মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় আগামী ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পানীয় জলের অভাবে ঢাকা জনশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। ঢাকার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে ভূগর্ভ হয়ে সাগরের লোনা পানি দক্ষিণ দিক থেকে ক্রমশ বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) করা এক গবেষণায় এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ভূগর্ভ হয়ে দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত অনুপ্রবেশ করছে লবণ পানি: একটি ফলোআপ প্রতিবেদন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
২০১০ সাল থেকে ভূগর্ভস্থ পানির অনুপ্রবেশ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে বিএডিসি। এসব তথ্য সংগ্রহে সমুদ্র উপকূলে ১৬৮টি লবণ পর্যবেক্ষণ নলকূপ বসিয়ে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএডিসির সাবেক প্রধান মো. ইফতেখারুল আলম জানান, সেচসহ বিভিন্ন কাজে পানি তোলার কারণে ভূগর্ভে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। ২০০৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকার ভূগর্ভস্থ ফাঁকা জায়গা বর্ষাকালে আবারও পূরণ হয়ে যেত।
কিন্তু গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ এলাকায় প্রচুর শিল্পকারখানা স্থাপিত হওয়ার পর প্রায় সব কারখানাই একাধিক গভীর নলকূপ ব্যবহার করছে। ফলে ওই সব এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এতে দক্ষিণ থেকে সাগরের লবণ পানি ঢাকায় অনুপ্রবেশের আশঙ্কা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
ইফতেখারুল আলম জানান, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চার বছরে এ-সংক্রান্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত। পানির স্তর নেমে মূল ভূখণ্ডে লোনা পানি ঢুকে গেলে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও জনজীবন বিপর্যস্ত হবে।
তবে কী হারে লোনা পানি ঢাকার দিকে এগিয়ে আসছে, তা এখনো বের করা যায়নি বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া কিছু আশার কথাও শোনান ইফতেখারুল আলম। বিগত দিনে নেওয়া কিছু পদক্ষেপ যেমন খালকাটা, ভূগর্ভস্থ সেচনালা তৈরি, রাবার ড্যাম তৈরির মাধ্যমে বেশ কিছু এলাকার পানিতে লবণাক্ততা হ্রাসের প্রমাণ মিলেছে। তাই এসব পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ সহায়ক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাপার সহসভাপতি ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ওয়াইস কবির, বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মতিন, মো. আশফাকুল হক প্রমুখ।
সূত্র - প্রথম আলো

