আড়াই বছর আগে ১০০ শয্যার কক্সবাজার সদর হাসপাতাল উন্নীত করা হয় ২৫০ শয্যায়। কিন্তু শয্যা বাড়লেও জনবল আগের অবস্থায় থেকে গেছে। শয্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত জনবল দেওয়া হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকা-সংকট লেগেই আছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। এদিকে গোদের ওপর বিষফোড়া হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি। ইতিমধ্যে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অজয় ঘোষকে বদলি করা হয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বর সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সাত শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে সেবার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। মাত্র তিনজন চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা থেকে আসা গৃহবধূ আকলিমা খাতুন (৪৫) বলেন, চকরিয়া হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে নিউমোনিয়া আক্রান্ত আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে এখানে এসেছি। দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছি না।
হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ৭৭ শিশু ভর্তি। এক শয্যায় দুজন শিশু রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শয্যা না পেয়ে অনেকের স্থান হয়েছে মেঝেতে। এই ওয়ার্ডে ছয়জন চিকিৎসকের পদে কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন।
৪০ শয্যার মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৬৭ জন। ৪০ শয্যার প্রসূতি বিভাগে রয়েছেন ৫১ জন। জরুরি বিভাগের অবস্থাও নাজুক। প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। বাকি ছয়টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
তত্ত্বাবধায়ককে বদলি: হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অজয় ঘোষকে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং রোগীদের খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে বদলি করা হয় বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খালেদা আকতার এক প্রজ্ঞাপনমূলে অজয় ঘোষকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলির নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন ফরাজী বলেন, ‘হাসপাতালে যোগদানের পর অজয় ঘোষ কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এতে অসন্তোষ দেখা দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ঘটনার তদন্ত করা হয়। তদন্ত দল অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তাঁকে ঢাকায় বদলি করা হয়।’
চিকিৎসক ও সেবিকা-সংকট: হাসপাতালে ৬০টি চিকিৎসক পদে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩৬ জন। অন্যদিকে ৮৩টি সেবিকা পদে কর্মরত রয়েছেন ৩৭ জন। ৪৮ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদে কর্মরত রয়েছেন ২৮ জন। হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অরূপ দত্ত বলেন, এই হাসপাতালে দৈনিক এক হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এত কম চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট নিরসনে মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদেরও হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
সিভিল সার্জন কাজল কান্তি বড়ুয়া বলেন, ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকসহ জনবল না থাকায় নতুন কয়েকটি ওয়ার্ড চালু করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ চলছে।
সূত্র - প্রথম আলো

