home top banner

Health Tip

ডায়াবেটিস হলে রোজা কি রাখবেন?
10 July,13
  Viewed#:   244

হঠাত্ই ধরা পড়ল ডায়াবেটিস। সামনে রোজা। ভাবছেন, তাহলে কি রোজা রাখা যাবে না?

সব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে ডায়াবেটিসের রোগীরা এ সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন মেনে চলবেন। পবিত্র রমজানে স্বাভাবিক ভাবেই পরিবর্তিত হবে ওষুধ বা ইনসুলিনের সময় সূচি ও মাত্রা। এ সময় ক্যালরি এবং ওষুধের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে।তাই রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাত্ কমে বা বেড়ে যেতে পারে। এজন্য রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য ডায়াবেটিসের রোগীদের দরকার প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ। এ সময় খাদ্য গ্রহণ, ব্যায়াম ও ওষুধের পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন ও আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেক রোগী তাঁর রক্তে শর্করার পরিমাণ, ডায়াবেটিস জনিত জটিলতার মাত্রা ইত্যাদি বিবেচনা করে নতুন নিয়ম সূচির জন্য আগে থেকেই পরামর্শ করে নেবেন।

রোজায় ডায়াবেটিসের রোগীরা কী করবেন প্রথম প্রস্তুতি হিসেবে জেনে নেওয়া উচিত যে আপনার শরীর রোজা রাখার জন্য উপযুক্ত কি না। যদি শর্করার মাত্রা খুবই অনিয়ন্ত্রিত থাকে, অর্থাত্ গত তিন মাসের মধ্যে মারাত্মক শর্করা স্বল্পতা বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া, শর্করার মারাত্মক আধিক্য বা কিটোঅ্যাসিডোসিস, হাইপার অসমোলার কোমা হওয়ার ইতিহাস থাকে, কিংবা শর্করাস্বল্পতার উপসর্গ সহজে টের পান না, তাহলে রোজা রাখা ঠিক নয়।

ডায়াবেটিস ছাড়াও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা যেমন হূদেরাগ, কিডনি ও যকৃতের সমস্যা, সংক্রমণ ইত্যাদিতে আক্রান্ত হন, তবে আপনার রোজা না রাখাই উচিত। এই তালিকায় টাইপ ১ ডায়াবেটিস, গর্ভবতী ডায়াবেটিস রোগী ও যাঁরা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তাঁরাও পড়বেন। অন্যদের মধ্যে যাঁরা কেবল খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমেই শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বা মেটফরমিন, ডিপিপি ৪ ইনহিবিটর বাগ্লিটাজন শ্রেণীর ওষুধ খান, তাঁরা বেশ নিরাপদ। আর যাঁরা ইনসুলিন বাসালফোনিলইউরিয়া ওষুধ ব্যবহার করেন, তাঁদের কিছুটা ঝুঁকি আছে। তাঁদের অবশ্যই নতুন করে ওষুধের মাত্রা ও সময় জেনে নিতে হবে।খাবার ও ব্যায়াম রমজান মাসে আপনার ক্যালরির চাহিদা আগের মতোই থাকবে। কেবল খাদ্য উপাদান ও সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

এ সময় পানিশূন্যতার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সন্ধ্যারপর পর্যাপ্ত পানি, লেবু পানি, ডাবের পানি ও অন্যান্য চিনিবিহীন পানীয় গ্রহণকরে দৈনিক পানির চাহিদা পূরণ করতে হবে। ইফতারে একসঙ্গে অনেক না খেয়ে ধাপে ধাপে ভাগ করে খাবার খান। এতে হঠাত্ রক্তে শর্করা বাড়ার প্রবণতা কম হবে। সহজ শর্করা যেমন শরবত, মিষ্টি, জিলাপি ইত্যাদির পরিবর্তে জটিল শর্করা যেমন গম, চাল, ভুট্টা ও ডালের তৈরি খাবার বেছে নিন। প্রচুর তেল ও চর্বি যুক্ত ভাজা-পোড়া খাবার যেমন সমুচা, শিঙাড়া, কাবাব ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে আঁশযুক্ত খাবার যেমন কাঁচা ছোলা, কম তেল দিয়ে ছোলা ভাজা বা ছোলা, মটর বা ডাবরি তৈরি খাবার, চটপটি, চিড়া-দই, মুড়ি ও সালাদ খেতে পারেন। ইফতারে বা তার পর একটি বা দুটি ফল খেতে পারেন।

সেহির অবশ্যই খেতে হবে এবং তা যথাসম্ভব দেরি করে খাবেন। সেহিরতে জটিল শর্করা বেশি রাখবেন। রোজা রেখে দিনের বেলায় ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি না করাই ভালো।রোজায় ওষুধ ও ইনসুলিন রোজায় খাবারের সময়সূচি পরিবর্তনের সঙ্গে ওষুধ এবং ইনসুলিনের সময় ও মাত্রা অবশ্যই পরিবর্তিত হবে। সহজভাবে সকালের ওষুধ বা ইনসুলিন পূর্ণ মাত্রায় সন্ধ্যাবেলা ও রাতের ওষুধ বা ইনসুলিন অর্ধেক মাত্রায় শেষ রাতে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে। তাই নিজেনিজে পরিবর্তন না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

রক্তে শর্করাস্বল্পতার আশঙ্কা থাকলে দীর্ঘমেয়াদি সালফোনিল ইউরিয়ার পরিবর্তে স্বল্প মাত্রার অন্য ওষুধ ও সাধারণ ইনসুলিনের পরিবর্তে আধুনিক অ্যানালগইনসুলিন ব্যবহার করতে পারেন।বিপদকে চিনে নিন গবেষণায় দেখা গেছে, রমজান মাসে টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগীর রক্তে শর্করা স্বল্পতার ঝুঁকি প্রায় ৪ দশমিক ৭ ও ৭ দশমিক ৫ গুণ এবং শর্করার আধিক্যের ঝুঁকি ৩ ও ৫ গুণ বেড়ে যায়।

রমজান মাসে গ্লুকোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে রক্তে শর্করা মাপলে রোজা ভাঙে না, তা ইসলামি চিন্তাবিদেরা আগেই রায় দিয়েছেন। তাই বিপদ এড়াতে দিনের বিভিন্ন সময় রক্তে শর্করা মাপুন। যদি দুপুর ১২ টার আগেই বা দিনের যেকোনো সময় রক্তে শর্করা ৪ মিলিমোলের নিচে বা ১৬ দশমিক ৭ মিলিমোলের ওপরে থাকে, তবে বিপদ হতে পারে। তখন রোজা না রাখাই ভালো।রমজান মাসেও শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন।

 

 

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: রমজান মাসের জন্য স্বাস্থ্যকর কিছুটিপস
Previous Health Tips: বাদলা দিনে বাইরে গেলে

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')