ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক ফোরকান আহমদ এই অস্ত্রোপচার করেন। ওই চিকিৎসক দাবি করেন, পাথর অপসারণের সময় রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তিনি একটি কিডনি কেটে ফেলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আবু সাঈদ বলেন, ‘একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক এভাবে অস্ত্রোপচার করতে পারেন না। বিষয়টি তদন্ত করে ওই ক্লিনিক ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবীনগরের বিদ্যাকুট গ্রামের কৃষক হান্নান মিয়ার স্ত্রী হাজেরা বেগম ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জেল রোডের দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন রাতে তাঁর কিডনি থেকে পাথর অপসারণ করার জন্য অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালে কর্মরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ফোরকান আহমদ। অস্ত্রোপচারের পর থেকে হাজেরার তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। কয়েক দিন পরও অবস্থার উন্নতি না হলে গত শুক্রবার তাঁকে আবার ওই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ওই চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের জানান, পাথর অপসারণের সময় রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তিনি একটি কিডনি কেটে ফেলেন।
হান্নান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিডনি কাইট্টা ফেলার আগে চিকিৎসক আমারে কিছু জানায় নাই। তিনি অভিযোগ করেন, কিডনি কেটে ওই ক্লিনিকের মালিক ও ওই চিকিৎসক তা অন্য কোথাও বিক্রি করেছেন।
তবে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ফোরকান আহমদের মুঠোফোনে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ক্লিনিকের অন্যতম অংশীদার শাহীনুল হাসান দাবি করেন, কিডনি ফেলে দেওয়া হতে পারে, এমন জানিয়েই চিকিৎসক ওই নারীর অস্ত্রোপচার করেন।
সূত্র - প্রথম আলো

