home top banner

Health Tip

কিভাবে শিশুদের ঘুমানোকে সহজতর করা যায়
12 September,13
  Viewed#:   240

১. প্রতিদিন একই সময়ে বিছানায় যাওয়া

যদিও ছোট্ট শিশুরা সময় বলতে পারে না, তাদের দেহ তা বলতে পারে। প্রতি রাতে একই সময়ে বিছানায় যাওয়া তাদেরকে শারীরিক ভাবে এবং মানসিক ভাবে একটা ঘুমের নিয়মের মধ্যে আসতে সাহায্য করে। যদিও এ শিডিউল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং গ্রীষ্মের সময় একটু এদিক সেদিক করা যেতে পারে, তবুও ঘুমাতে যাওয়ার সময়কে একই রকম রাখতে চেষ্টা করুন। দেরিতে ঘুমালে শিশুকে আবারো তার পূর্বের স্বাভাবিক শিডিউলে ফিরিয়ে আনতে কঠিন হয়ে পরতে পারে।
 
২. TV বন্ধ করে দিন
শিশুকে বিছানায় যাওয়ার পূর্বে সহজ হতে TV ব্যবহার করবেন না। এটা দেখা গেছে যে বিছানায় যাওয়ার সময় কোনও উত্তেজনাময় বিষয়---যেমন সহিংসতা, উৎকণ্ঠা, নাটকীয়তা, বা দ্বন্দ্ব—শিশুদের জন্য বেশ উদ্দিপনাময় হয়ে উঠতে পারে। উত্তেজক অনুষ্ঠান সমূহ মানসিক চাপযুক্ত উপসর্গের কারণ হতে পার, যার ফলশ্রুতিতে ঘুমিয়ে পরতে এবং ঘুমিয়ে থাকতে সমস্যা হতে পারে। ভয়ের দৃশ্যাবলী দুঃস্বপ্নের কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে TV র খবরও ভীতিপ্রদ হতে পারে এবং শিশুকে ঘুমিয়ে পরতে কঠিন করে তোলে।
 
TV তে এমনকি শান্ত বিষয়বস্তুও ঘুমে ব্যাঘাত করে থাকে। ঘুমের সময়ে মুখের সামনে বাতির উৎস থাকলে দেহকে এটা চিন্তা করতে প্ররোচিত করে যে এখনও দিনের সময় আছে।
 
৩. একটি রুটিনের মধ্যে থাকুন
ঘুমানোর সময়ে তিনটি বা চারটি নিয়মিত কার্যক্রম শিশুকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে সাহায্য করে। একটি সাধারণ গতানুগতিক রুটিন হতে পারে গোসল করা, পাজামা পরা, দাঁত ব্রাশ করা, এবং বই পড়া। teen দের ক্ষেত্রে আপনি হয়তো তার সাথে বসতে চাইবেন এবং ঐ দিনটি সম্বন্ধে জানতে চাইবেন। Loyola University Chicago School of Medicine এর শিশু চিকিৎসাবিদ Hannah Chow, MD বলেন, “সকল বিষয়গুলি খুবই মৌলিক এবং সাধারণ রাখুন”। “একটা শান্ত রুটিন থাকা বেশ ভাল”
 
৪. একটু তাড়াতাড়ি ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করুন
পিতা মাতারা প্রায়ই বুঝে না যে আগে ঘুমাতে যাওয়ার ফল হল সহজে ঘুমাতে যাওয়া, একথা বলেন Sleep Center of the Children’s Hospital of Philadelphia এর Jodi A Mindell, PhD যিনি Sleeping Through the Night বই এর লেখিকা। তিনি বলেন “একবার শিশুরা যখন অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পরে, তাদের সুস্থির হতে অনেক সময় লাগে এবং ঘুমিয়ে পরতেও বেশ সময় লাগে”। Mindell সুপারিশ করেন যে প্রাথমিক স্কুলে যায় এমন শিশুদের রাত ৭ টা ৩০ মিঃ থেকে ৮ টা ৩০ মিঃ এর মধ্যে ঘুমানোর সময় হওয়া উচিত।
 
