home top banner

Health Tip

খাদ্যে বিষক্রিয়ার দ্রুত গৃহ চিকিৎসা
13 September,13
  Viewed#:   429

খাদ্যে বিষক্রিয়া কি?
 
খাদ্যে বিষক্রিয়া একটা এমন রোগ বা চিকিৎসা কালীন অবস্থা যা একজন পুরুষ বা মহিলাকে অথবা এমনকি একটি শিশুকেও খুব সহজে আক্রান্ত করতে পারে। এরূপ অবস্থার প্রধান কারণ হিসাবে দূষিত খাবার খাওয়া বা পানীয় পান করা অথবা বাসি খাবার খাওয়া কে চিহ্নিত করা হয়। যদি খাবারকে ভাল এবং স্বাস্থ্যকর অবস্থায় সংরক্ষণ করা না হয়, তবে ব্যাকটেরিয়া অথবা অন্যান্য অণুজীবদের পক্ষে তাতে উপস্থিতির বেশ সুযোগ তৈরি হয়। অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া আছে এমন খাবার যদি আপনি গ্রহণ করেন, তবে ঐ ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এটা খুবই মৃদু ধরনের অসুস্থতা যা বেশ সহজেই চিকিৎসা করা যায় এবং খাবারের হালকা বিষক্রিয়ার কিছু সহজ গৃহ চিকিৎসাও আছে। কখনো কখনো বেশী সংক্রমিত খাবার আপনার পাকস্থলি এবং অন্ত্রের ব্যাপক সমস্যার কারণ হতে পারে যার ফলে মারাত্মক অসুস্থতার কারণে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন হয়। এটা প্রকাশিত হয়েছে যে প্রতি ছয় জনে একজন দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পরে। ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব গুলি আপনার পাকস্থলিতে কার্যক্রম শুরু করে যার কারণে আপনি ডায়রিয়া এবং বমিতে আক্রান্ত হন, যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার দুইটি প্রধান লক্ষন। আপনি কোনও প্রকার রাসায়নিক পদার্থ দিয়েও খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন, তবে তা খুব একটা সচরাচর দেখা যায় না।
 
খাদ্যে সংক্রমণের কারণ সমূহ
 
কোন ব্যাক্তি খাদ্যের বিষক্রিয়াতে ভোগে যখন সে গোগ্রাসে দূষিত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে। খাদ্যে বিষক্রিয়া এর উৎপাদন বা আহরণ যেকোনো পর্যায়ে হতে পারে। এটা খাবার জন্মানোর সময়, কেটে তোলার সময়, প্রক্রিয়াজাত করার সময় বা সরংরক্ষনের সময়ে হতে পারে। খাবার যখন খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয় এবং অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় তৈরি করা হয় তখন দূষিত হয়ে পরে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীরা হল সে সব organisms বা জৈবিক সত্ত্বা যাদের কারণে খাবার দূষিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে হালকা বা মারাত্মক খাদ্য বিষক্রিয়া ঘটে থাকে।
 
