পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছর ধরে অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিস্ট) না থাকায় হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। ফলে জরুরি প্রসূতিসেবাও মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ৫০ শয্যায় ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ১৩ জন। এর মধ্যে সার্জারি, গাইনি, চক্ষু, শিশু, অর্থোপেডিকস, হূদরোগ, ইএনটি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের আটজন কনিষ্ঠ পরামর্শক এবং ডেন্টাল, প্যাথলজি, অ্যানেসথেসিয়া, এমও, আইএমও বিভাগের ১০ জন সহকারী সার্জনের পদ শূন্য রয়েছে।
ইসিজি যন্ত্রটি এক বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি সাত মাস ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এদিকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সাতটিতে চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ধানীসাফা গ্রামের আসমা বেগম জানান, তিনি চোখের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে জানতে পারেন এখানে চোখের চিকিৎসক নেই। বেতমোর গ্রামের বেলায়েত হোসেন জানান, মঠবাড়িয়া হাসপাতালে অবেদনবিদ না থাকায় তাঁর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করাতে হয়েছে।
হাসপাতালের টিকিট বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ১০০ থেকে ১৩০ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল পাঠানো হয়। প্রতিদিন জরুরি বিভাগে ২০ থেকে ২৫ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অবেদনবিদ না থাকায় প্রসূতি মায়েদের অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। ফলে জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রম (ইওসি) মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট এবং ইসিজি যন্ত্র ও অ্যাম্বুলেন্সের ত্রুটির কথা লিখিতভাবে সিভিল সার্জনসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন আবদুল গনি বলেন, ‘সারা দেশে অবেদনবিদ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। আমরা প্রতি মাসের প্রতিবেদনে চিকিৎসক সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না।’
Source: The Daily Prothom Alo

