home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

কিডনি সমস্যায় নারী
২৫ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  pain problem  kidney problem  
  Viewed#:   254

woman-with-kidney-painফুটফুটে একটি মেয়ে শারমিন (২০), প্রথম সন্তানের মা হতে যাচ্ছে। নতুনআগন্তককে স্বাগত জানাতে সংসারে আনন্দসহ শতেক ব্যস্ততা। কিন্তু এর মধ্যেএকদিন বিষাদের কালো ছায়া নেমে এলো, যখন চিকিৎসক জানালেন গর্ভে বাচ্চারসমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসকের কথা মতো তড়িঘড়ি করে অপারেশন করা হলো। জানা গেলশারমিনের দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বাচ্চাটা প্রাণে বেঁচে গেল, কিন্তুমায়ের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে আইসিইউ পরে ল্যাবএইড স্পেশালাইজডহাসপাতালে ৫ম তলায় শারমিনকে ভর্তি করানো হলো। সে এখন বেঁচে আছেডায়ালাইসিসের মাধ্যমে। কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার সন্তানকে কখন কাছেপাবো?’

শারমিনের প্রতাশা তার কিডনি আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে। কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারজানান, শারমিনের মতো দুর্ভাগ্য নারীর সংখ্যা কতো, যারা এমন ব্যয়বহুলচিকিৎসার ব্যয় বহন করতে সক্ষম। এই প্রশ্নের উত্তর কারো জানা নেই। কারণ এসম্পর্কিত কোনো জরিপ পাওয়া যায়নি।

প্রতিদিন বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। জনস্বাস্থ্য সেবা অধিদফতরেরপরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি।এদের মধ্যে প্রতিবছর ৪০ হাজার লোক মারা যায়। কিডনি রোগের উন্নত চিকিৎসারজন্য প্রায় ১০ হাজার বিত্তবান মানুষ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে থাকেন।
 
কিডনি রোগের লক্ষণ
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, মাঝে মাঝে হালকা কোমর ব্যথা অনুভব করা, প্রস্রাবকরার পরও আরো প্রস্রাব করার ইচ্ছা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া অনুভব করা, বমিবমিভাব, মাঝে মাঝে জ্বর হওয়া, থার্মোমিটারে রিডিং না আসা, অনিদ্রাসহবিভিন্ন ধরনের লক্ষণ রয়েছে।

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট এবংবিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক।প্রত্যেক কিডনি রোগীই নিজেকে সুস্থ মনে করেন। শতকরা ৯৫ শতাংশ কিডনি রোগীদুটো কিডনি অকেজো হওয়ার আগে এর ভয়াবহতা ও বিপদের মাত্রা বুঝতে পারেন না।

তিনি আরো জানান, মেয়েদের সাধারণত যতদিন পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকে ততদিনপর্যন্ত তাদের কিডনি রোগ পুরুষের তুলনায় কম হয়। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে মেয়েরাকিডনি রোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন: গর্ভবতী মেয়েরা উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-অ্যাকলাম্পশিয়া, অ্যাকলাম্পশিয়া, গর্ভপাতজনিত কিডনি ফেইলিওর, প্রস্রাবে প্রদাহ, আগেকার কিডনি রোগ সক্রিয় হয়ে ওঠা ও অপারেশনজনিত কিডনিফেইলিওরে আক্রান্ত হতে পারেন। তাছাড়া মেয়েদের প্রস্রাবে সংক্রমণ ছেলেদেরতুলনায় অনেক বেশি। বাতজনিত রোগ থেকে কিডনি আক্রমণ করে। মেয়েদের ক্ষেত্রেছেলেদের তুলনায় ৯ গুণ বেশি হয়ে থাকে বলেও তিনি জানান।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই বেশির ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।রাজধানীর বাজার, ফুটপাতগুলোতে শাক-সবজি, মাছ-মাংস ও ফল দীর্ঘ সময় তরতাজারাখতে এক ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করছে। এই রাসায়নিকগুলো খুব সহজেইশরীরে ঢুকে যায়। ফলে ধীরে ধীরে মরণব্যাধি তার থাবা বিস্তার শুরু করে। পাঁচথেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা কিডনি প্রদাহে বেশি আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যেছেলেরা এ রোগে বেশি ভোগে। এছাড়াও শিশুদের একটি সাধারণ কিডনি রোগ হচ্ছেনেফ্রোটিক সিনড্রোম। এ রোগ হলে শিশুদের সমস্ত শরীর ফুলে যায়। দুই থেকে ছয়বছর বয়সী শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। এ সময় প্রস্রাবের সঙ্গে প্রচুরপরিমাণ প্রোটিন শরীর থেকে বেড়িয়ে যায়।

