home top banner

Health Tip

ত্বকের যত্নে পেঁপের বিস্ময়কর উপকারীতা
14 July,13
View in English

পেঁপে একমাত্র ফল যা সারা বছরজুড়ে পাওয়া যায়। আকারে নাশপাতির মত দেখতে ফলটি স্বাদে-গন্ধে যেমন তৃপ্তিকর তেমনি মিষ্টি। আর এর ভিতরকার নরম শাঁস – ঠিক যেন মাখন। সাধারনত ফলটি লম্বায় প্রায় ৭ ইঞ্চি আর ওজনে প্রায় এক পাউন্ডের মত হয়। তবে বর্তমানে হাইব্রিড জাতের পেঁপে লম্বায় যেমন অনেক বড় হয়, তেমনি বেশি ওজনের হয়। ভিতরকার শাঁস দেখতে কমলা রঙের, সাথে হালকা হলুদ থেকে গোলাপী আভা দেখা যায়। খাওয়ার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্নে এটি অতুলনীয়। শুধু শাঁসই নয়, পেঁপের অন্যান্য অংশও ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয়। পেঁপেতে আছে ‘প্যাপিন’ নামক এনজাইম যা আমিষ হজমে সহায়তা করে। চুইংগাম এবং অন্যান্য ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টে এই এনজাইমটি ব্যবহার করা হয়। পেঁপে এমন একটি ফল যার পুরোটাই ত্বকের যত্নে উপকারী।

পেঁপের আদি উৎস মধ্য আমেরিকা। পর্তুগীজ আর স্পেনের অভিযাত্রীদের দ্বারা বিভিন্ন মহাদেশে এর বিস্তার ঘটে। পরবর্তিতে ভারতবর্ষ, ফিলিপাইন আর আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ফলটি খেতে যেমন সুস্বাদু, দেখতেও তেমন আর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর অপরিসীম গুনের জন্য  অনেকেই এটিকে ‘ফ্রুট অব এ্যাঞ্জেল’ নামে ডাকে। ‘প্যাপিন’ এনজাইম ছাড়াও পেঁপে পুষ্টি আর এন্টিঅক্সিডেন্টের খুব ভাল উৎস। এতে আছে ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি’, ক্যারোটিন, ফ্লেভনয়েড, প্রচুর আঁশ এবং খনিজ যেমন ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ইত্যাদি। পেঁপের মন্ড বা পাল্প নামী-দামি শ্যাম্পু ও বিভিন্ন ফেসিয়াল ক্রীম তৈরীর মৌলিক উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ত্বকের যত্নে পেঁপে

পেঁপেতে এমনসব উপাদান রয়েছে যা ত্বকের জন্য উপকারী, যা ত্বকে আনে উজ্জ্বলতা আর ত্বককে রাখে স্বাস্থ্যকর। পেঁপে অন্যান্য ফলের তুলনায় কম দামী। ফলে সবার জন্য সহজলভ্য আর এর ব্যবহারও বহুমুখি।

উপকারীতা

১। এতে আছে প্যাপিন এবং ভিটামিন ‘এ’ যা নিষক্রিয় হয়ে পড়ে থাকা আমিষকে ভেঙ্গে দেয় আর ত্বকের মরা কোষ দূর করে।

২। পেঁপেতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকাতে এটি শরীরে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে – ত্বককে রাখে আর্দ্র।

৩। অন্য যে কোন ফল যেমন আপেল, পেয়ারা, কিংবা আমড়ার চেয়ে পেঁপেতে প্রচুর পরিমানে ক্যারোটিন থাকে।

৪। কাঁচা পেঁপের বাটা বা পেস্ট ত্বকের পিম্পল আর ছোপ ছোপ দাগ দূর করে। পেস্ট লাগানোর ২৫ মিনিটের মত রেখে ধুয়ে ফেলুন – মুখের ব্রণ দূর হবে।

৫। পেঁপে খেলে কিংবা পেঁপে বাটা ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে উঠবে কোমল।

