ভেজাল রোধে ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভা ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে। এতে আইন লঙ্ঘনের জন্য ২০ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এই তথ্য জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ আইন কার্যকর হলে দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। আইনের আওতায় ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্যপ্রতিষ্ঠান’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে, যার কাজ হবে খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নিম্নমানের পণ্য বিক্রয়ের বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া।
গত ১ জুলাই খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইনে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। ওই প্রস্তাবে দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল। জরিমানার পরিমাণ ছিল পাঁচ থেকে ২০ লাখ টাকা। এ আইন অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য কোনো অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটন বা সংঘটনের প্রস্তুতি গ্রহণ বা সংঘটনে সহায়তাসংক্রান্ত কোনো ঘটনার বিষয়ে কেউ ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করলে বা কোনো কথাবার্তা বা আলাপ আলোচনা রেকর্ড করলে ওই ভিডিও, স্থিরচিত্র, অডিও ওই অপরাধ বা ক্ষতি সংশ্লিষ্ট মামলা বিচারের সময়ে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
এ ছাড়া গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমার শরণার্থী এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিকদের বিষয়ে জাতীয় কৌশলপত্র’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বলেন, জাতীয় কৌশলপত্রের আলোকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের শরণার্থীদের জরিপ করে তালিকা করা হবে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকার বিষয়টি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে।
সূত্র- প্রথম আলো

