উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই রয়েছে নানা প্রশ্ন, নানা ভাবনা৷ এমনকি আছে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও৷ আসুন জেনে নিই, এ নিয়ে সাধারণ কিছু বিষয়৷
ওপরেরটা বেশি, না িনচেরটা?
অনেকেই চিকিৎসককে এই প্রশ্নটা করেন, আমার রক্তচাপ ওপরেরটা বেশি, না িনচেরটা? অনেকের ধারণা, ওপরেরটা বেশি থাকলে সমস্যা নেই, িনচেরটা বাড়লেই ওষুধ খেতে হয়৷ মূল কথা হলো, রক্তচাপ মাপকযন্ত্রে আপনাকে দুটি পাঠ দেয়—সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক৷ প্রতিবার হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে রক্ত যে চাপ নিয়ে রক্তনালিতে প্রবাহিত হয়, তা হলো সিস্টোলিক রক্তচাপ৷ আর দুটো হৃৎস্পন্দনের মাঝে বিশ্রামের সময় যে রক্তচাপ তৈরি হয়, রক্তনালিতে তা হলো ডায়াস্টোলিক চাপ৷ গবেষণা বলছে, সিস্টোলিক বা ডায়াস্টোলিক যেকোনো রক্তচাপই অস্বাভাবিক থাকলে সমস্যা হতে পারে৷ তাই দুটো রক্তচাপই সমান গুরুত্বপূর্ণ৷
রক্তচাপ বাড়লেও কোনো সমস্যা হয় না
রক্তচাপ মাপকযন্ত্রে রক্তচাপ অস্বাভাবিক আসছে, কিন্তু আপনার হয়তো কোনো উপসর্গ নেই৷ মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা বা মাথা ঘোরা, খারাপ লাগা—কিছুই নেই৷ তবু কেন ওষুধ খেতে হবে? সত্যি বলতে িক, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপ কোনো উপসর্গ তৈরি করে না৷ কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ নীরবে হৃদ্যন্ত্র, কিডিন, চোখের ক্ষতি করে৷ বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতের প্রধানতম কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ৷ এসব জটিলতা এড়ানোর জন্যই লক্ষণ না থাকলেও চিকিৎসা নিতে হবে৷
বয়সের সঙ্গে রক্তচাপ বাড়তেই পারে
বয়স হলে রক্তচাপ একটু বেশি থাকে, এটাই স্বাভাবিক৷ চট করে ওষুধ দরকার নেই৷ তা ছাড়া ওষুধ একবার শুরু করলে আর ছাড়া যাবে না, তাই না খাওয়াই ভালো—এসব গুরুতর ভুল ধারণা৷ মনে রাখবেন, বয়স বাড়লেই কিন্তু হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে৷ তাই বয়স বাড়তে থাকলেই নিজের রক্তচাপ, রক্তের শর্করা বা রক্তের চর্বি নিয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে৷ আর জীবনসংহারী জটিলতাগুলো এড়াতে দু-একটা ওষুধ সারা জীবন খেতে হলে খাবেনই তো৷
ডিম, দুধ আর খাওয়া যাবে না
ডিমের কুসুম, পূর্ণ ননিযুক্ত দুধ, ননিযুক্ত পনির, মাখন ইত্যাদি রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল বাড়ায় বলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের খেতে মানা৷ কিন্তু ডিম, দুধের সঙ্গে রক্তচাপের কোনো সম্পর্ক নেই। ডিমের সাদা অংশ বা সরবিহীন দুধ রোজই খেতে পারবেন৷ রক্তচাপ কমাতে বা এড়াতে আলগা লবণ বা ভাজা লবণ কোনোটা খাওয়া চলবে না৷ প্যাকেটজাত খাবার, সস, মেয়োনেজ, প্যাকেটজাত স্যুপ, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতেও রয়েছে প্রচুর লবণ৷ এগুলোও এড়াতে হবে৷
অমুকের রক্তচাপ এই ওষুধে কমে গেছে
বন্ধু বা স্বজন কেউ অমুক ওষুধ খেয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে বলে ওই ওষুধ আপনার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, এমন কোনো কথা নেই৷ কোন ওষুধ আপনার জন্য প্রযোজ্য, তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে৷ আনুষঙ্গিক হাঁপানি, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সে অনুযায়ী আপনার ওষুধের ধরনও যাবে বদলে৷ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা আছে৷ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই তাই ওষুধ নির্বাচন করতে হবে৷ আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ আপনার জীবনাচরণের ওপরও অনেকটাই নির্ভর করে৷ ওজন কমান, লবণ, অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করুন, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, মানসিক চাপ কমান৷
সূত্র - প্রথম আলো