৫. ঘুমের সময়ের একটি চার্ট তৈরি করুন
স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি এমন শিশুদের জন্য একটি ঘুমানোর সময়ের চার্ট তৈরি করা বেশ উপকারী যাতে করে তারা দেখতে পারে যে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে তারা কি কি ধাপ অতিক্রম করছে। উদাহরণ স্বরূপ, গোসল করার, পাজামার, এবং ঠিক কয়টি বই প্রতি রাতে পড়বে তার একটি ছবি আঁকুন। Mindell বলেন, “এভাবে, আপনি যদি দুইটি বই পড়ান কিন্তু আপনার শিশু তিনটি পড়তে চায়, তবে আপনি আঙ্গুল দিয়ে চার্টে দেখিয়ে দিয়ে বলতে পারেন যে চার্টে দুইটি বইয়ের কথা দেখানো আছে”।
 
৬. একমুখী নির্দেশনা দিন
যখন আপনার শিশু তার ঘুমাতে যাওয়ার রুটিন অনুযায়ী কাজ করছে, তখন এটা নিশ্চিত করুন যে সকল কার্যক্রম যেন একমুখী হয়---বেডরুমের দিকে। উপর তলায় উঠে গোসল করা, তারপর নীচে নেমে কিচেনে গিয়ে স্ন্যাক্স খাওয়া, তারপর রুমে ফিরে গিয়ে পাজামা পরা, তারপর আপনার রুমে গিয়ে বই পড়া, এমনটি যেন কখনো না হয়। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ যে সকল কার্যক্রম যেন তার বেডরুম মুখী হয়।
 
৭. ঘুমের সময়ে ডাকলে “না” বলুন
যদি আপনার শিশু বিছানায় ঘুমাতে যেয়ে আবার কোন কিছুর জন্য বায়না ধরে----যেমন পানীয় বা আদরের জন্য---তবে একবার তা দিন। যদি সে আবারো চায়, তবে দৃঢ় ভাবে না বলার চেষ্টা করুন, সহজ ভাবে তা উপেক্ষা করুন এবং নীরবে তাকে বিছানায় রেখে আসুন। শিশুদের ঘুম বিষয়ে অভিজ্ঞ Mindell বলেন, “এভাবে সব সময় একই আচরন করলে এবং তার সীমা নির্ধারণ করে দিলে তার বার বার অনুরোধ করা বন্ধ হবে”। “এতে ভালর চেয়ে খারাপ হতে পারে, তার পিতামাতারা তা বুঝাচ্ছেন, এটা যদি শিশু জানতে পারে তবে এটা বন্ধ হবে”।
 
৮. একটা ঘুমের স্বর্গরাজ্য তৈরি করুন
শিশুর বেডরুম কে ঘুমের জন্য বেশ আরামদায়ক করে সাজান। গ্রীষ্মের সময় তাপমাত্রা শীতল রাখার এবং শীতের সময় উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা নিন। আলো নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করুন। রাতের বেলা হালকা আলোর বাতি তার আরামদায়ক অনুভুতি এনে দিতে পারে। খেয়াল রাখুন যে, তার বিছানা যেন প্রাণীদের পুতুল এবং খেলনা দিয়ে ঠাসা না থাকে।
 
৯. ফোন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলুন
আশ্চর্যজনক যে, ৪৩ ভাগ ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের বেডরুমে TV থাকে। Mindell বলেন, শিশুর রুমে কম্পিউটার, টিভি, ফোন, বা ভিডিও গেম থাকলে ঘুমানো কঠিন, কারণ সেগুলি সময়মত বন্ধ করা বেশ কঠিন। “তারা পরের পর্বে যেতে চায়, পরের পর্ব দেখতে চায়, পরের মেসেজের জবাব দিতে চায়। এটা বেশ মেতে থাকার মত এবং নেশার মত”। এর সাথে একেবারে সন্মুখে উজ্জ্বল আলো দেহের ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় ‘মেলাটোনিন’ এর উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
 
