চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে জুড়ে রয়েছে প্রযুক্তি। চিকিৎসার কাজে মানুষের দেহে প্রযুক্তির নানা যন্ত্রপাতি আজীবনের জন্য ঠাঁই করে নিয়েছে। পেসমেকারের মতো যন্ত্রগুলো দেহের অভ্যন্তরে কাজ করে যায় ব্যাটারির মাধ্যমে। তাই এগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক জানান, তারা এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যা দিয়ে তার ছাড়াই দেহের ভেতরের এই যন্ত্রগুলোকে চার্জ দেওয়া যাবে। এর ফলে পেসমেকারসহ নার্ভ সিস্টেমে ব্যবহার্য বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে চার্জ দেওয়া যাবে।
প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে গবেষক দলের প্রধান আদা পুন বলেন, দেহের এসব যন্ত্রে ব্যবহার্য বড় বড় চার্জার সিস্টেমের কবল থেকে বাঁচবেন সবাই। তা ছাড়া নতুন এই উদ্ভাবনের ফলে এখন দেহের অন্যান্য সমস্যার সমাধানও করা যেতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানী পুন আরো জানান, এখন দেহের এসব যন্ত্রগুলোকে যতটা ছোট সম্ভব বানানোর গবেষণা শুরু করা হবে। এসব ছোট আকারের যন্ত্র এবং তারবিহীন চার্জারের উদ্ভাবন পুরনো ব্যথাসহ দুরারোগ্য কিছু অসুখের চিকিৎসায় ভালো কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।
তারবিহীন মোবাইল চার্জারের মতো এই ইলেকট্রিক যন্ত্র কাজ করবে। এগুলো নিরাপদে নিখুঁতভাবে দেহে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ পাঠাবে। বেশি দৈর্ঘ্যের ওয়েভগুলো অনেক দূর যেতে পারে। কিন্তু তারা দেহের বিভিন্ন টিস্যুতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ক্ষতিহীনভাবে তাপ উৎপন্ন করে যা শুষে নেয় দেহ। তবে এর আগে বিভিন্ন চিকিৎসায় কম দৈর্ঘ্যের ওয়েভ ব্যবহার করা হয়েছে।
এই দুই দৈর্ঘ্যের ওয়েভ নিয়ে গবেষণা করে এমন এক মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে যা মাধ্যমে দুই দৈর্ঘ্যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিভ ওয়েভ মিলে মাঝামাঝি দৈর্ঘ্যের ওয়েভে পরিণত হয়। এই দুই ওয়েভের সংমিশ্রণ একটি নির্দিষ্ট স্থানে চার্জ দেওয়া যায়। একটি চালের সমান পেসমেকার বানিয়ে তাকে সফলভাবে চার্জ দেওয়া গেছে এই পদ্ধতিতে। কাজেই এই ক্ষুদ্র যন্ত্রটি যদি দেহে স্থাপন করা যায় তবে তাকে একইভাবে চার্জ করা যাবে।
স্ট্যানফোর্ডের নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট মনে করছে, এই গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানে মাইক্রো প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বার উন্মোচন করবে। আর এর সুফল খুবি শিগগিরই ভোগ করবে মানবজাতি।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

