ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার, শ্বাসকষ্ট, হূদেরাগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদিতে
ভুগছেন এবং একাধিকবার বিভিন্ন ওষুধ সেবন করছেন, এমন রোগীরা রমজান মাসে সমস্যায় পড়েন। নতুন
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে তাঁদের ওষুধের সময়সূচিও পরিবর্তন করতে হয়।
পেপটিক আলসার
অনেকের ধারণা, পেপটিক আলসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘন ঘন খেতে হবে, পেট খালি রাখা যাবে না। তাই
হয়তো রোজা আলসারের ক্ষতি করে এবং অম্লতার মাত্রা বাড়ায়। আসলে তা ঠিক নয়। আলসারে পরিহার করা
উচিত তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, বাসি ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার। তা ছাড়া ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া করলে অম্লতার মাত্রা কমে যাবে। প্রয়োজনে ইফতার ও সেহিরর সময়
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করুন। যে খাবারে অম্লতা বাড়ে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
হূদেরাগ ও উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা সকালের ওষুধ সন্ধ্যায় বা রাতের ওষুধ সেহিরতে সেবন করতে পারেন। অতিরিক্ত
লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। তাই এ সময় বেশি লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। হূদেরাগীদের ক্ষেত্রে মাংস, কাবাব,
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ভাজাপোড়া খাবার রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যথাসম্ভব
ভাজাপোড়া কম খেয়ে আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন।
হাঁপানি
রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। মুখে খাওয়ার
ওষুধ রাতে একবার বা দুবার খেয়ে নিতে পারেন।
স্তন্যদানকারী মা
স্তন্যদানকারী নারী যদি রোজা রাখতে চান, তবে সন্ধ্যার পর প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে।
সেই সঙ্গে আমিষের পরিমাণ ঠিক রাখুন। সঠিক পরিমাণ আমিষ পেতে ইফতার ও সেহিরতে মাংস, মাছ, ডাল ইত্যাদি
উপাদান রাখুন। প্রতিদিন দু-তিন কাপ দুধ পান করুন। রাতে প্রতিদিন ফল খান।
কোষ্ঠকাঠিন্য
রোজা রেখে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যায়। এ থেকে রেহাই পেতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। আঁশযুক্ত
খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, সালাদ প্রতিদিনের খাবারে রাখতে হবে। ইসবগুলের ভুসি ইফতারে শরবত করে খেতে
পারেন।
সূত্র - প্রথম আলো

