জলবসন্ত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। ভেরিসেলা জোস্টার নামের ভাইরাস এর জন্য দায়ী। সাধারণত ১ থেকে ১৪ বছর বয়সীদেরই বেশি হয় এই রোগ। তবে বড়দের যে হয় না তা নয়। সাধারণত এই সময়ে এ রোগটি দেখা যায়।
জলবসন্ত খুবই ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত শিশুর কাশি-হাঁচি, এমনকি ত্বকের সংস্পর্শে এলেও অন্যরা এতে আক্রান্ত হতে পারে। মুশকিল হলো, রোগটি ছড়াতে শুরু করে ত্বকে গুটি দেখা দেওয়ার দুদিন আগে থেকেই। আর ছড়াতে থাকে যদ্দিন না সব কটি গুটি শুকিয়ে যায়। তাই রোগী অনেক সময় নিজে বুঝে ওঠার আগেই রোগ ছড়াতে থাকে।
জলবসন্তের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, এর প্রয়োজনও নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না। এমনিই সেরে যায়। তবে চুলকানির জন্য এন্টি হিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ এবং জ্বর বা শরীর ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে। কোনো অবস্থায়ই জ্বর বা ব্যথার জন্য শিশুদের অ্যাসপিরিন-জাতীয় কোনো ওষুধ দেওয়া যাবে না।
বাড়ির শিশুটির এই সময়ে জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক। সে ক্ষেত্রে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলুন।
-শিশুকে অন্যদের চেয়ে আলাদা রাখুন। আক্রান্ত শিশুকে স্কুল ও বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ রাখুন।
-প্রচুর পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন। জলবসন্তে মাছ এবং এটা-ওটা খাওয়া নিষেধ বলে যেসব ধারণা প্রচলিত, তা ভুল।
-অনেকের ধারণা, এ সময় গোসল করানো যাবে না। এটিও একটি ভুল ধারণা। এ থেকে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। সম্ভব হলে প্রতিদিন গোসল করান। পরিচ্ছন্ন থাকুন।
-ত্বকের গুটি খুঁটবেন না, এগুলো স্বাভাবিকভাবেই শুকাবে। হালকা আরামদায়ক সুতির কাপড় পরান। অনেক চুলকানি হলে ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করা যায়।
-গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিক ও ক্যানসার রোগী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, এমন কারও জলবসন্ত থেকে মারাত্মক নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা হতে পারে। এঁদের বেলায় সাবধান থাকুন।
সূত্র : প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-01/news/332915

