রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য মৃত্যুর প্রহর গুনছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফজুর রহমান মাসুম। ল্যাবএইড হাসপাতালের ড. আমজাদ হোসেনের ভূল চিকিৎসায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাসুম।
বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অফিস রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মাসুম, তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারের নিকট কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাসুম ও তার পরিবারকে ১কোটি টাকা দিতে হবে এবং ভুল চিকিৎসা দেয়ায় ড. আমজাদকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এছাড়া তাদের দাবি মানা না হলে ৮সেপ্টেম্বর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানবন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাসুমের বাম পায়ের গোড়ালিতে টিউমার ধরা পরে। ভাল চিকিৎসার জন্য ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতালের ড. আমজাদ হোসেনের কাছে নিয় যাওয়া হয়। আমজাদ হোসেন এটাকে জ্যানথোমা বলে উল্লেখ করেন এবং অপারেশন করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তারই তত্বাবধানে ল্যাবএইডে ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অপারেশন করা হয়।
অপারেশন করার পর বাইয়পসি দেখে ড. আমজাদ বলেন কোনো সমস্যা নেই।তিনি রোগীকে পরে যোগাযোগ করার কথা বলেন। রিপোর্টটি ড.আমজাদ নিজের কাছেই রেখে দেন। পরবর্তীতে যখন মাসুমের অবস্থা আগের থেকে আরো খারাপ হয় তখন তার কাছে গেলে তিনি লবণ ও গরম পানি নিতে বলেন এবং কিছু ঔষধ লিখে দেন। ক্রমেই অবস্থা আরো খারাপ হলে ড.আমজাদ পূণরায় তাকে অপারেশন করার পরামর্শ দেন।
পরে মাসুমের পরিবারের সদস্যরা পঙ্গু হাসপাতালের প্রাক্তন ডাক্তার ড. অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনকে দেখান। ড. সাজ্জাদ মাসুমের বাইয়পসি প্রতিবেদন দেখে বলেন মাসুমের সারকোমা ক্যান্সার হয়েছে। অথচ ল্যাব এইডের ড. আমজাদ হোসেন এ রিপোর্ট দেখেই বলেছিলেন কোনো সমস্যা নেই। পরবর্তীতে মাসুমের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা ড. আমজাদ হোসেনের কাছে গেলে তিনি তার ভূল স্বীকার করে দূঃখ প্রকাশ করেন।
ড.আমজাদের ওপর ভরসা না পেয়ে মাসুমের পরিবার মাসুমকে লালমাটিয়ার অনকলোজী সেন্টারের ড. এম কে আনোয়ার হোসেনের কাছে নিয়ে যান। ড. আনোয়ার হোসেন বাইয়পসি দেখে এটাকে আলভিয়লার রবডোমিও সারকোমা হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের একটি বোর্ড মিটিংয়ে মাসুমকে পেট সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। আর তারা বলেন পা কাটতে হবে এবং শরীরের অন্য কোথাও এটা বিস্তার লাভ করলে কেমোথেরাপি দিতে হবে।
মাসুমের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা তাকে সিঙ্গাপুর চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার দায়ভার হিসেবে ক্ষতিপূরণের জন্য ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মতি জানায় এবং একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে ক্ষতিপূরণের জন্য যাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শিক্ষার্থীদের চাঁদাবাজ বানিয়ে দাঙ্গা পুলিশ দিয়ে হামলা চালায়।
এসময় ল্যাব এইডের কর্তৃপক্ষ ড. মাহবুব হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার কাছের লোক। কাজেই চাপ দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’’
পরবর্তীতে মাসুমের বন্ধুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলীর কাছে যায়। প্রক্টর স্যারকে সঙ্গে নিয়ে মাসুমের বন্ধুরা ড. আমজাদ হোসেনের কাছে যায়। তখন ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ মাসুমের এ পরিস্থিতির জন্য ভূল স্বীকার করেন ।
পরবর্তীতে মাসুমকে চিকিৎসার জন্য কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানকার ডাক্তার মাসুমের সকল টেস্ট করানোর পর জানান ক্যান্সার মাসুমের ফুসফুস সহ শরীরের সকল জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। মাসুমের চিকিৎসা পৃথিবীর কোথাও নেই। কলকাতার ডাক্তার বলেন,‘‘ল্যাবএইডের ওই চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীর এই অবস্থা করেছেন। ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।’’
বর্তমানে মাসুমের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। প্রতিনিয়ত মাসুমের পা থেকে রক্ত ঝরছে। পা ফোলা বাড়ছে এবং অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখন মাসুম প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছে। ডাক্তারদের মতে তার বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ বিষয়ে ল্যাব এইড হাসপাতালের কর্তপক্ষ ড. মাহবুব বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। আপনি ড. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’’
এ বিষয়ে ড. আমজাদ হোসেনকে ফোন করলে তার পিএস রিসিভ করে জানান স্যার ব্যস্ত আছেন।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী বলেন, আমরা এব্যাপারে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা প্রথমে এটাতে সম্মতি জানালেও বর্তমানে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।”
সূত্র - natunbarta.com

