home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

জেনে নিন গর্ভধারনের খুঁটিনাটি – পর্ব ২
১১ এপ্রিল, ১৩
বিষয়টি বাংলাতে পড়ুন
Tagged In:  pregnancy care  pregnancy step  
  Viewed#:   1789

getting-pregnantজরায়ুতে ভ্রুন স্থাপনকালীন রক্তপাত
সাধারনত গর্ভধারনের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সচারচর রক্তপাত হতে দেখা যায়। এটি সম্পূর্ন স্বাভাবিক। নিষিক্ত ডিম্বানুটি জরায়ুতে প্রতিস্থাপনকালীন এই রক্তপাত ঘটে। স্বল্পেস্থায়ী এই রক্তপাত মাসিককালীন রক্তপাতের চাইতে হালকা ১/২ দিনব্যাপি মাসিক রক্তপাতের মতই হয়ে থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই রক্তপাত নাও হতে পারে আবার কেউ কেউ খেয়ালও করেন না। অনেক সময় মাসিক ভেবে অনেকে ভুল করেন। এমনটি হলে বাচ্চা প্রসবের সঠিক সময় নির্ধারনে ভুল হতে পারে। জরায়ুতে ভ্রুন স্থাপনকালীন রক্তপাত আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং এর জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে রক্তপাত যদি দীর্ঘসময়ব্যাপি হয় এবং যদি মনে হয় এটি জরায়ু কিংবা যোনী সংক্রান্ত কোন রক্তপাত, তাহলে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্লাসেন্টা বা অমরা বা গর্ভফুল
পুরো গর্ভকালীন সময় জুড়ে গর্ভফুল গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। ভ্রুনের সাথে মাতৃদেহের সংযোগ স্থাপনকারি জরায়ুর এই গর্ভফুল মায়ের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি শিশুর দেহে সরবরাহ করে এবং শিশুর রক্তের অপ্রয়োজনীয় অংশ সরিয়ে নেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভফুল জরায়ুর উপরের অংশে কিংবা পার্শ্বে স্থাপিত থাকে।

বিভিন্ন কারনে এই গর্ভফুলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনটি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সম্ভবপর হয় না।

যার মধ্যে মায়ের বয়স। সাধারনত ৪০ বছরের অধিক বয়সে গর্ভধারনের ক্ষেত্রে এধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোন কারনে বাচ্চার থলি বা amniotic sac এর গাত্রে ছিদ্র হলে বা প্রসবের পূর্বে ভেংগে গেলে গর্ভফুলের ক্ষতি হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারনেও ক্ষতি হতে পারে।

আবার জমজ বা একাধিক বাচ্চা ধারনেও গর্ভফুল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যেসব মায়ের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবনতা থাকে তাদের ক্ষেত্রে গর্ভফুলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলো ছাড়া আরো যেসব কারনে গর্ভফুলে সমস্যা বা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে তার মধ্যে আছে পূর্বে যদি জরায়ুর অপারেশন হয়ে থাকে, আগের গর্ভধারনের ক্ষেত্রে যদি গর্ভফুলের সমস্যা হয়ে থাকে, গর্ভবতি মা যদি গর্ভকালীন সময়ে ধুমপান, নেশাদ্রব্য সেবন করে থাকে, পেটের কোন আঘাত ইত্যাদি কারনে গর্ভফুলে ছিদ্র, ভেংগে যাওয়া, ইনফেকশন হতে পারে।

গর্ভফুলের সমস্যাগুলোকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ placenta previa এবং placenta accreta. আর এই দুই ক্ষেত্রেই প্রচুর রক্তপাত হতে পারে এবং আগেভাগেই ডেলিভারী বা সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

যদি যোনীপথে রক্তপাত, পেটে ব্যাথা, অসহ্য পিঠে ব্যাথা, ঘন ঘন প্রসাব হওয়া ইত্যাদি লক্ষন দেখা দেয়, তবে দেরী না করে অতি সত্ত্বর ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন।

বমি বা বমিভাব
বমি বা বমিভাব সাধারনত গর্ভধারনের প্রথম তিনমাসে দেখা দিতে পারে। এগুলোকে অবশ্য morning sickness বলে যা স্বাস্থ্যকর গর্ভধারনের লক্ষন হিসাবে বিবেচিত। নিষিক্ত ডিম্বানু জরায়ুতে স্থাপিত হওয়ার পর পরই মাতৃদেহে Human Chorionic Gonadotropin (HCG) নামক হরমোন নিঃসরন হতে থাকে। যা কিনা গর্ভধারনের জন্য অপরিহার্য এবং এর প্রভাবেই বমি বা বমিভাব দেখা দেয়।

এছাড়া বমি বা বমিভাবের অন্যান্য মতগুলো হচ্ছে ভ্রুন বা শিশুর দেহ কর্তৃক খাবার ক্ষতিকর বস্তু/অংশ ফিরিয়ে দেয়ার প্রভাব, বিশেষ বিশেষ খাবার বা এর উপাদান গ্রহনে উদবুদ্ধ করা যা শিশুর দেহের জন্য অপরিহার্য, শিশুর ও গর্ভবতি মায়ের দেহের নতুন নতুন কোষ-কলা তৈরীর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সাথে দেহকে খাপ খাইয়ে নেয়া ইত্যাদি।

এসব সবার ক্ষেত্রে নাও ঘটতে পারে। আর এসব লক্ষন দেখা না দিলে উদবিগ্ন হওয়ার কিছু নাই। তবে অতিরিক্ত বমি বা বমিভাব অনেক সময় কোন জটিল সমস্যার লক্ষন বলে বিবেচিত হতে পারে। অতএব দেরী না করে ডাক্তারের কাছে যান।

সৌজন্যেঃ হেলথ প্রায়র ২১

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: What is Mouth ulcers?
Previous Health Tips: Getting Pregnant Part- 1

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')