  • ব্যাকটেরিয়াঃ  প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া আছে যেগুলি খাদ্যে বিষক্রিয়া করে থাকে হয় সরাসরি নয়ত এদের মাধ্যমে যে টক্সিন উৎপন্ন হয়ে থাকে তার দ্বারা। সবচেয়ে বেশী খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটায় এমন ধরনের ব্যাকটেরিয়া হলঃ ই.কলাই (E.coli), সালমনেলা (Salmonella), কলস্ট্রিডিয়াম পেরফ্রিঞ্জেস (Clostridium perfringens) এবং শিগেল্লা (Shigella)। কিছু খাবার আছে যা সহজেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত হতে পারে, যেমনঃ ডিম, দুধজাত পন্য, দই, মাছ, কাঁচা মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ক্রিম পাই এবং দূষিত পানি।
  • পরজীবীঃ  এগুলো হল সে সকল জীব যারা তাদের জীবন ধারণ এবং বেড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় পুষ্টি অন্য জীবের শরীর থেকে পেয়ে থাকে। তারা তাদের বাহকের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। কিছু সাধারণ খাদ্য বাহিত পরজীবী হলঃ গোল ক্রিমি (roundworm), ফিতা ক্রিমি (tapeworm) এবং প্রোটোজোয়া(protozoa)।
  • ভাইরাসঃ  কিছু ভাইরাস আছে যাদের কারণে খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটে থাকে, যেমনঃ norovirses। এরা অরন্ধনকৃত এবং কাঁচা মাংস এবং এর থেকে উৎপাদিত পন্যকে, এছাড়াও, অপ্রক্রিয়াজাত খোসা যুক্ত মাছকে সংক্রমিত করে।
  • Allergens:  কিছু ফুড অ্যালার্জেন আছে যেগুলি অনেক সময় ব্যাক্তি বিশেষে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার কারণ হিসেবে দেখা যায়। এরকম কিছু খাবার  দুধ, ডিম, পনির, সামুদ্রিক খাবার বা মাশরুম কোনও ব্যাক্তির শরীরে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
  • বিষ এবং খাদ্য দূষিতকারকঃ  নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যের বিষ বা রাসায়নিক বিষ খাদ্যের দূষিত করনের কারণ হতে পারে।
  • মাশরুম এবং ব্যাঙের ছাতাঃ  মাশরুম এবং ব্যাঙের ছাতার বেশ কিছু প্রজাতি আছে যেগুলি muscarine poisoning এর কারণ, যার ফলে স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হতে পারে এবং অনেক সময় আংশিক বা সম্পূর্ণ রূপে প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।
  • কীটনাশকঃ  ফল এবং সবজীর উপর প্রয়োগ করা হয় এমন অনেক কীটনাশকের মধ্যে অনেক প্রকারের বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে। এগুলোর মাধ্যমেও মানব শরীরে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপাদান প্রবেশ করতে পারে। সকল খাদ্যশস্য, ফল এবং সবজী খুব ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার করে খাদ্য রূপে ব্যবহার করা উচিত যাতে কীটনাশকের মাধ্যমে খাদ্যের বিষক্রিয়া পরিহার করা যায়।
  • খোসাযুক্ত মাছঃ  বেশ কিছু সাধারণ খোসাযুক্ত মাছ জাতীয় খাদ্য হিসাবে বিবেচিত প্রাণী যেমন, চিংড়ি, শামুক, mussele, clams এবং scallops ইত্যাদি যথাযথ ভাবে পরিস্কার করে এবং রান্না করে না খেলে মানব দেহে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। এসকল খোসাযুক্ত মাছ জাতীয় প্রাণী saxitoxin নামক বিষ উৎপন্ন করে যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী।
 
খাদ্যে বিষক্রিয়ার আরও কিছু কারণ হলঃ
·         কিছু ফুল এবং জাম জাতীয় ফল
·         মৃৎ শিল্পে ব্যবহৃত সিসা এবং এসিড
·         খাদ্য পাত্রে ব্যবহৃত ক্যাডমিয়াম
·         Under ripe tuber
·         Botulism
 
খাদ্য বিষক্রিয়ার কিছু লক্ষণ এবং উপসর্গ
 
কোনও ব্যাক্তি কি পরিমাণে দূষিত খাবার খেয়েছে এবং উক্ত খাদ্য কি প্রকারের বিষাক্রান্ত হয়েছে তার উপর এর উপসর্গ গুলি নির্ভর করে। এ সকল চিহ্ন বা উপসর্গ মানুষের দেহে ধীরে ধীরে পরিলক্ষিত হতে পারে। এটি কখনো ঘণ্টার মধ্যে, কখনো আধা দিনের মধ্যে, এবং এমনকি কখনো কয়েক দিনের মধ্যেও দেখা যেতে পারে। আবার কিছু খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ প্রকাশ পেতে কয়েক সপ্তাহও লাগতে দেখা গেছে।
 
খাদ্যে বিষক্রিয়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ হলঃ
·         বমি বমি ভাব
·         বমি করা
·         ডায়রিয়া
·         পানিশুন্যতা
·         পেটে সামান্য ব্যাথা
·         জ্বর এবং মাথা ব্যাথা
·         মুখমণ্ডলের ব্যাথা এবং চুলকানি
·         মলের সাথে রক্ত
 
