সপ্তাহে এক দিনই হোক কিংবা মাস দুয়েকে এক বারই হোক, মাথা ব্যথা সবসময়ই কষ্টের। আর মাথা ব্যথাই কোন বিশেষ দিনের সব প্ল্যান ভেস্তে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। পৃথিবীর অনেক মানুষই প্রতিদিন বা আকস্মিক মাথা ব্যথায় ভুগে থাকেন। কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে মাথা ব্যথাকে কাবুতে আনা সম্ভব। এমনই কিছু পন্থা নিম্নে তুলে ধরা হল-
১)বুঝে শুনে খাবার খান
অনেক খাবার আছে যা মাথা ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যেসব খাবার বেক করে রান্না করা হয় এমন খাবার মাথা ব্যথার ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া আচার জাতীয় খাবার, ড্রাইড ফুডস, চিজ, সালামি এসব খাবার মাথা ব্যথার উদ্দীপক। এসব খাবার সালফাইট থাকতে পারে, যা শরীরের রক্তনালীকে প্রশস্ত করে মাথা ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। মাথা ব্যথা হবে মনে হলে এসব খাবার পরিহার করে স্বাস্থ্যকর ফলমূল খান।
২)নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন
অনেক সময় প্রতিদিনকার নির্দিষ্ট নিয়মের হেরফের হলে মাথা ব্যথা হতে পারে। তাই কখনও হঠাৎ বেশি কাজের চাপ না নিয়ে কাজ ভাগ করে প্রদিনের নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন। প্রতিদিন যে সময়ে চা কফি পান করেন ঠিক সেই সময়টাতেই ক্যাফেইন গ্রহণ করুন। নিয়ম ভেঙে হঠাৎ দিনের অন্য কোন সময় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে।
৩)জোরে জোরে শ্বাস নিন
যেকোনো উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে কিংবা চিন্তার মুহূর্তে নিজেকে রিল্যাক্স করার চেষ্টা করুন। যখন আপনি চিন্তিত হন তখন শরীরে কম অক্সিজেন প্রবাহিত হয়, কম অক্সিজেন মানে হল টানটান রক্ত নালি, যা হল মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ। তাই এই সকল মুহূর্তে নিজেকে শান্ত রেখে জোরে জোরে কয়েক বার শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
৪)বন্ধ করে দিন কমপিউটার এবং টিভি
এই ব্যাপারটা আমরা সবাই কম বেশি জানি বেশিক্ষন টিভি বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমাদের চোখে চাপ সৃষ্টি হয় যা পরে মস্তিষ্কে ব্যথার সৃষ্টি করে। বার বার বিভিন্ন মাত্রার আলোর ফ্ল্যাশ চোখের রেটিনা এবং নার্ভকে অতিরিক্ত সচল করে তোলে যা মাথা ব্যথা হওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ। প্রতি এক ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করলে ১০ মিনিটের ব্রেক নিন।
৫)হতে পারে কোন গন্ধ থেকে মাথাব্যথা
অনেক সময়ই দেখা যায় কোন বিশেষ ধরণের গন্ধ নাকে আসলে মাথা ব্যথা হওয়া শুরু হয়। সাধারণত ৩ ধরণের গন্ধে মাথাব্যথা হতে পারে - গ্যাসোলিন, তামাক এবং পারফিউম। তাই এই ধরণের গন্ধের সংস্পর্শে কম থাকার চেষ্টা
করুন।
৬)চুল বেঁধে রাখুন
অনেক মহিলাই মাথাব্যথা অনুভব করেন শুধুমাত্র আঁটসাঁট করে চুল বেঁধে রাখার কারণে। বেশিক্ষন চুল বেঁধে না রেখে মাঝে মাঝে চুল খুলে দিন।
৭)রোদ থেকে দূরে থাকুন
বেশিক্ষন রোদে থাকলে মস্তিষ্কের থ্যালামাস শরীরে ব্যথার সঙ্কেত পাঠায়। তাই যথাসম্ভব রোদ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। ছাতা এবং রোদ চশমা ব্যবহার করুন।
Source - prevention.com

