home top banner

News

আত্মহত্যার কারণ হতে পারে ফোবিয়া
23 June,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   43

কীর্তিমান কৌতুকাভিনেতা ও সুবক্তা মাইকেল প্রিচার্ডের একটি মজার উক্তি দিয়ে শুরু করলে যা দাড়ায় “শঙ্কা বা ভীতি সেই ঘুঁপচির অন্ধকার কক্ষে আপনাকে নিয়ে যেতে পারে যেখানে একের পর এক কেবলই অজানা ও অচেনা ভয়  শাখা গজিয়ে আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরবে।‍‍” আর ফোবিয়া বা এই শঙ্কারোগ বা ভীতিরোগ  হলো সেই শাখাবিস্তৃত বৃক্ষ।

 
ফোবিয়া গ্রিকশব্দ ফিকস, ফোবস শব্দ থেকে এসেছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে একে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী সর্বাধিক বিস্তৃত মানসিক রোগ বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। একটি সাধারণ জরিপে দেখা গেছে আমেরিকার জনগণের শতকরা ৫.১ থেকে ২১.৫ হারে এ ধরনের গোপন ব্যাধি নিয়ে জীবন-যাপন করছে। এর পরিমাণ ইউরোপে এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেশি বৈ কম নয়।
 
প্রতিটি মেয়ের ক্ষেত্রে গড়ে একটি করে হলেও এ ধরনের প্রতিবন্ধতার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
 
আসলে এই ফোবিয়া কী ধরনের সমস্যা বয়ে বেড়ায়? (বস্তুত রোগী হিসেবে আমরা সবাই মনে করে থাকি প্রতিটি রোগ বিভিন্ন জীবানুবহনকারী বিনাশ বয়ে বেড়ায়)
 
ফোবিয়া আমাদের মনের আবেগকে আলোড়িত করতে পারে এমন একটি বিশৃংখল এবং অতিমাত্রার ভয় বা উদ্বেগ সৃষ্টিকারী অবস্থা বিশেষ। সাধারণত ভয় তখনই ফোবিয়া হিসেবে আগমন করে যখন এর কোন প্রত্যক্ষ যুক্তি থাকে না।
 
এটি দুশ্চিন্তালালিত রোগ যা মস্তিস্ক বিকৃতির জন্য যেমন হয় না তেমন অতি সাধারণ সমস্যা ভেবে প্রতিকার করাও যায় না। ভয় বা শঙ্কাকে পুঁজি করে জীবনপ্রেমী মানুষ এই ধরনের আতঙ্কের আবছায়া থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে তার স্বস্তিময় বা বৈচিত্র্যময় জীবনকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে অথবা বেঁচে থাকার অংকে ভাগশেষ মেলাতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
 
তবে হ্যাঁ, আশার কথা হলো সব বয়সেই চাইলে এ শঙ্কা বা আতঙ্কের রোগটিকে আমরা জয় করতে পারি।  
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের জরিপে প্রায় ২ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোন না কোন ফোবিয়ায় আক্রান্ত।
 
ফোরবিজ ম্যাগাজিনের একটি আর্টিকেলে ‘আমাদের সর্বাধিক প্রচলিত ভয়’ শিরোনামে ৯টি বিশেষ আতঙ্ককে প্রাধান্য দিয়ে বিশেষ সমীক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে আর্চনোফবিয়া বা মাকড়সাভীতি আছে এমন মহিলার সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ এবং পুরুষের সংখ্যা শতকরা ১০ ভাগ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
 
অপর আরেকটি প্রচলিত আতঙ্কের নাম সোস্যালফবিয়া বা সামাজিক হেনস্থাভীতি অনেকের মাঝে রয়েছে।
 
