কুকুর বিড়াল কখনো এক হয় না, সাধারণত এ কথাই আমরা জানি। কিন্তু প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাস ভেঙ্গে সত্যি আর বাস্তব অন্যরকমও হয়ে ওঠে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে একটি বিড়ালকে নিজের রক্ত দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করেছে এক কুকুর। গল্পের মত মনে হলেও সত্যিটা তাই অন্যরকম সত্য।
ঘটনাটি ঘটেছে নিউজিল্যান্ডে। শুক্রবার ররি নামের একটি বিড়াল বিষাক্ত ইঁদুর খাওয়ার ফলে নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচায় একটি কুকুর। ঘটনা সম্পর্কে কেট হেলার জানালেন, বিষাক্ত ইদুঁর খাওয়ার কারণে বিড়ালটির রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। তাকে যখন ভ্যাটেরিনারিতে আনা হয়, ততক্ষণে রক্ত পরীক্ষার ল্যাব্রটারি বন্ধ হয়ে যায়। তাই রোরির জন্য অন্য কোনো বিড়ালের রক্ত পরীক্ষা করা একদম কঠিন হয়ে পড়ে।
সেকারণে দুর্ভাগ্যক্রমে বিড়ালটির রক্তের গ্রুপও জানা যায়নি। সাধারণত বিড়ালের রক্তের গ্রুপ এ, বি কিংবা এবি হয়ে থাকে। কিন্তু এটি নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
ররির মালিক কিম এডওয়ার্ড তাকে তাওরাঙ্গা ভেটসে নিয়ে আসেন। ততক্ষণে তার ব্যথা আরো বেড়ে যায়। বিড়ালটির নিশ্বাস বেড়ে যায়। তাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়।
তখন বিড়ালটিকে বাঁচাতে একমাত্র কুকুরই ভরসা হয়ে ওঠে। হেলার সিদ্ধান্ত নিলেন, বিড়াল, কুকুর এরা যেহেতু জিঞ্জার বা একই প্রজাতির, তাই সাহস করে একটি কুকুর অপারেশন করে বা ওই কুকুরের রক্ত দিয়ে একটা সুযোগ নেবেন।
হেলার জানান, ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দিলে বিড়ালটির মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল অনেক বেশি৷ তাই একমাত্র উপায় ছিল একই গ্রুপের কোনো কুকুরের রক্ত সরাসরি রোরির দেহে সঞ্চালন করা৷ আর তার মাধ্যমে বিড়ালটির ইমউনো সিস্টেমকে বাঁচিয়ে রাখা, যতক্ষণ না রোরির গ্রুপের কোনো বিড়ালের রক্ত পাওয়া যায়৷
কুকুরটিকে সে সময় পাওয়া না গেলে এবং সে মুহূর্তে বিড়ালটিকে তার রক্ত না দিলে সে সাথে সাথেই মারা যেত বলে জানালেন হেলার৷ বললেন, বিড়ালটার জন্য এটা বাঁচা-মরার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷
রোরির মালিক কিম এডওয়ার্ডস ল্যাবরাডোর প্রজাতির কুকুর আছে এমন একজনকে চিনতেন৷ তাই তাঁকে ফোন করা মাত্রই তিনি তাঁর কুকুর নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন৷
বিষাক্ত ইদুঁর খাওয়ার কারণে বিড়ালটির রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল।
হেলার আরো জানান, কুকুরের রক্ত দেয়ার আগে, রোরি বেশ কাতরাচ্ছিল৷ কিন্তু রক্ত সঞ্চালনের এক ঘণ্টা পরই সে উঠে বসে এবং এক বাটি বিস্কুট গোগ্রাসে খেয়ে ফেলে৷
হেলার বললেন, দুটি ভিন্ন প্রজাতির পশুর মধ্যে রক্ত সঞ্চালন খুব বিরল এবং কেউই এটা আগে কখনো করেনি বা করার পরামর্শও দেয়নি৷
এডওয়ার্ড জানালেন, ভেটেনারি থেকে ফিরে রোরির চমৎকার পরিবর্তন হয়েছে৷ সে আগের মতোই চলাফেরা করছে৷ আগের মতোই শুরু করেছে খেলা৷
কিম এডওয়ার্ড আরো বলেন, “যদি আমরা কুকুরটির রক্ত না নিতাম, তাহলে সে (রোরি) মরেই যেত। ফলে এটা না হলে আমাদের আর করার কিছু ছিল না। ব্যাপারটা এমন ছিল যে, হয় এর রক্ত নিতে হবে, না হয় মরতে হবে। কিন্তু এটি খুবই বিরল ঘটনা।”
এডওয়ার্ড বলেন, “এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
সূত্র - poriborton.com

