প্রথমবারের মতো মানবমস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ডিজিটাল মডেল বা মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। জার্মানি ও কানাডার বিজ্ঞানীরা গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বিগ ব্রেন’ নামের এই মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে মস্তিষ্ক নিয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম গবেষণা আরও ফলপ্রসূ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানবমস্তিষ্কের একাধিক মডেল আগেও তৈরি করা হয়েছে। তবে বর্তমান মডেলটি তুলনামূলক ৫০ গুণ বেশি বিস্তারিত বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে আণুবীক্ষণিক পর্যায় পর্যন্ত গবেষণার মাধ্যমে স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমারস থেকে পার্কিনসনস) রোগসহ মস্তিষ্কের অন্যান্য জটিলতার বিস্তারিত গবেষণা সহজতর হবে।
থ্রিডি মডেল তৈরিসংক্রান্ত গবেষণাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স সাময়িকীতে। এ গবেষণায় একজন মৃত নারীর (৬৫) মস্তিষ্ক ব্যবহার করা হয়। এটি চুলের মতো পাতলা (২০ মাইক্রন) করে সাত হাজার ৪০০ টুকরো করা হয়। এরপর গঠন স্পষ্ট করে তুলতে প্রতিটি টুকরোতে রঞ্জক পদার্থ দেওয়া হয়। তারপর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রে (স্ক্যানার) বিশ্লেষণ করে সেই টুকরোগুলোর ছবি কম্পিউটারে নেওয়া হয়। সব শেষে স্ক্যান করা টুকরোগুলো সংযুক্ত করে তৈরি করা হয় উচ্চ রেজল্যুশনের থ্রিডি ডিজিটাল মডেল। এই প্রক্রিয়ায় আট হাজার কোটি স্নায়ুকোষ (নিউরন) নিয়ে কাজ করতে গবেষকদের সময় লেগেছে ১০ বছর।
‘বিগ ব্রেন’ তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জার্মানির জুলিচ আচেন রিসার্চ সেন্টারের গবেষক কাটরিন অ্যামিউন্টস বলেন, মস্তিষ্কের অতি উচ্চ-রেজল্যুশনের ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল মডেলটি পৃথিবীর ডিজিটাল মানচিত্রের (গুগল আর্থ) মতোই ব্যবহার করা যাবে। এটির সাহায্যে মস্তিষ্কের অনেক বিশদ ছবি দেখা যাবে, যা আগে সম্ভব ছিল না।
অপর দিকে কানাডার মন্ট্রিয়লে অবস্থিত ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যালান ইভানস বলেন, এই মডেল ব্যবহার করাটা অনেকটা মস্তিষ্কে ভ্রমণের মতো। ‘বিগ ব্রেন’ ব্যবহার করে মস্তিষ্কের বিশেষ অংশের কার্যক্রমের বিস্তারিত ছবি দেখা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপে সম্প্রতি মস্তিষ্ক গবেষণায় বিপুল অঙ্কের অর্থায়ন করা হয়েছে। মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব গবেষণায় ‘বিগ ব্রেন’ ব্যবহার করে যুগান্তকারী সাফল্যের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা।
সূত্র - প্রথম আলো

