দু’টি তথ্য। আর দু’টিই একেবারে চমকে দেয়ার মতো। গত পাঁচ বছরে মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগের প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে ৩০০ গুণ! আর এখন স্তন ক্যানসারে যত মহিলা মারা যাচ্ছেন, তার ছ’গুণেরও বেশি মহিলার মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র পেশ করা এই সাম্প্রতিক তথ্য ভাঁজ ফেলেছে অনেকের কপালেও।
কেন? কারণ, সাধারণভাবে হৃদরোগ নিয়ে প্রচার হলেও মেয়েদের ব্যাপারে আলাদাভাবে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ হয়নি। বরং মেয়েদের ‘কলজের জোর’ বেশি এই ধারণার বশবর্তী হয়েই নিশ্চিন্ত থেকে গিয়েছেন অনেকে। চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি, আগে ধরে নেয়া হতো যত দিন মেয়েরা প্রজননক্ষম থাকছেন, তত দিন হৃদরোগের ভয় নেই বললেই চলে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এই ধারণাটা অনেকটাই ভুল। মেনোপজ-এর বহু আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কখনো কখনো তা এমনই যে এক ধাক্কায় প্রাণটাও চলে যাচ্ছে।
ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠীর কথায়, “৪৫-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের শরীর থেকে এমন কিছু হরমোন বার হয় যার দরুণ হার্টের সমস্যা সাধারণভাবে কম থাকার কথা। কিন্তু ইদানিং সেই তত্ত্ব বহু ক্ষেত্রেই উল্টে যাচ্ছে।”
কেন? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ এবং ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস। এই দুই অভ্যাস ওই সব হরমোনের সুপ্রভাবকে নষ্ট করে দেয়। গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট দীর্ঘদিন যারা খান, তাদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিতে ।এখন মেয়েদের ঘরে-বাইরে গুরুদায়িত্ব। কোনোটাকেই তারা অবহেলা করতে পারছে না। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ধূমপান, মদ্যপান। এর উপরে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবিটিস থাকলে তো সোনায় সোহাগা।
সংসার, সন্তান, চাকরি-এই তিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মেয়েদের ‘স্ট্রেস’ সাঙ্ঘাতিক বেড়ে যাচ্ছে। তারই পরিণাম এই হৃদরোগ। চেনা উপসর্গগুলো না থাকায় বহু ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠছে।
খাদ্যাভ্যাসের উপরে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষত তেলের বিষয়টিতে। তৈলাক্ত খাবারের প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ তুলনামূলক ভাবে বেশি হওয়ার কারণেও মেয়েদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায় বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। তেল হলো হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই রান্নার তেল বেছে নেয়ার ব্যাপারটা সবচেয়ে জরুরি। যে সব তেলে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, সেই তেল ট্রান্স-ফ্যাট বেশ খানিকটা কমিয়ে আনতে পারে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বহু ক্ষেত্রে মেয়েদের হৃদরোগের তেমন উপসর্গ থাকে না। আবার থাকলেও অনেক সময়ে চেনা উপসর্গের পরিবর্তে কিছু অচেনা উপসর্গ থাকে। যেমন, ডায়াবিটিস থাকলে অনেক সময়ে বুকে ব্যথা টের পাওয়া যায় না। এ ছাড়া বহু ক্ষেত্রেই বুকে ব্যথার বদলে পেটে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। এর ফলে অসুখটা আদতে কী তা টের পেতেই অনেকটা সময় পার হয়ে যায়।
মেয়েদের ধমনীগুলো পুরুষের তুলনায় ছোট। তাই অস্ত্রোপচারের সুফল তুলনামূলক ভাবে কম। রোগ হওয়ার পরে চিকিৎসা না করে রোগ প্রতিরোধটাই তাই সবচেয়ে জরুরি। আগে চিকিৎসকরা ৪০ বছরের পর চেক আপ করানোর কথা বলতেন। এখন তো বলেন ৩৫-এর পর থেকেই বছরে এক বার চেক আপ করিয়ে নিন। ডায়াবিটিস বা হাই ব্লাড প্রেশার থাকলে কিংবা বাড়িতে কারও হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে তো অবশ্যই করানো উচিত।
উপসর্গ
• বুকে ব্যথা, ঘাম হওয়া
• কাঁধে, হাতে ব্যথা
• পেটে চাপ
• হাঁটতে অসুবিধা
• ঘন ঘন হজমের গোলমাল
• একটানা ক্লান্তি, অবসাদ
কী কী পরীক্ষা করবেন
• ব্লাড প্রেশার
• ব্লাড সুগার
• লিপিড প্রোফাইল
• ইসিজি
• ইকোকার্ডিওগ্রাফি
সূত্র: ওয়েবসাইট।
সূত্র - natunbarta.com

