যদি হয় গেঁটেবাত, জীবন হবে বরবাদ
23 June,13
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 55
গেঁটেবাত আমাদের দেশের অনেক মানুষের একটা সাধারণ সমস্যা। যারা সাধারণত একটু বসে থাকার কাজ করেন বা একটু অলস ধরনের তাদের ক্ষেত্রে গেঁটেবাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। প্রবাদ আছে যদি হয় গেঁটেবাত, জীবন হবে বরবাদ। তবে সামান্য কিছু পরামর্শ (টিপস) মেনে চললে জীবন আর বরবাদ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে না।
গেঁটে বাত কেন হয়
আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান ইউরিক এসিডের স্তর সম্পর্কে আমরা অনেকেই যথেষ্ট সচেতন নই। কিন্তু এই ইউরিক এসিডের আধিক্যই আমাদের শরীরে তৈরী করতে পারে গেঁটেবাত। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা হাড়ের সংযোগস্থলের টিস্যুগুলোতে দানা তৈরী করে যা বাতের ব্যাথাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
মুক্তির উপায়
যন্ত্রণাদায়ক গেঁটেবাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ও রয়েছে। কোন প্রকার চিকিৎসা নয় বরং বেশকিছু খাবারই গেঁটেবাতের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আমাদের দেহে ইউরিক এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে। জেনে নেয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে-
আনারস
আনারসে যথেষ্ট পরিমাণে ব্রোমেলেইন রয়েছে। এই এনজাইম ব্যাথারোধক হিসেবে কাজ করে। ফলশ্রুতিতে আনারস গেঁটেবাতের ব্যাথা থেকে আরাম দিতে বেশ কার্যকরী।
আদা
এক গবেষণায় আদার মধ্যে সেইসব যৌগ সহজলভ্য বলা হয়েছে যেগুলো ইউরিক এসিডের কারণে প্রদাহ রোধে সাহায্য করে। এক ধারাবাহিক গবেষণাই আদাকে প্রদাহ রোধক বলে আখ্যা দিয়েছে।
হলুদ
গেঁটেবাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকায় হলুদও রাখতে পারেন সবাই। কারণ প্রাকৃতিক গুণের কারণেই হলুদ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গেঁটেবাতের রোগীদের জন্য হলুদকে আশীর্বাদ বলা হয়।
চেরি ফল
প্রচুর পরিমাণে ফল গেঁটেবাতের জন্য ভাল। বিশেষত চেরি ফল গেঁটেবাত কমানোর জন্য খুবই উপযোগী। শুধুমাত্র ইউরিক এসিড বৃদ্ধি কমানোর পাশাপাশি গেঁটেবাত হওয়ার সবধরণের সম্ভাবনাও কমিয়ে আনে চেরি ফল। তাছাড়া ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদন বলছে চেরি ফলের জুস গেঁটেবাত নিরসনে বেশ বড় ভূমিকা রাখে।
কলা
বারমাসি এই ফলে স্বল্প পরিমাণে সুগার রয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই পটাশিয়াম ও আলকালাইন রয়েছে, সবমিলিয়ে কলা বাত প্রতিরোধে সহায়ক খাদ্য হিসেবেই পরিচিত। হলদে এই ফল উচ্চপটাশিয়াম সমৃদ্ধ বলে বাত প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া এটি ইউরিক এসিডে কারণে হওয়া দানাগুলো ভেঙে দেয় ফলে গেঁটেবাতের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।
দুগ্ধজাত খাদ্যসামগ্রী
গেঁটেবাতের প্রশ্নে নারীর চাইতে পুরুষ অনেক এগিয়ে। গড়পড়তা নারীদের চাইতে পুরুষরাই এই রোগে আক্রান্ত হন বেশি। তবে কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেলে গেঁটেবাতের সম্ভাবনা শতকার ৫০ ভাগ কমে আসে।
জলজ উদ্ভিদ
কলমী শাক, শালুক প্রভৃতি জলজ উদ্ভিদে প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও ভিটামিন থাকে। তাছাড়া এ ধরনের জলজ উদ্ভিদ কিডনির জন্য উপকারী, এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড দূরীভূত হয়।
সবকিছুর পরও নিজের ওজনের দিকে নজর দিতে হবে প্রত্যেককে। অ্যালকোহলিক পানীয় পান থেকেও বিরত থাকতে হবে। যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়। প্রভৃতি নিয়ম মেনে চললে দেহে ইউরিক এসিডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
Source - Poriborton.com