয়া বা একক বা সমষ্টিগত উপসর্গের সমন্বয়ে হয়ে থাকে।
বেশ কিছু কারণে এ ডিসপেপসিয়া হয়। যেমন- পাকস্থলীর ক্ষত বা পেপটিক আলসার, পিত্তথলিতে পাথর, আইবিএস (খাদ্যনালিতে খাবার সহ্য না হওয়ার সমস্যা), অগ্নাশয়ের ক্যান্সার, অগ্নাশয়ের পুরনো প্রদাহ, যকৃতে প্রদাহ, যকৃতে ক্যান্সার, অন্ধ্রে ক্যান্সার, মায়োকার্ডিয়াল ইসকেমিয়া (হৃদপি-ের মাংসপেশিতে রক্তপ্রবাহে স্বল্পতা), দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কের নিষ্ক্রিয়তা (ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর) ইত্যাদি। কিছু কিছু ওষুধের কারণ হতে পারে, যেমন এনএসএআইডি (প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর ওষুধ) কর্টিকো, স্টেরয়েড, ডিসক্সিন, আয়রন এবং পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট। এয়াড়া মদ পান করলে, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ডিসপেপসিয়া হয়ে থাকে। খুবই সতর্ক থাকতে হবে যদি এসব কারণের সঙ্গে শরীরের ওজন কমতে থাকে, রক্তশূন্যতা দেখা দেয় ও ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়, রক্ত বমি হয়, কালো পায়খানা হয় কিংবা উভয়ই হতে থাকে এবং পেটে কোনো চাকা অনুভূত হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শমতো যার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য সেই অনুযায়ী পরীক্ষা করতে হবে। যেমন- এন্ডোস্কোপি, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, বুকের এক্স-রে, রক্তের ইফরিয়ার পরিমাণ নিরূপণ, ইলেকট্রোলাইট, যকৃত ক্রিয়ার পরীক্ষা (লিভার ফাংশন টেস্ট) ইত্যাদি। রোগের কারণ নির্ণয়ের পর নিয়মমাফিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। যার ক্ষেত্রে যে খাবার থেকে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে তা খাওয়া অনুচিত। খুব বেশি পরিমাণ খাওয়াও ঠিক হবে না।
সূত্র - যায়যায়দিন

