সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার উদাসীনতায় রাজধানীর অলিগলি ও বিপণি বিতানের সামনে বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো মৌসুমি ফলের বেচা-বিক্রি
বেড়েছে। এসব বিষমিশ্রিত ফল খেয়ে মানবদেহে দেখা দিতে পারে ১২টি জটিল রোগের সংক্রমণ। চিকিৎসক ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিকারক
রাসায়নিক মেশানো ফল খেয়ে ক্রমেই মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে জন্ডিস, পেটব্যথা, বমি হওয়া, ডায়রিয়া, বুক
জ্বালাপোড়াসহ শরীরে বিভিন্ন প্রদাহ হতে পারে, যা স্বাভাবিক রোগ বলেই ধরে নেওয়া হয়। তবে পরে লিভারে জটিল রোগ, কিডনিতে সমস্যা,
পাকস্থলী ও অন্ত্রে ক্ষত রোগসহ ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি। বিষয়টির প্রতি দৃষ্ট আকর্ষণ করা হলে বিএসটিআইর উপপরিচালক (প্রশাসন-২)
মো. তাহের জামিল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শীঘ্রই মৌসুমি ফলে ভেজাল রোধে অভিযান শুরু হচ্ছে। এবার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে
প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে। এদিকে কেমিক্যাল মেশানোয় এসব ফলের রঙ হয়ে ওঠে অত্যন্ত
আকর্ষণীয়, যা সহজেই কেড়ে নেয় ক্রেতার দৃষ্টি। কিন্তু ক্রেতা জানতেও পারেন না, প্রিয়জনকে খুশি করতে গাঁটের টাকা খরচ করে যা নিয়ে যাচ্ছেন,
তা এক ধরনের বিষ। রাজধানীসহ সারা দেশে এখন মৌসুমি ফলের জোয়ার। চারদিকে ম ম গন্ধ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফল পাকানোর জন্য
ব্যবহার করা হয়ে থাকে কার্বাইড। আর পচন রোধে দেওয়া হয় ফরমালিন। ক্রেতার দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে ফলে যথাযথ রং আনতে মেশানো হয়
ইটোফেন। কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অসাধু বিক্রেতারা বছরের এই বিশেষ সময়ে বিষ মেশানো ফল বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
নগরীর বাদামতলী, গাবতলী, মিরপুর, বাবুবাজার, ওয়াইজঘাট, যাত্রাবাড়ী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে কেমিক্যাল মেশানো ফলের জমজমাট
কারবার। এসব জায়গার আড়তে আড়তে বড় বড় ঝুড়িতে সাজানো রয়েছে পাকা আম, লিচু, আঙ্গুর, তরমুজ ও আনারসসহ বিভিন্ন জাতের ফল।
রাতের অাঁধারে এসব ফল পাকানোর জন্য মেশানো হয় বিষাক্ত রাসায়নিক উপকরণ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ভেজালবিরোধী অভিযান চললেও তা পর্যাপ্ত নয়। তা আরও জোরদার করা দরকার। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি
ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, 'মৌসুমি ফলের নামে আমরা যা খাচ্ছি এর পুরোটাই বিষ। সব তরমুজ কাটলেই
এখন লাল টকটকে রং। সাদা আর নেই। ফল পাকাতে যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় তার ক্ষতি সীমাহীন। যার মধ্যে ক্যান্সার, লিভার
ডিজিজ, কিডনি ফেইলিওর, হার্ট ডিজিজ উল্লেখযোগ্য।' ড. মাওলা আরও বলেন, কার্বাইড, ফরমালিন, ইটোফেনসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায়
মানবদেহে হেপাটাইটিস এ' এবং ই' ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে। এ ছাড়া শিশুরা এসব বিষ মেশানো ফল খেয়ে অ্যালার্জিক সমস্যা, শ্বাসনালির ক্ষত,
অ্যাজমাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এদিকে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, আম ও লিচু পাকা অবস্থায় দেশের বিভিন্ন জেলার বাগান থেকে
সংগ্রহ করা হয়। এই দুই ফলে গাছের বা বাগানের মালিক ভেজাল মিশিয়ে থাকতে পারে। কারণ এসব ক্ষেত্রে সরাসরি বাগানেই কেমিক্যাল মেশানো
হয়। বিএসটিআইর গবেষণা কর্মকর্তা মো. হানিফ বলেন, শুধু ঢাকার অলিগলি, দোকান আর পাইকারি আড়তে অভিযান পরিচালনা করলে এ অসৎ
কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাবে না। এ জন্য রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদন এলাকা ও বাগানগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
Source: http://www.bd-pratidin.com/index.php?
view=details&type=gold&data=Study&pub_no=1095&cat_id=1&menu_id=7&news_type_id=1&index=6

