home top banner
Please Login or Register

News

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
04 September,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   39

রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য মৃত্যুর প্রহর গুনছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফজুর রহমান মাসুম। ল্যাবএইড হাসপাতালের ড. আমজাদ হোসেনের ভূল চিকিৎসায় এমন  অবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাসুম।

বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অফিস রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মাসুম, তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুমের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারের নিকট কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাসুম ও তার পরিবারকে ১কোটি টাকা দিতে হবে এবং ভুল চিকিৎসা দেয়ায় ড. আমজাদকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এছাড়া তাদের দাবি মানা না হলে ৮সেপ্টেম্বর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানবন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাসুমের বাম পায়ের গোড়ালিতে টিউমার ধরা পরে। ভাল চিকিৎসার জন্য ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতালের ড. আমজাদ হোসেনের কাছে নিয় যাওয়া হয়। আমজাদ হোসেন এটাকে জ্যানথোমা  বলে উল্লেখ করেন এবং অপারেশন করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তারই তত্বাবধানে ল্যাবএইডে ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অপারেশন করা হয়।

অপারেশন করার পর বাইয়পসি দেখে  ড. আমজাদ বলেন কোনো সমস্যা নেই।তিনি রোগীকে পরে যোগাযোগ করার কথা বলেন। রিপোর্টটি ড.আমজাদ নিজের কাছেই রেখে দেন। পরবর্তীতে যখন মাসুমের অবস্থা আগের থেকে আরো খারাপ হয় তখন তার কাছে গেলে তিনি লবণ ও গরম পানি নিতে বলেন এবং কিছু ঔষধ লিখে দেন। ক্রমেই অবস্থা আরো খারাপ হলে ড.আমজাদ পূণরায় তাকে অপারেশন করার পরামর্শ দেন।

পরে মাসুমের পরিবারের সদস্যরা পঙ্গু হাসপাতালের প্রাক্তন ডাক্তার ড. অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনকে দেখান। ড. সাজ্জাদ মাসুমের বাইয়পসি প্রতিবেদন দেখে বলেন মাসুমের সারকোমা ক্যান্সার হয়েছে। অথচ ল্যাব এইডের ড. আমজাদ হোসেন এ রিপোর্ট দেখেই বলেছিলেন কোনো সমস্যা নেই। পরবর্তীতে মাসুমের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা ড. আমজাদ হোসেনের কাছে গেলে তিনি তার ভূল স্বীকার করে দূঃখ প্রকাশ করেন।

ড.আমজাদের ওপর ভরসা না পেয়ে মাসুমের পরিবার মাসুমকে লালমাটিয়ার অনকলোজী সেন্টারের ড. এম কে আনোয়ার হোসেনের কাছে নিয়ে যান। ড. আনোয়ার হোসেন বাইয়পসি দেখে এটাকে আলভিয়লার রবডোমিও সারকোমা হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের একটি বোর্ড মিটিংয়ে মাসুমকে পেট সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। আর তারা বলেন পা কাটতে হবে এবং শরীরের অন্য কোথাও এটা বিস্তার লাভ করলে কেমোথেরাপি দিতে হবে।

মাসুমের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা তাকে সিঙ্গাপুর চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার দায়ভার হিসেবে ক্ষতিপূরণের জন্য ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মতি জানায় এবং একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে ক্ষতিপূরণের জন্য যাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শিক্ষার্থীদের চাঁদাবাজ বানিয়ে দাঙ্গা পুলিশ দিয়ে হামলা চালায়।

এসময় ল্যাব এইডের কর্তৃপক্ষ ড. মাহবুব হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার কাছের লোক। কাজেই চাপ দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’’

পরবর্তীতে মাসুমের বন্ধুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলীর কাছে যায়।  প্রক্টর  স্যারকে সঙ্গে নিয়ে মাসুমের বন্ধুরা ড. আমজাদ হোসেনের কাছে যায়। তখন ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ মাসুমের এ পরিস্থিতির জন্য ভূল স্বীকার করেন ।

পরবর্তীতে মাসুমকে চিকিৎসার জন্য কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানকার ডাক্তার মাসুমের সকল টেস্ট করানোর পর জানান ক্যান্সার মাসুমের ফুসফুস সহ শরীরের সকল জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। মাসুমের চিকিৎসা পৃথিবীর কোথাও নেই। কলকাতার ডাক্তার  বলেন,‘‘ল্যাবএইডের ওই চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীর এই অবস্থা করেছেন। ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে যেন  ব্যবস্থা নেয়া হয়।’’

বর্তমানে মাসুমের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। প্রতিনিয়ত মাসুমের পা থেকে রক্ত ঝরছে। পা ফোলা বাড়ছে এবং অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখন মাসুম প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছে। ডাক্তারদের মতে তার বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ বিষয়ে ল্যাব এইড হাসপাতালের কর্তপক্ষ ড. মাহবুব বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। আপনি ড. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’’

এ বিষয়ে ড. আমজাদ হোসেনকে ফোন করলে তার পিএস রিসিভ করে জানান স্যার ব্যস্ত আছেন।

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী  বলেন, আমরা এব্যাপারে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা প্রথমে এটাতে সম্মতি জানালেও বর্তমানে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।”

সূত্র - natunbarta.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: হৃদরোগ বাড়ছে মেয়েদের
Previous Health News: হাসপাতাল থেকে ফিরে শুটিংয়ে মম

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')