home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

শিশুর মূত্রনালীর সংক্রমণ
২৭ মার্চ, ১৪
Tagged In:  child care  children urinary infection  
  Viewed#:   116

children-Urinary-tract-infectionপ্রায়ই শিশুদের মূত্রনালীর সংক্রমণ হয়ে থাকে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১১ বছরের কম বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগের হার যথাক্রমে শতকরা ১.১ ও ৩ ভাগ। তার মধ্যে ৪০ শতাংশের মূত্রনালীর সংক্রমণ বারবার হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগের সঠিক চিকিৎসা অবহেলিত হয়। ফলে বারবার সংক্রমণে শিশুর ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে এবং কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতএব শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য মূত্রনালীর সংক্রমণ হওয়ার সাথে সাথে এর সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অতি জরুরি। 

 
মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গগুলো :
রোগীর বয়স ও মূত্রনালীর উপরিভাগ অথবা নিম্নভাগ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন মূত্রনালীর উপরিভাগের সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে ওপর পেটে অথবা পেটের পেছন দিকে ব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া করা এবং ওজনে বৃদ্ধি না হওয়া প্রভৃতি। মূত্রনালীর নিম্নভাগের সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া করা, ঘন ঘন প্রসাব ইত্যাদি। আবার বয়স অনুযায়ী লক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে; যেমন : নবজাতকের মূত্রনালীর সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে কম আহার গ্রহণ, ওজন বৃদ্ধি না হওয়া, বমি, জন্ডিস ও ডায়রিয়া। এ বয়সের শিশুদের জ্বর নাও হতে পারে। অন্য দিকে এক মাস থেকে এক বছর বয়সের শিশুদের মূত্রনালীর সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে জ্বর, প্রস্রাব করার সময় কান্নাকাটি করা, ওজনে বৃদ্ধি না হওয়া, ডায়রিয়া, বমি, ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব এবং সরু নালীর প্রস্রাব প্রভৃতি।

এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মূত্রনালীর সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, পেটে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া করা, বিছানায় প্রস্রাব করা, ওজনে বৃদ্ধি না হওয়া এবং জ্বরের সাথে খিঁচুনি অন্যতম। যেহেতু এক বছরের নিচে বয়সের শিশুদের সংক্রমণের লক্ষণগুলো অন্য বয়সের শিশুদের মতো নয়, তাই এ বয়সের শিশুদের যেকোনো অসুস্থার সময় প্রস্রাব পরীক্ষা করা দেখতে হয় সংক্রমণ হয়েছে কি না, হলে শিশু কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে অতিসত্বর এর চিকিৎসা প্রয়োজন। কারণ শিশুদের কিডনিগুলো সংক্রমণজনিত কারণে সহজেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো কারণেই সন্দেহ হওয়ামাত্রই প্রস্রাব পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। প্রস্রাব পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় সংক্রমণ হয়েছে, তবে উপযুক্ত জীবাণুনাশক ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। আরো অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হয় শিশুর কিডনি ও মূত্রনালীর গঠনগত ত্রুটি আছে কি না এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।

এসব ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা এবং কিডনি ও মূত্রনালীর শারীরিক গঠন বিভিন্ন ধরনের এক্সরে দিয়ে পরীক্ষা করা প্রয়োজন এবং তা অবশ্যই করণীয়। এ ধরনের অসুস্থতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অপরিহার্য। প্রস্রাব করার পরও মূত্রনালীতে কিছু পরিমাণ প্রস্রাব জমে থাকা, প্রস্রাব আটকিয়ে রাখা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের পর মলদ্বার ঠিকমতো পরিষ্কার না করা, সংক্রমণের অসম্পূর্ণ চিকিৎসা ইত্যাদি কারণে বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে। অতএব প্রস্রাবে সংক্রমণ এড়াতে হলে ওপরের বিষয়ের যথাযথ চিকিৎসা এবং শিশুকে মলমূত্র ত্যাগ সম্পর্কে স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা দেয়া দরকার। 

যেসব শিশুর প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়, তাদের প্রস্রাব অন্তত প্রতি তিন মাসে একবার পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি বারবার সংক্রমণ হয়, তা হলে স্বল্পমাত্রার উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে শিশু ভবিষ্যতে কিডনির মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। মনে রাখা দরকার, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের সঠিক চিকিৎসার অভাবেই কিডনির কার্যকারিতার ব্যাঘাত ঘটে এবং তা পরিলক্ষিত হয় যখন শিশুটির পরিণত বয়স্ক যুবক অথবা দেশের একজন সুনাগরিক।

সূত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জেনে নিনি চা সম্পর্কে নানা তথ্য
Previous Health Tips: অনিদ্রা দূর করার ৫টি টিপস

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')