home top banner

Health Tip

আবেগের বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ
31 October,13
Tagged In:  emotions  
  Viewed#:   247

আমাদের জীবন-যাপনের মূলে রয়েছে আবেগের বড় ধরনের প্রভাব। কথা বার্তায় ঠাসা থাকে আবেগের বিভিন্ন রূপ, বিভিন্ন উপাদান। আমরা কান্নায় ভেঙে পড়ি, ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হই, ঈর্ষায় ডুবে যাই, ঘৃণায় কুঁকড়ে থাকি অথবা উল্লাসে ফেটে পড়ি। এভাবে আবেগ বা ইমোশন আমাদের অভিজ্ঞতা, আমাদের ভালোলাগা-মন্দলাগা, আনন্দ-বেদনাকে নানা আঙ্গিক থেকে রঞ্জিত করে। আবেগহীন কাজ, আচরণ মানুষকে মানায় না। রোবটই আবেগ ছাড়া সব কাজ করতে পারে। রোবটের সাহায্যে অনেক কাজ করানো গেলেও আবেগীয় উপাদানকে কর্মোদ্দীপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বিজ্ঞানীরা এখনো ব্যর্থ বলা চলে। এ কারণেই বিভিন্ন গবেষণায় ইমোশনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ইমোশন ও মোটিভেশন পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।

প্রথমেই মোশন সৃষ্টি হয়, পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় নিয়ন্ত্রিত আচরণ। মোটিভেশনের ভেতর আছে চাহিদা আগ্রহ উৎসাহ। এ অনুষঙ্গগুলো মানুষকে লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে।ইমোশন একটি ইংরেজি শব্দ। বিজ্ঞানের ভাষায়ও শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইমোশনের বাংলা অর্থ আবেগ। আক্ষরিক অর্থে আবেগ হলো, মানুষের আলোড়িত অবস্থা। মনের বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমে জানা যায়, আবেগের রয়েছে তিনটি অংশ- ১. প্রথমবলা হয়েছে, বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা- যেমন আনন্দ, রাগ, দুঃখ, ভালোবাসা ইত্যাদি। ২. শারীরবৃত্তীয় বিশেষ আলোড়িত অবস্থা- যেমন দৈহিক পরিবর্তনের মধ্যে আছে হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। ৩. দেহ ভঙ্গিমা কিংবা মুখের পেশীয় সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে বিশেষ অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশও ইমোশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।

আবেগের প্রকারভেদ : নানা ধরনের আবেগ রয়েছে। ইমোশন প্রকাশের তীব্রতার মাঝেও রয়েছে পার্থক্য। একারণেই ইমোশনের শ্রেণীবিন্যাস করা দুরুহ কাজ। বিজ্ঞানীদের মাঝে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও নিম্নের শ্রেণী বিন্যাসটি গ্রহণ করা হয়েছে-

ইতিবাচক বনাম নেতিবাচক ইমোশন : ইতিবাচক বা পজেটিভ ইমোশনের উদাহরণ, যেমন- ভালোবাসা, আনন্দ, সুখ ইত্যাদি। ইতিবাচক আবেগ মানুষের ভালো থাকার ইন্ধন জোগায়, অন্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে। আর নেতিবাচক ইমোশনের কারণে ভালো থাকার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক জটিলতর হতে থাকে।

*প্রাথমিক বনাম মিশ্র আবেগ : প্রাথমিক আবেগের মৌলিক দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে। দুই বা ততধিক প্রাথমিক ইমোশনের যৌথ মিলনের ফলে মিশ্র আবেগের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক আবেগগুলো হচ্ছে- ভালোবাসা, সুখ, দু:খ, রাগ, বিস্ময়, ভয়, ঘৃণা, লজ্জা ইত্যাদি। পক্ষান্তরে মিশ্র আবেগহলো জেলাসি।

*বিপরীত ধর্মী আবেগ : এ গ্রুপে আছে বিপরীত মুখী আবেগের বর্ণনা। আনন্দের উল্টো পিঠে রয়েছে দুঃখ। ভালোবাসার উল্টো পিঠে রয়েছে ঘৃণা। প্রকৃতপক্ষে একই সঙ্গে দুটি অপজিট ইমোশন অনুভব করা যায়না।

*আবেগের বহিঃপ্রকাশ ও অভিব্যক্তি : মুখ ফুটে অনেক কিছুই বলার প্রয়োজন হয় না। দেহ ভঙ্গিমার মাধ্যমে অনেক সময় মানুষের মনের খবর প্রকাশ হয়ে যায়। এটিকে বলে 'বডি ল্যাঙ্গুয়েজ'।মুখাবয়বের অভিব্যক্তির ভাষা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাহির করে দেয়। বড় বড় চোখে তাকিয়ে আমরা ভয়ার্ত আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাই। এ কাজেও জড়িত রয়েছে কিছু পেশির ভূমিকা। মুখের মাঝে যে বিরক্তি ও হতাশা ভেসে ওঠে, সবই পেশির সংকোচনের সঙ্গে সম্পর্কিত।মুখের নির্দিষ্ট পেশীর সঙ্গে নির্দিষ্ট আবেগ সম্পৃক্ত রয়েছে।


সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: উৎসবের পরও সজীব
Previous Health Tips: ওজন কমাতে ৫ ধরনের পানীয়

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')