এছাড়া আরও কিছু ফোবিয়া বা ভীতি রয়েছে যেমন
 
    অফিডিও ফোবিয়া: সর্পভীতি
    সাইনোফোবিয়া : কুকুরভীতি
    এরোফোবিয়া: উড্ডয়নভীতি(এরোপ্লেনে চড়ার প্রতি ভয়)
    ক্লাসট্রোফোবিয়া: আবদ্ধ বা সংকীর্ণস্থানে আটকে মরার ভয়
    একরোফোবিয়া: উচ্চতাভীতি
    হাইড্রোফোবিয়া বা একুয়াফোবিয়া: জলভীতি
    আর্সনফোবিয়া:অগ্নিভীতি
 
এমন কতগুলো ফোবিয়া আছে যা মানুষ তা সহজাত বা স্বাভাবিক বলে মেনে আসছে অথচ তা মানুষের মানসিক উদ্বেগকে প্রশমিত হতে বা স্বস্তি প্রদানে বাধা দিচ্ছে।
 
    এন্ড্রোফোবিয়া(মহিলাদের পুরুষভীতি)
    গ্লসোফোবিয়া(জনগনের সামনে দাড়িয়ে বক্তব্য প্রদানের প্রতি ভীতি)
    এনোক্লোফোবিয়া(ভীড়ভীতি)
    এজিরো ফোবিয়া (রাস্তাভীতি বা রাস্তা পার হওয়া নিয়ে আতঙ্ক)
    এস্ট্রাপো ফোবিয়া (বজ্রপাতভীতি)
 
অটোফোবিয়া বা একাকীত্বভীতিকে অতি স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক ব্যাপার বলে মনে করে থাকি তবু মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু পারিবারিক বিধি, বংশানুক্রম এবং কিছু মস্তিস্কসংক্রান্ত সমস্যাতাড়িত হয়ে মানুষ এরকম আশংকাময় পরিস্থিতিতে পড়ে।
 
২০০৬ সালে হার্ভাড মেডিকেল স্কুলের এক সমীক্ষা থেকে জানা যায় লিঙ্গভেদে এ ফোবিয়ার পরিসংখ্যান ভিন্ন এবং বৈচিত্র্যময়। সমীক্ষায় আলোচিত হয় যে কিছু হরমোনগ্রন্থির হরমোন উপস্থিতি এবং তা নি:সরনের ভিন্নতার কারণেই মূলত এই পরিসংখ্যানের ভিন্নতা রয়েছে।
 
আর সে কারণেই
 
    নারীদের উদ্বেগসন্ত্রস্ততা বা সামাজিক নিরাপত্তাভীতি কোনো না কোনোভাবে পুরুষদের চেয়ে দ্বিগুন
    আবার পরুষদের চেয়ে নারীদের এগোরা ফোবিয়া বা জনগনের মুখোমুখি হবারভীতি তিনগুনের চেয়েও বেশি
    যেখানে মাত্র ৫-৬ শতাংশ পুরুষ দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ সামাল দেয় সেখানে ১০-১৪ শতাংশ নারী তা করতে পারে
 
পরিশেষে ফোবিয়ার রাহুগ্রাসমুক্ত হবার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কাছে এর সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা চারটি মূল সমাধানের পথ বাতলে দেন
 
    কাউন্সিলিং
    মেডিটেশন
    সাইকোথেরাপি
    কগনিটিভ বিহেবিয়ার থেরাপি
 
একটি কথা বলব, নিজের ভেতরের ফোবিয়ার জাল বিস্তার বন্ধ রাখতে সমস্যাটি গোপন না রেখে সবার সাথে শেয়ার করুন। বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজনকে জানাতে না পারলে আপনার বন্ধু কারখানা ফেসবুকের দেয়ালে লিখে সবার সাথে শেয়ার করুন, তাতে সমস্যার ৫০ ভাগ অবলীলায় দূরীভুত হবে। সবার সঙ্গে সুস্থ বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। ভাল থাকুন।
 
 
সূত্র - বাংলা নিউজ ২৪

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: যদি হয় গেঁটেবাত, জীবন হবে বরবাদ
Previous Health News: ‘Third-Hand’ smoke causes chronicle damage to human DNA

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')