home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ত্বকের যত্নে পেঁপের বিস্ময়কর উপকারীতা
১৪ জুলাই, ১৩
বিষয়টি বাংলাতে পড়ুন
  Viewed#:   473

পেঁপে একমাত্র ফল যা সারা বছরজুড়ে পাওয়া যায়। আকারে নাশপাতির মত দেখতে ফলটি স্বাদে-গন্ধে যেমন তৃপ্তিকর তেমনি মিষ্টি। আর এর ভিতরকার নরম শাঁস – ঠিক যেন মাখন। সাধারনত ফলটি লম্বায় প্রায় ৭ ইঞ্চি আর ওজনে প্রায় এক পাউন্ডের মত হয়। তবে বর্তমানে হাইব্রিড জাতের পেঁপে লম্বায় যেমন অনেক বড় হয়, তেমনি বেশি ওজনের হয়। ভিতরকার শাঁস দেখতে কমলা রঙের, সাথে হালকা হলুদ থেকে গোলাপী আভা দেখা যায়। খাওয়ার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্নে এটি অতুলনীয়। শুধু শাঁসই নয়, পেঁপের অন্যান্য অংশও ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয়। পেঁপেতে আছে ‘প্যাপিন’ নামক এনজাইম যা আমিষ হজমে সহায়তা করে। চুইংগাম এবং অন্যান্য ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টে এই এনজাইমটি ব্যবহার করা হয়। পেঁপে এমন একটি ফল যার পুরোটাই ত্বকের যত্নে উপকারী।

পেঁপের আদি উৎস মধ্য আমেরিকা। পর্তুগীজ আর স্পেনের অভিযাত্রীদের দ্বারা বিভিন্ন মহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। পরবর্তিতে ভারতবর্ষ, ফিলিপাইন আর আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ফলটি খেতে যেমন সুস্বাদু, দেখতেও তেমন আর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর অপরিসীম গুনের জন্য  অনেকেই এটিকে ‘ফ্রুট অব এ্যাঞ্জেল’ নামে ডাকে। ‘প্যাপিন’ এনজাইম ছাড়াও পেঁপে পুষ্টি আর এন্টিঅক্সিডেন্টের খুব ভাল উৎস। এতে আছে ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি’, ক্যারোটিন, ফ্লেভনয়েড, প্রচুর আঁশ এবং খনিজ যেমন ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ইত্যাদি। পেঁপের মন্ড বা পাল্প নামী-দামি শ্যাম্পু ও বিভিন্ন ফেসিয়াল ক্রীম তৈরীর মৌলিক উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ত্বকের যত্নে পেঁপে

পেঁপেতে এমনসব উপাদান রয়েছে যা ত্বকের জন্য উপকারী, যা ত্বকে আনে উজ্জ্বলতা আর ত্বককে রাখে স্বাস্থ্যকর। পেঁপে অন্যান্য ফলের তুলনায় কম দামী। ফলে সবার জন্য সহজলভ্য আর এর ব্যবহারও বহুমুখি।

উপকারীতা

১। এতে আছে প্যাপিন এবং ভিটামিন ‘এ’ যা নিষক্রিয় হয়ে পড়ে থাকা আমিষকে ভেঙ্গে দেয় আর ত্বকের মরা কোষ দূর করে।

২। পেঁপেতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকাতে এটি শরীরে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে – ত্বককে রাখে আর্দ্র।

৩। অন্য যে কোন ফল যেমন আপেল, পেয়ারা, কিংবা আমড়ার চেয়ে পেঁপেতে প্রচুর পরিমানে ক্যারোটিন থাকে।

৪। কাঁচা পেঁপের বাটা বা পেস্ট ত্বকের পিম্পল আর ছোপ ছোপ দাগ দূর করে। পেস্ট লাগানোর ২৫ মিনিটের মত রেখে ধুয়ে ফেলুন – মুখের ব্রণ দূর হবে।

৫। পেঁপে খেলে কিংবা পেঁপে বাটা ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে উঠবে কোমল।

৬। নিয়মিত পেঁপে খেলে এবং ত্বকে মাখালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।

