নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের নলতৈড় গ্রামে মা ও ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত মায়ের নাম ফেরদৌসী বিবি (৪০) ও ছেলের নাম মিলন (১১)। 'অরোভিট ড্রিংকস' নামের একধরনের পানীয় পান করে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতদের স্বজনরা। একই ড্রিংকস পান করে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই পরিবারের গৃহকর্তা আবদুস সামাদ (৪৬) ও আরেক ছেলে মাসুদ (১৩)। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
সূত্রে জানা যায়, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে গত শুক্রবার গৃহকর্তা আবদুস সামাদ গ্রামের মসজিদসংলগ্ন মানিকের দোকান থেকে পাঁচ প্যাকেট অরোভিট অরেঞ্জ ড্রিংকস পাউডার কিনে বাড়ি নিয়ে যান। পরে বিকেলে সেগুলো পানিতে মিশিয়ে শরবত বানিয়ে স্ত্রী ফেরদৌসী বিবি, ছেলে মাসুদ, মিলন ও তিনি পান করেন। এর পর পরই তারা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রামবাসী তাদের মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে সন্ধ্যায় ফেরদৌসী বিবি মারা যান। অসুস্থ সামাদ, মাসুদ ও মিলনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মিলন। সামাদ ও মাসুদ চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানায়, অরোভিট ড্রিংকসের প্যাকেটে সফট ড্রিংক পাউডার জুনিয়র লেখা রয়েছে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে 'অরোরা স্ট্যান্ডার্ড ফুডস কোং, তালাইমারী, শহীদ মিনার রাজশাহী'। প্যাকেটের গায়ে বিএসটিআইয়ের সিলমোহর থাকলেও উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।
দোকান মালিক মানিক জানান, ড্রিংকস পাউডারগুলো তিনি দেলুয়াবাড়ী বাজারের জোয়ার্দার মার্কেটের দোকানি আশরাফুল ইসলাম ও সাবাই বাজারের কাপড়পট্টি এলাকার দোকানি মকলেছুর রহমানের কাছ থেকে কিনেছেন। মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই পরিবারে সবাই অসুস্থ থাকায় এ ব্যাপারে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
নওগাঁর সিভিল সার্জন সোলায়মান আল ফারুক জানান, আবদুস সামাদের স্ত্রী ফেরদৌসী বিবির লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Source: The Daily Kaler Kantho