গর্ভবর্তী মহিলাদের উচ্চ রক্তচাপ থেকে কিডনি বিকলের আশঙ্কা
স্বাভাবিক সুস্থ মহিলাদের রক্তচাপ গর্ভবতী অবস্থায় নেমে যায়। বিশেষ করেডায়াসটলিক প্রেসার ১০-১৫ এবং সিসটোলিক ১৫-২৫ মিলিতে নেমে যায়। কাজেইগর্ভবতী অবস্থায় রক্তচাপ আগের মতো থাকলেই উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে গণ্য করতেহবে। বিশেষ করে ডায়াসটলিক প্রেসার যদি ৯০-এর উপরে থাকে তবে তা উচ্চ রক্তচাপহিসেবে গণ্য করতে হবে। গর্ভবস্থায় মহিলাদের উচ্চ রক্তচাপ চার ভাগে ভাগ করাযায়। প্রি-অ্যাকলাম্পশিয়া, অ্যাকলাম্পশিয়া, কিডনি সংক্রান্ত উচ্চ রক্তচাপ ওআহে থেকেই থাকা উচ্চ রক্তচাপ।

প্রি-অ্যাকলাম্পশিয়া ও অ্যাকলাম্পশিয়া
যে সমস্ত গর্ভবতী মহিলার গর্ভধারণের পর প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তচাপস্বাভাবিক থাকে, কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার ২০ সপ্তাহ পর হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপেআক্রান্ত হয়, সঙ্গে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নির্গত হয়, রক্তে অ্যালবুমিন কমেআসে, তাদের এই অবস্থাকে প্রি-অ্যাকলাম্পশিয়া বলা হয়। মনে রাখতে হবে দ্রুতচিকিৎসার মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ না করলে রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে গিয়ে মা ওসন্তানের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কিডনি ফেইলিওরও হতে পারে।

প্রি-অ্যাকলাম্পশিয়ার সঙ্গে যদি খিঁচুনি দেখা যায়, তবে তাকেঅ্যাকলাম্পশিয়া বলে। এটি গর্ভবতী মায়ের জন্য একটা জরুরি অবস্থা। স্ত্রী রোগও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতায় চিকিৎসা করাতে হবে।প্রয়োজনে মায়ের জীবন রক্ষার্থে গর্ভপাত ঘটাতে হবে, নয়তো নির্ধারিত আগেইবাচ্চা ডেলিভারি করাতে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে কিডনি বিকলহয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় সুস্থ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে এদের উচ্চ রক্তচাপ দেখাদিতে পারে। প্রস্রাবে অ্যালবুমিন থাকলে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাইপ্রি-অ্যাকলাম্পশিয়া ও অ্যাকলাম্পশিয়ার রোগীদের কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞচিকিৎসকের পরামর্শে থাকা উচিত।

আগে থেকে কিডনি রোগ থাকলে গর্ভবতী হওয়ার পর ঝুঁকি বেশি
কিডনি নিশেষজ্ঞরা বলেন, যাদের বিভিন্ন ধরনের নেফ্রাইটিস আছে বা যারাধীরগতির কিডনি রোগে ভুগছেন, তাদের গর্ভবতী হওয়ার পর ঝুঁকি সাধারণ মায়েদেরচেয়ে অনেক অনেক বেশি। গর্ভবতী অবস্থায় আগেকার কিডনি রোগ বেড়ে যেতে পারে।কিডনির ওষুধ সেবনের জন্য বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে, গর্ভপাতজনিত দেখা দিতেপারে, কিডনি রোগ বেড়ে গিয়ে মা ও শিশুর মৃত্যু হতে পারে। কাজেই কারো আগেথেকে কিডনি রোগ থেকে থাকলে তা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরপরামর্শ মোতাবেক গর্ভধারণ করতে পারেন। কারো যদি বাত জাতীয় কিডনি রোগ থাকে, তবে চিকিৎসা করে কমপক্ষে ৬ মাস রোগ নিষ্ক্রিয় থাকার পর কিডনি বিশেষজ্ঞেরপরামর্শ অনুসারে গর্ভধারণ করতে পারেন। যদিও এতে ঝুঁকি থেকেই যাবে। গর্ভবতীঅবস্থায প্রস্রাবে সংক্রমণের হার অনেকগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় কোনো উপসর্গছাড়াই ইনফেকশন হতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবে ইনফেকশন কিডনির অনেকক্ষতিসাধন করতে পারে, তাই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে গুরুত্বসহকারে এরচিকিৎসা করা বাঞ্চনীয়। সূত্র: বাসস

সূত্র - নূতনের বার্তা

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শীতের ধুলাবালি থেকে শ্বাসকষ্ট
Previous Health Tips: নীরব হার্ট অ্যাটাক

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')