৬। নিয়মিত পেঁপে খেলে এবং ত্বকে মাখালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।

৭। পেঁপের মন্ড পায়ের গোঁড়ালী ফাটা বা পা-ফাটা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৮। স্কিন এক্সফোলিয়েটার হিসাবে পেঁপে ব্যবহার করা যায়। যাতে ত্বক হয় পরিস্কার আর মসৃন।

৯। পেঁপের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বকের বিবর্ণ হওয়া রোধ করে।

১০। পেঁপের খোসা বা ছাল মুখের ত্বককে ফর্সা করে। শুধু মুখের ত্বকই নয়, হাত ও পায়ের ত্বকও ফর্সা করে।

১১। কাঁচা পেঁপে দাদের চিকিৎ্সায় ব্যবহার করা হয়। দাদের ঘা’য়ে কাঁচা পেঁপের ফালি ঘষলে দাদের প্রদাহ কমে।

১২। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের ত্বকে বয়সের ছাপ কমিয়ে আনে তারুন্য।

কিভাবে ব্যবহার করবেন

পেঁপের খোসা বা ছাল বয়সের ছাপ কমাতে ব্যবহার করা হয়। এরজন্য আপনি পেঁপের ছাল   সারা মুখে ঘষুন। পাঁচ মিনিটের মত রেখে ঠান্ডা পানিতে আস্তে আস্তে ডলে ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফলের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করুন। পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমানে Alfa-Hydroxy Acid (AHA)  যা এন্টি-এজিং উপাদান হিসাবে কাজ করে। আর এই উপাদানটির জন্য পেঁপে এসিডিক ফল। যাদের ত্বক এসিডিক উপাদানে সংবেদনশীল, তাদের নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভাল।

ত্বকের কালো দাগ দূর করায় পেঁপে ব্যবহার করা হয়। পেঁপে চটকে ভর্তার মত করে তাতে দুধ মিশিয়ে কালো দাগের স্থানে লাগান। কালো দাগ দূর হবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ও ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

পেঁপের মন্ডের সাথে সামান্য কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে আস্তে আস্তে মুখের ত্বকে লাগান। কিছুক্ষন পর ধুয়ে ফেলুন। এটা আপনার ত্বককে আর্দ্র রাখে।

শুষ্ক ত্বকে পেঁপে খুবই কার্যকর। একফালি পেঁপে নিন। ভাল করে মন্ড তৈরী করুন। এক টেবিল চামচ দুধের সর বা মালাই মেশান। মিশ্রনটি মুখের ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। পরিস্কার পাকা পেঁপে ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরী করুন। সারা মুখের ত্বকে এই পেস্ট ভাল করে মাখিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রাখুন। পরিস্কার ভেজা কাপড় দিয়ে আস্তে আস্তে ঘষে তুলে ফেলুন। হাতের তালু দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে শুকিয়ে নিন।

ত্বকের বাঁধন দৃঢ় করতে পেঁপের পেস্টের সাথে চালের ময়দা আর মধু মিশিয়ে নিন। ত্বকে মাখান, ২০ মিনিট রাখুন। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে অন্ততঃ তিনবার ব্যবহার করুন।

স্ক্রাব বা মাজনি হিসাবে কাঁচা পেঁপে ব্যবহার করা যায়। কাঁচা পেঁপের মন্ডের সাথে লবন, অলিভ অয়েল আর মধু মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ‘পেঁপে ফেইস প্যাক’ ব্যবহার করুন। ঘরে বসে তৈরী করুন ‘পেঁপে ফেইস প্যাক’।

পেঁপের পেস্ট তৈরী করুন

মধু, দধি, ডিমের সাদা অংশ আর লেবুর রস পেস্টের সাথে মিশান

নাড়তে থাকুন যতক্ষন না ঘন থক থকে হয়

ব্যবহারের পূর্বে ভাল করে মুখমন্ডল ধুয়ে নিন

পরিস্কার ও ময়লামুক্ত হওয়ার পর ফেসিয়াল মাস্ক হিসাবে মাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন

