ইফতার বা সেহরিতে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া সবচেয়ে ভালো। দোকানের ভাজিজাতীয় খাবার বদহজম,
পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। রোজা রাখার পর শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সুষম খাবার খেতে হবে।
শর্করা, আমিষ ও চর্বিজাতীয় খাবার পরিমিত সংমিশ্রণে সেহরি, ইফতার ও রাতের খাবার খেতে হবে।
বিশুদ্ধ পানি পানের ভূমিকা সবারই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত দুই থেকে
আড়াই লিটার পানি পান করা উচিত।
ইফতার
পরিশোধিত শর্করা দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং রক্তে দ্রুত গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরকে চাঙ্গা
করে তোলে, এ ধরনের খাবার হজমে সময় নেয় ৩-৪ ঘণ্টা। তাই এ ধরনের খাবার ইফতারে গ্রহণ করা
উচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে 'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রমাদান ফাস্টিং রিসার্চ' জার্নালে। দ্রুত
হজম হয় এ ধরনের শর্করাজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে রিফাইন্ড ময়দা ও চিনিজাতীয় খাবার। খেজুর
হতে পারে ইফতারের একটি অন্যতম খাবার। খেজুর হচ্ছে চিনি, তন্তু বা ফাইবার, শর্করা, পটাশিয়াম
এবং ম্যাগনেসিয়াম উৎস। ইফতারে ২-৩টা খেজুরই শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে দিতে পারে তবে সঙ্গে পানি
পান করতে হবে প্রচুর পরিমাণে। ঠা-া পানি বা লেবুর রস দিয়ে শরবত করা ভালো। শরবত তৈরির
গুঁড়াজাতীয় জিনিস বা তরল ও রঙিন বোতলের উপাদান দিয়ে শরবত বানিয়ে পান না করাই ভালো,
ভেজা চিড়া ও সামান্য চিনি মিশিয়ে পানি দিয়ে শরবতও খাওয়া যেতে পারে। বেল বা দই দিয়ে তৈরি
শরবতও শরীরের জন উপকারী, শরবতে চিনি বেশি দেবেন না। ডাবের পানি পান করতে পারলে ভালো।
যে কোনো ফল ইতফতারির জন্য উপকারী। মাঝেমধ্যে ফলের রস পান করতে পারেন, তবে বাজারে
পাওয়া রস কম পান করতে পারেন, তবে বাজারে পাওয়া রস কম পান করা উচিত। ইফতারে কাঁচা ছোলা
অনেকেই পছন্দ করে। ছোলাগুলো চার-পাঁচ ঘণ্টা ভিজিয়ে খোসাসহ বা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া যেতে
পারে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা খোসাসহ খেলে উপকার পাবেন, সঙ্গে ইসবগুলের ভুসির শরবত
খাবেন। যারা ডায়াবেটিসের রোগী তারা ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাবেন না, শরবতের বদলে পাতলা
দুধ বা পরিমিত ডাবের পানি ভালো; এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া ভালো। যাদের
পেপটিক আলসার আছে তারা একেবারে পেট ভরে খাবেন না, পরিমাণে একটু কম খাবেন।
সেহরি
রোজায় দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতে হয় বলে সেহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা জটিল শর্করা
গ্রহণ করা উচিত। এ জটিল শর্করা ধীরগতিতে হজম হয় এবং হজম হতে প্রায় ৮ ঘণ্টা লাগে। ফলে
দিনের বেলায় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়। জটিল শর্করাজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে শস্যদানা বা বীজজাতীয়
খাবার, অপরিশোধিত বা নন-রিফাইন্ড আটা, ময়দা এবং ঢেঁকিছাঁটা চাল। সেহরিতে ভাত বা রুটি, সঙ্গে
মাছ বা মাংস এবং কিছুটা সবজি খাওয়া ভালো। রান্না করা ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস্য। ডালেও
প্রচুর প্রোটিন আছে। ঘন করে ডাল রান্নার সঙ্গে রুটি ও এক কাপ দুধও স্বাস্থ্যসম্মত, সঙ্গে শুধু
কিছুটা সালাদ অর্থাৎ শসা, টমেটো, গাজর থাকলে ভালো। আর পানি বেশি করে পান করতে হবে, দেহের
কোষগুলোর সঠিক কার্যাবলীর জন্য।
সূত্র - যায়যায়দিন

