খাবারে অ্যালার্জি থেকে সাধারণ চুলকানি, র্যাশ থেকে শুরু করে বমি, পেট খারাপ, শ্বাসকষ্ট এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। যাদের পরিবারে অ্যালার্জি, হাঁপানি, একজিমা ইত্যাদির ইতিহাস আছে তাদের এই ঝুঁকি বেশি। যেসব শিশু-কিশোর হাঁপানি, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, অ্যালার্জিজনিত চর্মরোগ ইত্যাদিতে ভোগে তাদের খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি।
খাবারে অ্যালার্জির কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। যেসব খাবারে অ্যালার্জি হয় সেসব এড়িয়ে চলাই সর্বোত্তম পন্থা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমিষজাতীয় খাদ্যদ্রব্য যেমন ডিম, মাংস বা সামুদ্রিক মাছ, কিছু সবজি যেমন বেগুন, কচু, কচুর লতি, মাশরুম এবং অন্যান্য খাবার যেমন বাদাম ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জি দেখা যায়। এসব খাবারে চুলকানি, বমি, শ্বাসকষ্ট বা র্যাশ হওয়ার ইতিহাস থাকলে পরে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
যেকোনো কেনা খাবার খাওয়ার আগে লেবেল পড়ে নিন। দেখে নিন এতে আপনার শত্রু খাবারটি আছে কি না। বাইরে খেতে গেলে অবশ্যই অর্ডার দেওয়ার সময় বলে দেবেন যে আপনার ডিমে বা মাশরুমে অ্যালার্জি আছে, তাই যেন এগুলো না দেওয়া হয়। যার খাবারে অ্যালার্জি আছে তার খাবার তৈরির সময় ছুরি, কাঁটা চামচ ইত্যাদি ধুয়ে নিন। অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন।
যুক্তরাষ্ট্রে খাবারে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা করে। খাবারে অ্যালার্জির সমস্যা দিন দিন বিশ্বে বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন) হিসাবে এই বৃদ্ধির হার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭-এই ১০ বছরে প্রায় ১৮ শতাংশ। আমাদের দেশে ঠিক কত মানুষ খাবারে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয় সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য নেই। তবে চর্মবিশেষজ্ঞের রোগীদের একটা বড় অংশ এ কারণেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।
ডা. নাজমুল কবীর কোরেশী, মেডিসিন বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল।

