শুরুহয়ে গেল বহুপ্রতীক্ষিত রমজান মাস। সিয়াম সাধনার এই মাসটি আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্ত বহন
করে। বছর ঘুরে এবারে রমজান মাস শুরুহল জুলাই মাসে। বর্ষাকাল হলেও দিনের বেশিরভাগ সময়ই থাকে
প্রচণ্ড গরম এবং এই সময়ের রোজাও অনেক দীর্ঘ। তাই এই মাসে আমাদের স্বাস্থ্যের
প্রতিও যত্নবান হওয়া অনেক জরুরি। নিম্নে রমজান মাসের সুস্থতার জন্য কিছু সহজ টিপস
উল্লেখ করা হল-
• যাদের শারীরিক কোন অসুস্থতা আছে যেমন - ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার ইত্যাদি তাদের রমজান
মাস শুরুহওয়ার পূর্বেই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ। শারীরিক অবস্থা বুঝে তবেই
তাদের রোজা রাখা উচিৎ।
• যারা শারীরিক ভাবে সুস্থ তাদেরও উচিৎ রমজান মাসের প্রতিদিনকার কাজকর্ম একটি
নির্দিষ্ট ছকে বেধে ফেলা। রোজা রেখে হঠাৎ করে বেশি কাজ করা উচিৎ নয়।
• ফজরের আজানের ঠিক পূর্বেই সেহরি খান। অনেকেই রাতে দেরি করে ঘুমান এবং রাতের খাওয়ার
উপরই রোজা রাখেন। এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এত লম্বা সময় খাবার
পানি না খেয়ে থাকলে শরীর অতি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া ফজরের একটুআগে সেহরি
খেলে আপনার ফজরের নামাজের জন্যও আলাদাভাবে ঘুম থেকে উঠতে হবেনা।
• অনেকক্ষন না খেয়ে থাকতে হবে ভেবে সেহরির সময় বেশি খাবেন না। গরুর মাংস, খাসির মাংস
ইত্যাদি ফ্যাটি খাবার না খেয়ে সেহরিতে হালকা কিন্তুপুষ্টিকর খাবার খান। ভাত, রুটি, সবজি,
মাছ, ডাল ইত্যাদি শর্করা, প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে আপনার সেহরির মেন্যু
তৈরি করুন।
• সেহরি এবং ইফতার দুই বেলাতেই প্রচুর পরিমাণ পানি পানের কোন বিকল্প নেই। সেহরিতে খাবার
পর অন্তত ২ থেকে ৩ গ্লাস পানি খান।
• রোজা রাখলে রক্তের গ্লুকোজ দ্রুত কমে আসে। তাই রমজান মাসে সেহরি এবং ইফতারে তাজা
ফলের জুস অথবা ফলের রস রাখুন। জুস অথবা ফলের রসে বাড়তি চিনি যোগ না করে সরাসরি
তাজা ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করুন।
• দিনের বেলায় রোজা রেখে রোদে ঘুরাঘুরি করবেন না। যথাসম্ভব ঠাণ্ডা এবং ছায়া আছে এমন
জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন। তাছাড়া রোজা রেখে হঠাৎ কোন কায়িক পরিশ্রম করবেন না।
• দিনের বেলায় নিয়মমতো নির্দিষ্ট একটি সময়ে বিশ্রাম নিন।
• ইফতারের সময় সরাসরি ভারী খাবার খাবেন না। ইসলামের সুন্নাহ মেনে চলুন এবং ১ টা খেজুর
অথবা দুধ/পানি বা ফলের রস দিয়ে ইফতার শুরুকরুন। হালকা কিছুখেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায়
করুন। নামাজ পড়ে ধীরে সুস্থে ইফতার করুন।
• রাতে শোবার আগে হালকা খাবার দিয়ে ডিনার করতে পারেন। অল্প ভাতের সাথে ডাল
অথবা রুটির সাথে সবজি দিয়ে ডিনার সারতে পারেন এবং শোবার আগে কয়েক গ্লাস
পানি খেয়ে ঘুমান।
• সেহরি এবং ইফতারে বেশি চা কফি ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খাবেন না। ক্যাফেইন এবং সোডা
জাতীয় পানীয় বর্জন করার উৎকৃষ্ট সময়ই হল রমজান মাস।
• ইফতারের টেবিল সাজান হরেক রকম ফল এবং ফলের রস দিয়ে। ভারী এবং তেলযুক্ত খাবার
যথাসম্ভাব এড়িয়ে চলুন।
• রোজা রাখার কারণে কায়িক পরিশ্রম একদম এড়িয়ে চলাও ঠিক নয়। ইফতারের পর কিছুক্ষণ
বিশ্রাম নিয়ে ১৫-২০ মিনিটের জন্য হালকা ব্যয়াম অথবা হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
• অতিরিক্ত মসলা এবং তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব খাবারে বুক ও পেট জ্বালাপোড়া
করতে পারে। তাছাড়া এসব খাবার বেশি খেলে বদহজমও হতে পারে।
• ধূমপানের মত কুঅভ্যাসের কারণে রোজা রাখা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন না। নানা রকম ওষুধ
সেবন, ধূমপান ইত্যাদি পরিত্যাগ করার শ্রেষ্ঠ সময়ই হল রমজান মাস। তাই এই রহমতের
মাসটিকে কাজে লাগান।
সূত্র - ইন্টারনেট

