বিরল এক অস্ত্রোপচারে সফল হয়েছেন ইতালির চিকিৎসকরা। ১৬ মাস বয়সী এক ছেলেশিশুর দেহে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড সফলভাবে সংযোজন করে তাকে ১৩ দিন বাঁচিয়ে রাখেন তাঁরা। এরপর এক দাতার হৃৎপিণ্ড সংযোজনের মাধ্যমে শিশুটির জীবন নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। অস্ত্রোপচারের ঘটনাটি গত মাসে সম্পন্ন হলেও চলতি সপ্তাহে এ খবর প্রকাশ করা হয়। রোমের বামবিনো গেসু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জটিল এই অস্ত্রোপচার করেন। তবে প্রচারমাধ্যমের কাছে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
হাসপাতালটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটি ডাইলেটেড মাইয়োকার্ডিওপ্যাথি নামে হৃৎপিণ্ডের এক জটিল রোগে ভুগছিল। এটি হৃৎপেশির এমন একটি রোগ, যার ফলে হৃৎপেশির তন্তুগুলো প্রসারিত হয়ে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ড ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায় এবং রক্ত সঞ্চালন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
রয়টার্স টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই হাসপাতালের সার্জন আন্তোনিও আমোদিও এই অস্ত্রোপচারকে হৃৎপিণ্ডের চিকিৎসার
ক্ষেত্রে 'মাইলফলক' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, 'ক্ষুদ্রতম কৃত্রিম হৃৎপিণ্ডটি এখন হৃৎপিণ্ড সংযোজনের মধ্যবর্তী পর্যায়ে সংযোজক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি হয়তো স্থায়ী হৃৎপিণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।'
অবশ্য দাতার হৃৎপিণ্ড সংযোজনের আগে শিশুটির হৃৎপিণ্ডে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কৃত্রিম হৃদযন্ত্রটি সংযোজনের সময় শিশুটির হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে একটা যান্ত্রিক সঞ্চালক দিয়ে রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হয়। সেটির গোড়াতে এই সংক্রমণ দেখা দেয়। আমোদিও এ প্রসঙ্গে বলেন, 'শল্য চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিশাল কোনো সমস্যা নয়। বরং শিশুটিকে নিয়ে আমাদের ভয় ছিল একটাই, বেচারাকে এ বয়সেই কয়েকবার ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হয়েছিল। ফলে নতুন করে তার অস্ত্রোপচার করা খানিকটা দুরূহই ছিল।'
টাইটেনিয়ামে তৈরি কৃত্রিম হৃৎপিণ্ডটির ওজন ছিল মাত্র ১১ গ্রাম। এটি প্রতি মিনিটে দেড় লিটার রক্ত সঞ্চালন করতে পারে। পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা কৃত্রিম হৃৎপিণ্ডের ওজন হয় ৯০০ গ্রাম।
আমোদিও বলেন, 'এক মাস বয়স থেকে শিশুটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে থাকায় সে আমাদের পরিবারের অংশ হয়ে গেছে। তার সুস্থতার জন্য হাসপাতালের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। সারাক্ষণই সে সবার পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।'
রবার্ট জার্ভিক নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক চিকিৎসক ক্ষুদ্রতম এই কৃত্রিম হৃৎপিণ্ডের উদ্ভাবক। এই অস্ত্রোপচারের আগে কিছু প্রাণীর ওপর যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই অস্ত্রোপচারের জন্য ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সূত্র : রয়টার্স, ডেইলি মেইল অনলাইন।Source: The Daily Kaler Kantho

