প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল গতকাল রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ক্রেতা-ভোক্তাদের মানসম্মত পণ্য তুলে দিতে দায়বদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বাজার থেকে সব ধরনের গুঁড়া হলুদ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাণ। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মজুত থাকা প্রাণের গুঁড়া হলুদ কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেছে প্রাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ভোক্তার অসুস্থতার কারণ খুঁজতে গিয়ে প্রাণের গুঁড়া হলুদে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা থাকার বিষয়টি নজরে আসে এফডিএর। সংস্থাটি বলেছে, দেশটির বিভিন্ন পরীক্ষাগারে প্রাণের ৪০০ গ্রাম এবং ২৫০ গ্রামের গুঁড়া হলুদে ২৮ থেকে ৫৩ পিপিএম মাত্রা পর্যন্ত সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণের গুঁড়া হলুদের চার পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সে দেশের বাজার থেকে প্রাণের গুঁড়া হলুদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এফডিএ বলেছে, গুঁড়া হলুদে থাকা উচ্চমাত্রার সিসা নবজাতক, কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। সিসা শরীরে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সঞ্চিত থাকতে পারে। এর পরিমাণ বেড়ে গেলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বিশেষ করে মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
দেশীয় পরীক্ষাতেও সিসার উপস্থিতি: যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণের গুঁড়া হলুদে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা পাওয়ার পর বাজার থেকে প্রাণসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানের গুঁড়া মসলার (গুঁড়া হলুদ, গুঁড়া মরিচ এবং গুঁড়া কারি) নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে বিএসটিআই। এই সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে—প্রাণ, এসিআই, স্কয়ার, বিডি ফুডস, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ও মেঘনা গ্রুপের সুপার ফ্রেশ। অন্য প্রতিষ্ঠানটির নাম জানাতে পারেনি বিএসটিআই সূত্র।
ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাগারে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সবগুলো পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএসটিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে যোগাযোগ করা হলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সার্টিফিকেশন মার্ক—সিএম) কমল প্রসাদ দাস প্রথম আলোকে বলেন, প্রাণের গুঁড়া হলুদে বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে স্বপ্রণোদিত হয়ে সম্প্রতি বাজার থেকে প্রাণের গুঁড়া হলুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা সংস্থা (বিসিএসআইআর)। পরীক্ষায় প্রাণের গুঁড়া হলুদে ৪০ পিপিএম থেকে ৫৫ পিপিএম মাত্রার সিসা পেয়েছে সংস্থাটি।
জানতে চাইলে বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান এ আই মুস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার কয়েকটি স্থান এবং সাভার থেকে আমরা প্রাণের গুঁড়া হলুদের নমুনা সংগ্রহ করে দুটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেছি। দুটি পরীক্ষাতেই মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।’ দু-এক দিনের মধ্যে এসব পরীক্ষার ফল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
হলুদ তুলে নেওয়ার ঘোষণা: গতকাল প্রাণের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া গুঁড়া হলুদের কয়েকটি ব্যাচে এফডিএ সিসার উপস্থিতি পাওয়ার পর প্রাণও বিএসটিআই এবং বিসিএসআইআরসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে হলুদ পরীক্ষা করিয়েছে প্রাণ। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু পরীক্ষায় প্রাণের গুঁড়া হলুদে মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আবার কোনো কোনো পরীক্ষায় সিসা পাওয়া যায়নি।
প্রাণের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, দেশের কিছু স্থানে উৎপাদিত হলুদে মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি থাকতে পারে, যা হয়তো অন্য এলাকার হলুদে নেই। তবে ক্রেতা-ভোক্তাদের মানসম্মত পণ্য তুলে দিতে দায়বদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বাজার থেকে সব ধরনের গুঁড়া হলুদ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাণ। এ সিদ্ধান্ত গত ২৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর খুচরা দোকানগুলোতে এখনো পর্যন্ত প্রাণের গুঁড়া হলুদ বিক্রি হলেও স্বপ্নসহ কয়েকটি সুপারশপ থেকে এরই মধ্যে এ গুঁড়া হলুদ তুলে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