কুসুম গরম পানি দিয়ে ডলে ধুয়ে ফেলুন। হাতের তালু দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে শুকিয়ে ফেলুন

 

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Amazing Benefits Of Papaya For Hair
Previous Health Tips: Anti-Aging Skincare Essentials

More in Health Tip

প্রাকৃতিক বাইপাস

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগে মারা যাচ্ছেন। একদিকে বাড়ছে হৃদরোগীর সংখ্যা, অন্যদিকে কমছে এতে আক্রান্তদের বয়স। পরিসংখ্যানটি রীতিমতো আতঙ্কজনক। করোনারি আর্টারি ডিজিজ এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত... See details

ত্বকের সমস্যায় ব্রণ

ব্রণ বয়ঃসন্ধিক্ষণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আবির্ভূত হয়। তবে সব বয়সী নারী-পুরুষ,এমনকী শিশুরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত মুখ ও কপাল আক্রান্ত হয়। মুখ ছাড়াও কাঁধ, পিঠ ও বুকে ব্রণ হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্রণ সম্বন্ধে সাধারণ জ্ঞানের অভাবে সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করে। সামান্য সতর্কতা ও... See details

যে সাত খাবারে গায়ে গন্ধ!

সামাজিক মেলামেশা আর আটপৌরে জীবনে সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয়গুলোর একটি নিঃসন্দেহে বডি ওডর বা গায়ে গন্ধ হওয়া। জিন বা বংশগতির বাহক থেকে শুরু করে সস্তা সুগন্ধি, পেশাগত কাজের ধরন কত কিছুকেই না দায়ী মনে করা হয় শরীরে দুর্গন্ধের জন্য। কিন্তু প্রতিদিন আপনি যেসব খাবারদাবার খাচ্ছেন তাতেই লুকিয়ে নেই তো শরীরে বাজে... See details

খাদ্যে বিষক্রিয়ার দ্রুত গৃহ চিকিৎসা

খাদ্যে বিষক্রিয়া কি?   খাদ্যে বিষক্রিয়া একটা এমন রোগ বা চিকিৎসা কালীন অবস্থা যা একজন পুরুষ বা মহিলাকে অথবা এমনকি একটি শিশুকেও খুব সহজে আক্রান্ত করতে পারে। এরূপ অবস্থার প্রধান কারণ হিসাবে দূষিত খাবার খাওয়া বা পানীয় পান করা অথবা বাসি খাবার খাওয়া কে চিহ্নিত করা হয়। যদি খাবারকে ভাল এবং... See details

কিভাবে ওজন বাড়াবেন

শারীরিকভাবে ক্ষীণকায় ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায়ই শোনা যায় কীভাবে যে মোটা হওয়া যায়, এত খাই কিন্তু মোটা হতে পারি না। কত জায়গায়ই না গেলাম, স্বাস্থ্য ভালো করবে—কিন্তু কোনো লাভ হলো না। ক্ষীণকায় ব্যক্তির ওজন স্বাভাবিক ওজন অপেক্ষা অনেক কম থাকে। তারা সব সময়ই দুর্বল বোধ করেন এবং সহজ... See details

অকাল বার্ধক্যের প্রতিকার

নিজেকে কি বয়সের চাইতে বুড়ো লাগছে? যদি আয়নায় নিজেকে বেশি বয়স্ক দেখায়, তাহলে প্রতিদিনের কাজের রুটিন পরিবর্তন করার সময় হয়েছে আপনার। বুড়োটে দেখানোর অন্যতম কারণ হতে পারে প্রতিদিনের ১২টি অভ্যেস। ১. সকল কাজের কাজী সময়টাই এই রকম, একসঙ্গে অনেক কাজ না করলে যেন উপরে উঠার সিঁড়িই বাওয়া যায় না। অথচ... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')