বিশ্বজুড়েসব যৌনরোগের শীর্ষে যে রোগটি সে রোগটিরই নাম সম্ভবত সিফিলিসি। এটাকে কেউকেউ উপদংশ রোগও বলে থাকেন। তবে যৌনরোগের তালিকায় এইডস রোগটি সংযুক্ত হওয়ারপর থেকে সিফিলিসের গুরুত্ব কিছুটা যেন কমে গেছে। সে যাই হোক, এটি একটিজীবাণুজনিত রোগ। যে জীবাণু দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম ট্রিপোনেমা প্যালিডাম। এজীবাণুগুলো হালকা, সরু, লম্বা ছিপির স্কুর জর মতো প্যাঁচানো থাকে, যালম্বায় ৬ থেকে ১৫ (গামা)। গরম এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এরা বসবাস করতেভালোবাসে। ফলে মুখ, পায়ুপথ এবং যৌনাঙ্গকে এরা সহজেই বেছে নেয়। ফলেযৌনমিলনের সময় ওরা একজনের দেহে প্রবেশ করে থাকে।
কি কিভাবে ছড়ায়: মূলত নারী-পুরুষের মিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে যারা সমকামীমাদের ক্ষেত্রেও ছড়ায়। কারণ পায়ুপথে এ জীবাণু থাকতে পারে। এছাড়া যারা ওরালসেক্স (মুখ পথে)-এ অভ্যস্ত তাদেরও এ রোগ হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তগ্রহণের মাধ্যমেও সরাসরি অন্যের শরীরে এ রোগের জীবাণু প্রবশে করতে পারেএছাড়াও আক্রান্ত মা থেকে গর্ভজাত শিশুর দেহে এ রোগের জীবাণুর প্রবেশ ঘটতেতথা আক্রান্ত হতে পারে।
রোগের সুপ্তিকাল : নয় থেকে নব্বই দিন পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ জীবাণু দেহেপ্রবেশে পর রোগের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিতে উপরেলি্লখিত সময়ের প্রয়োজনহয়। তবে সাধারণত ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিকউপসর্গ দেখা দেয়।
সিফিলিসের শ্রেণীবিভাগ : সিফিলিসকে মূলত দুভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।যেমন-জন্মগত অর্থাৎ আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভাবস্থায় শিশুটি যদি এ রোগেআক্রান্ত হয় তবে সেটাই হলো জন্মগত। আর অন্যটি হলো অর্জিত অর্থাৎ জন্মের সময়যে সিফিলিস রোগে আক্রান্ত ছিল না কিন্তু পরবর্তী সময় যে কোনোভাবে সে যদি এরোগে আক্রান্ত হয়, তবে সেটাই হলো অর্জিত সিফিলিস।
অর্জিত সিফিলিসকে আবার চারটি স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন প্রাথমিক সিফিলিস, সুপ্ত সিফিলিস ও তৃতীয় স্তর বা প্রান্তিক সিফিলিস।
প্রাথমিক সিফিলিস : প্রাথমিক সিফিলিসে যে ক্ষত পাওয়া যায় তাকে বলা হয়হান্টারের ক্ষত। কালজয়ী চিকিৎসক হান্টার এ ভয়াবহ জীবাণু স্বেচ্ছায় নিজ দেহেউপ্ত করে এ রোগের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। ফলেতার নামেই এ ক্ষতের নাম করা হয় ইন্টারের ক্ষত, যা এ প্রাথমিক স্তরে ছোটগুটিকা বা কুড়ি আকারের সৃষ্টি হয়। এ ক্ষতি সাধারণত যৌনাঙ্গের মুখে এবংপায়ুপথে দেখা যায় এবং সংখ্যায় সাধারণত একটি এবং বেদনামুক্ত হয়। যা থেকেপ্রথম অবস্থায় রস বের হতে থাকে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ক্ষত শুকিয়ে যায় বাযেতে পারে তবে তা পুনরায় দেখা দিতে পারে। ক্ষত শুকিয়ে যাওয়া মানে কিন্তুজীবাণুমুক্ত হওয়া নয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে এ ক্ষত বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অজ্ঞাতথেকে যায় কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ ক্ষত ব্যথামুক্ত হওয়ার কারণে যৌনেরক্ষত অনেক ক্ষেত্রেই অজানা থেকে যায়।
দ্বিতীয় স্তর বা মাধ্যমিক সিফিলিস: প্রাথমিক ক্ষত শুরু হওয়ার ৬-১.২ সপ্তাহপরে সিফিলিসের দ্বিতীয় স্তর শুরু হয়। এ সময় ত্বকের ফুসকুড়ি যা তিলকার দাগআকারে দেখা যায়। যা হাত ও পায়ের তালুতে নির্দিষ্টভাবে দেখা যায় এবং তাতেকোন চুলকানি থাকে না। পায়ু পার্শ্বস্থ এলাকায় বর্তুলাকার ক্ষত দেখা যায় যাঅত্যন্ত সংক্রামক। এই স্তরে শরীরের বিভিন্ন লথিকা গ্রন্থিগুলো ফুলে উঠতেপারে কিন্তু তা বেদনায়দক থাকে না। শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে মেরুসজ্জা রসেপরিবর্তন এবং মস্তিস্ক আবরণীতে প্রদান দেখা দিতে পারে।
সুপ্ত সিফিলিস : সুপ্ত অবস্থায় এ রোগ ২ থেকে শুরু করে ৩০ বছর পর্যন্ত এমনকিসারাজীবন তা সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। আর এ অবস্থার সৃষ্টি তখনই হয় যখন এরোগের উপযুক্ত চিকিৎসা না হয়। যেহেতু এ অবস্থায় কোন উপসর্গ থাকে না কাজেইরক্ত পরীক্ষা ছাড়া তা বোঝার কোন উপায় নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আকস্মিক রক্তেপরীক্ষায় এর ধরা পড়ে।
তৃতীয় স্তর বা প্রাম্ভিক সিফিলিস : ৫-১৫ বছর পর অচিকিৎসিত সিফলিসের মধ্যে থেকে চলি্লশ শতাংশ প্রাম্ভিক সিফলিস হিসেবে দেখা দেয়।
রোগের জটিলতা : শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বলে ৩০ শতাংশ মেয়াদি সিফিলিসপ্রাকৃতিভাবেই ভালো হয়ে যায়। তবে মেয়াদি সুপ্ত অবস্থায় তা জীবনব্যাপী থাকতেপারে যার সংখ্যাও মোটামুটিভাবে ৩০ শতাংশে রকম নয়। এর বাইরেও ১৫ শতাংশ গামাহিসেবে দেখা দেয় অর্থাৎ এক্ষত্রে রক্তনালী তথা ধমনীতে প্রদান এবং বদ্ধতাসর্বোপরি কোষ মৃত্যু ও আশাময়তা দেখা দেয়_ যার ফলে স্থানটি ফুলে ওঠে সেটাইহলো গামা। এর বাইরও অত্যন্ত গুরুত্ববপূর্ণ জটিলতা যেমন হৃদযন্ত্রের সিফিলিস (১২.৫%) যার থেকে হৃদযন্ত্রের ও মস্তিস্কের নানান সমস্যা এমনকি মৃত্যুপর্যন্ত ঘটে থাকতে পারে।
সূত্র - যায়যায়দিন