৭। পেঁপের মন্ড পায়ের গোঁড়ালী ফাটা বা পা-ফাটা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৮। স্কিন এক্সফোলিয়েটার হিসাবে পেঁপে ব্যবহার করা যায়। যাতে ত্বক হয় পরিস্কার আর মসৃন।

৯। পেঁপের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বকের বিবর্ণ হওয়া রোধ করে।

১০। পেঁপের খোসা বা ছাল মুখের ত্বককে ফর্সা করে। শুধু মুখের ত্বকই নয়, হাত ও পায়ের ত্বকও ফর্সা করে।

১১। কাঁচা পেঁপে দাদের চিকিৎ্সায় ব্যবহার করা হয়। দাদের ঘা’য়ে কাঁচা পেঁপের ফালি ঘষলে দাদের প্রদাহ কমে।

১২। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের ত্বকে বয়সের ছাপ কমিয়ে আনে তারুন্য।

কিভাবে ব্যবহার করবেন

পেঁপের খোসা বা ছাল বয়সের ছাপ কমাতে ব্যবহার করা হয়। এরজন্য আপনি পেঁপের ছাল   সারা মুখে ঘষুন। পাঁচ মিনিটের মত রেখে ঠান্ডা পানিতে আস্তে আস্তে ডলে ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফলের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করুন। পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমানে Alfa-Hydroxy Acid (AHA)  যা এন্টি-এজিং উপাদান হিসাবে কাজ করে। আর এই উপাদানটির জন্য পেঁপে এসিডিক ফল। যাদের ত্বক এসিডিক উপাদানে সংবেদনশীল, তাদের নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভাল।

ত্বকের কালো দাগ দূর করায় পেঁপে ব্যবহার করা হয়। পেঁপে চটকে ভর্তার মত করে তাতে দুধ মিশিয়ে কালো দাগের স্থানে লাগান। কালো দাগ দূর হবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ও ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

পেঁপের মন্ডের সাথে সামান্য কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে আস্তে আস্তে মুখের ত্বকে লাগান। কিছুক্ষন পর ধুয়ে ফেলুন। এটা আপনার ত্বককে আর্দ্র রাখে।

শুষ্ক ত্বকে পেঁপে খুবই কার্যকর। একফালি পেঁপে নিন। ভাল করে মন্ড তৈরী করুন। এক টেবিল চামচ দুধের সর বা মালাই মেশান। মিশ্রনটি মুখের ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। পরিস্কার পাকা পেঁপে ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরী করুন। সারা মুখের ত্বকে এই পেস্ট ভাল করে মাখিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রাখুন। পরিস্কার ভেজা কাপড় দিয়ে আস্তে আস্তে ঘষে তুলে ফেলুন। হাতের তালু দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে শুকিয়ে নিন।

ত্বকের বাঁধন দৃঢ় করতে পেঁপের পেস্টের সাথে চালের ময়দা আর মধু মিশিয়ে নিন। ত্বকে মাখান, ২০ মিনিট রাখুন। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে অন্ততঃ তিনবার ব্যবহার করুন।

স্ক্রাব বা মাজনি হিসাবে কাঁচা পেঁপে ব্যবহার করা যায়। কাঁচা পেঁপের মন্ডের সাথে লবন, অলিভ অয়েল আর মধু মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ‘পেঁপে ফেইস প্যাক’ ব্যবহার করুন। ঘরে বসে তৈরী করুন ‘পেঁপে ফেইস প্যাক’।

পেঁপের পেস্ট তৈরী করুন

মধু, দধি, ডিমের সাদা অংশ আর লেবুর রস পেস্টের সাথে মিশান

নাড়তে থাকুন যতক্ষন না ঘন থক থকে হয়

ব্যবহারের পূর্বে ভাল করে মুখমন্ডল ধুয়ে নিন

পরিস্কার ও ময়লামুক্ত হওয়ার পর ফেসিয়াল মাস্ক হিসাবে মাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন

কুসুম গরম পানি দিয়ে ডলে ধুয়ে ফেলুন। হাতের তালু দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে শুকিয়ে ফেলুন

 

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Amazing Benefits Of Papaya For Hair
Previous Health Tips: Anti-Aging Skincare Essentials

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')