১০. ক্যাফিন (caffine) বর্জন করুন
ক্যাফিন আপনার শিশুকে এমন উত্তেজিত করে তুলতে পারে যে তার দেহকে স্থির হয়ে ঘুমানোর উপযোগী হওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একটি ১২ আউন্স কোলা তে ২৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন থাকে, কিন্তু ১২ আউন্স অরেঞ্জ সোডা বা ১৬ আউন্স সুগন্ধি বরফ চায়ে প্রায় ৪০ গ্রাম ক্যাফিন থাকে। ক্যাফিনের প্রতিক্রিয়া আপনার দেহে ছয় ঘণ্টা বা এর বেশী সময় বিরাজ করতে পারে, সুতরাং দুপুরের পরে আপনার শিশুকে ক্যাফিনযুক্ত পন্য খেতে দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
 
১১. দিনের বেলা তাকে বেশী সক্রিয় হতে দিন
লক্ষ্য রাখুন যেন আপনার শিশু দিনের বেলা যথেষ্ট পরিমাণে সক্রিয় থাকে যাতে রাতে সে ততটা শক্তিতে ভরপুর না থাকতে পারে। এছাড়াও আপনার শিশুকে দৈহিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ্য রাখতে, শরীরচর্চা শিশুকে আরও ভালভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে। শুধু খেয়াল রাখুন যেন তারা ঘুমের সময়ের ঠিক আগে সক্রিয় না থাকে। খেয়াল রাখার চেষ্টা করুন যে, আশেপাশে, ঘুরে বেড়ানো, সাইকেল চালানো, নাচা ইত্যাদি যেন তার ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে শেষ হয়।
 
১২. দিবা নিদ্রা পর্যবেক্ষণ
তিন বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত কচি বাচ্চাদের দিবা নিদ্রা স্বাভাবিক ব্যাপার। কচি বাচ্চাদের ২৪ ঘণ্টায় যে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমের প্রয়োজন দিবানিদ্রার মাধ্যমে তা পুরন হয়। ১৮ মাস বয়সের কচি বাচ্চারা সাধারণত দিনে একবার ১ থেকে ৩ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে। বিকালের পরে বাচ্চারা যেন দিবানিদ্রা না দেয় তা লক্ষ্য রাখা উচিত কারণ এতে তাদের রাতে সময়মত ঘুমানো কঠিন হয়ে পরতে পারে। শিশুরা ৫ বছরের হয়ে গেলে তাদের আর দিবানিদ্রার প্রয়োজন হয় না।
 
১৩. নিজে অপরাধী বোধ করবেন না
পিতামাতার জন্য না করা বেশ কঠিন হয়ে পরে যখন বাচ্চারা ঘুমের সময় আরেকটি বই পড়তে বা আর একটু পরে ঘুমানোর জন্য বায়না ধরে। কিন্তু মনে রাখবেন, ঘুম হল শিশুর জন্য তার চেয়ে বেশী প্রয়োজনীয়। শিশু চিকিৎসাবিদ Chow বলেন, “পিতামাতারা প্রায়ই শিশুদের বায়না মত সময়ে ঘুমাতে না দেয়ার জন্য নিজেদের অপরাধী মনে করেন, কিন্তু রাতের একটা বেশ ভাল ঘুম শিশুদের মন-মানসিকতা এবং স্বাস্থ্যের যে উন্নতি করে তা পিতামাতাকে অন্যরকম অনুভুতির সুযোগ এনে দেয়”। “শিশুর ঘুমকে নির্বিঘ্ন রাখুন। এটা সর্বোত্তম একটা কিছু যা আপনি শিশুর জন্য করতে পারেন”।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ঘর থাক পোকামাকড়হীন পরিস্কার
Previous Health Tips: Suicide Warning Signs

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')