home top banner

খবর

ভাইরাস কাবু করতে নতুন উদ্যোগ
১২ জুলাই, ১৪
Tagged In:  tackle the virus  virus   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   23

tackle-the-virus

চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যাপক উন্নতি ঘটে চললেও ভাইরাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষ যেন তেমন সাফল্য পাচ্ছে না। এই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করতে পারে নতুন এক ওষুধ, যা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে তাকে অকেজো করে তোলে।


শতাব্দীর শুরুতে বিশেষজ্ঞরা লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন। এশিয়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ফুসফুসের রোগ সার্স। এক অজানা করোনা-ভাইরাস ছিল তার উৎস। ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই রোগে প্রায় আটশ’ মানুষের মৃত্যু হয়, আট হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হন। সার্স নিরাময়ের উপায় আজও জানা যায়নি।

জার্মানির বন ও মিউনিখ শহরের ভাইরোলজিস্টদের এক দল এবার এমন এক ওষুধ আবিষ্কার করেছে যা শুধু সার্স-এর বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে না, সাইকোস্পোরিন নামের এই ওষুধ নানা রকমের করোনা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে। ভাইরাস মোকাবিলার ক্ষেত্রে এমনটা আগে সম্ভব হয়নি।

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের ড. মার্সেল ম্যুলার বলেন, ‘সাইকোস্পোরিন বিভিন্ন ধরনের করোনা ভাইরাসকে কাবু করতে পারে। একদিকে রয়েছে সার্স ও ম্যার্স-এর মতো বিপজ্জনক ভাইরাস, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক। আছে নানা রকমের সর্দির ভাইরাস, শীতকালে যা ছড়িয়ে পড়ে। সাইকোস্পোরিন সেগুলোকেও পরোক্ষভাবে কাবু করতে পারে।’

ভাইরাসের উপর সাইকোস্পোরিন-এর যে প্রভাব সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে, গবেষণাগারে তা হাতেনাতে দেখানো সম্ভব।
ড. ম্যুলার বলেন, ‘সংক্রমিত যে কোষগুলো রয়েছে, তাতে ভাইরাসের উপর সবুজ রং লাগানো হয়েছে। সাইকোস্পোরিন যোগ করলে কোষগুলির রং ফিকে হয়ে আসে। অর্থাৎ কোষে আর সংক্রমণ ঘটে না।’

এটা কী ভাবে ঘটে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় জানা গেছে। ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে তার বাহকের শরীরের নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন ব্যবহার করে। এখানে তার রং নীল। তাদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন হলো সাইকোফেলিন।
মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আলব্রেশ্ট ফন ব্রুন বলেন, ‘সাইকোফেলিন-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অন্য প্রোটিনকে ঠিকমতো ভাঁজ হতে সাহায্য করা। মজার কথা হলো, ভাইরাল প্রোটিন ঠিকমতো ফোল্ড না হলে ভাইরাস বাড়তে পারে না।’
সাইকোস্পোরিন-এর মতো ওষুধ যদি সাইকোফেলিন আটকে দেয়, তখন তা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে না। আক্রান্ত কোষে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ বা পশু সুস্থ থাকে। তবে ওষুধ যখন, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তো থাকবেই।

ড. ম্যুলার বলেন, ‘সাইকোস্পোরিন-এর ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো ইমিউন সিস্টেম-এর উপর চাপ। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ভাইরাস সংক্রমণের সময় এটা ঘটলে তার প্রভাব থেকে যায়।’

এর পরের ধাপ হলো সাইকোস্পোরিন-এর অণু এমনভাবে পরিবর্তন করা, যাতে তা ভাইরাসের মোকাবিলা করতে গিয়ে ইমিউন সিস্টেমের উপর চাপ সৃষ্টি না করে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হয়েছে। ড. ব্রুন বলেন, ‘সাইকোস্পোরিন ডেরিভেটিভ সত্যি মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রথমে অবশ্যই পরীক্ষামূলকভাবে, হেপাটাইটিস সি-র ক্ষেত্রে। দেখা গেছে, ডেরিভেটিভ প্রয়োগ করে তার বংশবৃদ্ধি হয় আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।’

নতুন এই চিকিৎসা সব রোগীর নাগালে আনতে আরো কয়েক বছর সময় লাগবে। নতুন ও বিপজ্জনক ভাইরাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নতুন এই প্রক্রিয়া বিপ্লব আনতে পারে। 

সূত্র: ডিডব্লিউ

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: জ্বর কমানোর ঘরোয়া টোটকা
Previous Health News: যৌনসক্ষমতা বাড়ায় পেঁয়াজ

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')