home top banner

News

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী: মায়ের বুকজুড়ে এখনো পুত্রশোক
19 July,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   26

একটি বছর পার হয়ে গেল। সময় নাকি সব শোক ও বেদনার উপশম করে, কিন্তু ছেলে হারানোর শোক ঘোচাতে পারেনি মায়ের বুক থেকে। ছেলের কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে আয়েশা ফয়েজ বলছিলেন, ‘আমার ৮৩ বছর বয়স। আমি বেঁচে আছি। অথচ ৬৪ বছর বয়সে আমার ছেলে আমাকে ছেড়ে গেল। শেষ জীবনে কত কষ্ট পেয়ে গেল। এই বয়সে ছেলে হারানোর শোক যে কত কঠিন, তা বলা যায় না। জীবনে তো আমি ঝড়ঝাপটা কম সহ্য করিনি। কিন্তু এখন আর আগের মতো শক্তি-সামর্থ্য নাই।’ কথা বলতে বলতে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল তাঁর।
গত বছরের এই দিনে পৃথিবীর আলো-ছায়া, মায়া-মমতার বন্ধন ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালে তাঁর অন্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়লে পরের বছরের মাঝামাঝি সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি আর ফেরেননি। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মরদেহ ঢাকায় আনার পর ২৪ জুলাই গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামে তাঁর প্রিয় নুহাশপল্লীর লিচুতলায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাঁকে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া গ্রামে তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুরের বাড়িতে কথা হচ্ছিল হুমায়ূন আহমেদের মায়ের সঙ্গে। ছোট ছেলে আহসান হাবীবের সঙ্গে তিনি এই বাড়িতে থাকেন। ঘরে হুমায়ূন আহমেদের একটি বাঁধানো ছবি। ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে তিনি বলছিলেন গত একটি বছর তাঁর পুত্র হারানোর শোক-দুঃখের কথা। শরীর খুবই দুর্বল। কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। তার পরও গত একটি বছর প্রতি মাসেই অন্তত একবার তিনি নুহাশপল্লীতে গেছেন, কোনো কোনো মাসে একাধিকবারও। বলছিলেন ‘মন খুব অস্থির হলে নুহাশপল্লীতে যাই। নিজে তো এখন আর একা একা চলাফেরা করতে পারি না। শাহিন (আহসান হাবীব) সঙ্গে নিয়ে যায়। কখনো কখনো মেয়েরাও নিয়ে যায়। আল্লাহর কাছে ছেলের জন্য দোয়া করি। এ ছাড়া আর কী করব।’
কথায় কথায় আয়েশা ফয়েজ জানালেন, নুহাশ ও তাঁর বড় দুই বোন, তাদের মা গুলতেকিন খান তাঁকে দেখতে আসেন। নিনিত, নিষাদকে নিয়ে মা মেহের আফরোজ শাওন আসেন। বাচ্চা দুটোর কাছে তাঁর থাকতে ইচ্ছা হয়। কিন্তু অসুস্থতার জন্য পারেন না। বলছিলেন ‘ওরা ছোট মানুষ একা আসতে পারে না। আমিই কারও সাথে গিয়ে মাঝে মাঝে ওদের দেখে আসি। তবে থাকি না। আমি তো জানি এই বাচ্চা দুটোকে মানুষ করা কত কঠিন। তার ওপর অসুস্থ শরীর নিয়ে ওদের কাছে গিয়ে বোঝা হয়ে থাকতে ইচ্ছা হয় না।’ ছেলের প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠটি যদি সরকারীকরণ করা হতো তাহলে একটু স্বস্তি পেতেনে বলে জানালেন।
ছেলে নেই, তাঁর লেখা বইয়ের মধ্য দিয়ে ছেলের উপস্থিতি অনুভব করার চেষ্টা করেন। সব শেষে পড়েছেন হুমায়ূনের শেষ উপন্যাস দেয়াল। বইয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই বললেন, ‘আগে ভারতীয় লেখকদের বই পড়তাম। ছেলে লেখক হওয়ার পর ছেলের বই-ই বেশি পড়েছি। ওর কোনো নতুন বই বের হলেই আমাকে এসে দিয়ে যেত। কখনো ব্যস্ত থাকলে কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিত। ও বলত—আম্মা আমার বই না পড়লে আমার ঘুম আসবে না।’
আজ শুক্রবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশপল্লীতে যাবেন না তিনি। বাদ আসর বাড়িতে মিলাদ মাহফিলে আয়োজন করেছেন। বলছিলেন ‘কাল (আজ) তো অনেক লোকের ভিড় হবে। ভিড়ের মধ্যে যেতে আমার ভালো লাগে না। কয়েক দিন পরে যাব। দেশের অনেক মানুষ আমার ছেলের জন্য দোয়া করছেন। আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার ছেলের জন্য সবাই আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।’
এদিকে আজ হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বইয়ের প্রকাশকেরা নুহাশপল্লীতে গিয়ে বাদ জুমা কবর জিয়ারত ও দোয়া খায়ের করবেন। এ ছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে মেহের আফরোজ শাওন সকাল থেকেই কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন। এলাকার চার শতাধিক এতিম ও দুস্থকে ইফতারির দাওয়া দেওয়া হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ যেমন রোজার সময় নুহাশপল্লীর মাঠে সবাই মিলে ইফতার করতে পছন্দ করতেন, তেমনিভাবেই মাঠে ইফতারির আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া কাল শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় ধামন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রকাশকেরা স্মরণসভার আয়োজন করেছেন।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হুমায়ূন ভক্তরা নুহাশপল্লীতে আসছেন তাঁদের প্রিয় লেখকের কবরে দোয়া করতে। নুহাশপল্লীর লিচু তলায় শায়িত লেখকের করবস্থানে এখন কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চলছে। দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা দরজা তৈরি করা হয়েছে, যাতে মূল পল্লিতে না প্রবেশ করেই লেখকের কবরের কাছে যেতে পারেন তাঁর ভক্তরা। ইতিমধ্যে সাদা মারবেল পাথরে বাঁধাই করা হয়েছে কবরের মূল বেদি।
মেহের আফরোজ শাওন জানান, হুমায়ূন আহমেদ নিজের মতো করে নুহাশপল্লীর বাসিন্দাদের নিয়ে রোজা উদ্যাপন করতেন। শুক্রবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী রোজার মধ্যে পড়ায় লেখকের রোজা উদ্যাপনের পুরোনো সেই ঐতিহ্যকেই অনুসরণ করতে চাইছেন তাঁর কর্মীরা।
নেত্রকোনা ও কেন্দুয়া প্রতিনিধি জানান, হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘নেত্রকোনাবাসীর’ আয়োজনে শোক, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে নেত্রকোনার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোক শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে হুমায়ূন আহমেদের জীবন ও কর্ম নিয়ে শহরের উন্মেষ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া মোহনগঞ্জে লেখকের মামার বাড়িতে চয়নিকা মহিলা পাঠাগারের উদ্যোগে আজ শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। লেখকের পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কুতুবপুরেও তাঁর প্রতিষ্ঠিত শহীদ সঞ্চৃতি বিদ্যাপীঠেও আলোচনা এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হবে।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: Pharmacist held on charge of medicine theft
Previous Health News: খাবারে কীটনাশক ছিল: চিকিৎসক

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')