সিটি করপোরেশন পরিচালিত হাসপাতাল মেমনের খ্যাতি ছিল প্রসূতি সেবার জন্য। প্রতিদিন রোগী নিয়ে হিমশিম খেতে হতো চিকিৎসকদের। সেই মেমনে এখন রোগীর ভিড় নেই। অর্ধেকের কম রোগী ভর্তি হচ্ছে। সেবার মানও নিম্নমুখী। এদিকে চিকিৎসক সংকটে রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে বন্দরটিলা, দক্ষিণ বাকলিয়া ও পূর্ব বাকলিয়া মাতৃসদনে।
সরেজমিনে মেমন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এখন প্রতিদিন গড়ে সেখানে রোগী থাকে অর্ধেকেরও কম। গত শুক্রবার এখানে রোগী ছিল ৪২ জন। ওয়ার্ড মাস্টার রিপন শীল বলেন, ‘এখন রোগী কমে গেছে। তবে কিছুদিন আগে ৭০ জন পর্যন্ত ছিল।’
একইভাবে কমে গেছে চিকিৎসকও। কারণ, চিকিৎসক- সেবিকার চাকরি স্থায়ী নয়। তাই তাঁরা ভালো সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন সব সময়। সুযোগ পেলেই অন্যত্র চলে যান বলে জানা যায়।
বন্দরটিলা, দক্ষিণ বাকলিয়া ও পূর্ব বাকলিয়ার তিনটি মাতৃসদন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে এই তিনটিতে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না। তারা শুধু বহির্বিভাগের সেবা দিয়ে থাকে।
দক্ষিণ বাকলিয়া মাতৃসদনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালে তালা লাগানো। চারদিকে অযত্ন অবহেলার ছাপ। ধুলোমলিন আসবাব। দ্বিতীয় তলায় রাজিয়া বেগম নামে এক নারী থাকেন। তিনি ওই হাসপাতালের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। এক সময় এই হাসপাতাল এলাকার প্রসূতিদের জরুরি সেবা দিলেও এখন সে নিজেই রোগী।
বিষয়টি স্বীকার করে করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসক-সংকট রয়েছে। ২৪ জন চিকিৎসকের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিয়োগ পেলে হাসপাতাল পুরোদমে চালু করা যাবে।’
সূত্র - প্রথম আলো