খোসাযুক্ত মাছ জাতীয় খাবার খেয়ে বিষাক্রান্ত হলে আপনার যেমন উপসর্গ দেখা যেতে পারেঃ
·         ক্ষণে শীত ক্ষণে গরম বোধ হওয়া
·         মাথা ব্যাথা এবং চুলকানি
·         চামড়ায় ফোস্কা এবং ব্যাথা
·         পাকস্থলি এবং অন্ত্রে চাপ দেয়ার মত ব্যাথা
 
মাশরুম জাতীয় খাদ্যের বিষক্রিয়ায় আপনার যে সকল উপসর্গ দেখা যেতে পারেঃ
·         মুখ ঝুলে পরা
·         অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ
·         ঘেমে উঠা
·         অচেতন এবং মাথা ঘুরানো
·         হৃদরোগে আক্রান্ত
 
ভাইরাস আক্রান্তজনিত উপসর্গ
·         অল্প অল্প জ্বর
·         বমি বমি ভাব
·         পেটে ব্যাথা
·         বমি করা
·         পানিযুক্ত ডায়রিয়া
·         পাকস্থলীতে ব্যাথা
·         ক্লান্ত বোধ করা
·         খাবার রুচি কমে যাওয়া
·         চোখ এবং চামড়ায় হলদেটে ভাব
 
ব্যাকটেরিয়া জনিত খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্তের উপসর্গ
·         ডায়রিয়া জনিত পেট কামড়ানি
·         সন্ধি ব্যাথা
·         পেশীতে ব্যাথা
·         পেটের পেশীর সংকোচন
·         রক্তযুক্ত ডায়রিয়া
·         ক্রমাগত মলত্যাগের চাপ হওয়া
·         রক্ত ও মিউকাস সহ ডায়রিয়া
·         চোখে ঘোলা দেখা
·         Meningitis
·         সমস্ত শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া
·         ঠাণ্ডা-জ্বর
 
পরজীবী জনিত খাদ্য বিষক্রিয়ার উপসর্গ
·         পানিযুক্ত ডায়রিয়া
·         চোখ ব্যাথা এবং মাথা ধরা
·         দৃষ্টি বিভ্রম
·         ওজন কমে যাওয়া
·         খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া
·         পাকস্থলী মোচড়ানো
·         ক্লান্তি
 
কখন আপনার ডাক্তারি চিকিৎসার প্রয়োজন পরবে? 
একজন ডাক্তার বা চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যখনঃ
·         বমি বমি ভাব, বমি, অথবা জ্বর দুই বা তিন ধরে ক্রমাগত চলে
·         তিন বৎসরের কম বয়সের শিশু যদি আক্রান্ত হয়
·         পরিবারের অন্য সদস্যগণ যারা একই খাদ্য খেয়ে অসুস্থ হয়েছে
·         তরল না খেয়ে থাকতে পারে না
·         দুই বা তিন দিন ধরে প্রচুর তরল গ্রহণ করেও অবস্থার উন্নতি হয় না
·         চিকিৎসার জন্য দেয়া ঔষধ বমি হওয়ার জন্য খেতে পারেনা
·         অসুস্থ রোগী গর্ভবতী
 
আপনি যদি কয়েক দফা হালকা বমি, জ্বর বা ডায়রিয়ায় ভুগে থাকেন তবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য কিছু সাধারণ গৃহ চিকিৎসা গ্রহণ করে দেখতে পারেন।
 
খাদ্যে বিষক্রিয়ার কিছু কার্যকর গৃহ চিকিৎসা
খাদ্যে বিষক্রিয়া এমন একটি অসুস্থ অবস্থা যা উপেক্ষা করা যায় না। যদি আপনি হালকা ডায়রিয়া, বমি ভাব, বমি করা, পানিশুন্যতা, অথবা মাথা ঝিম ঝিম করা ইত্যাদিতে ভোগেন তবে আপনি নিচে বর্ণীত গৃহ চিকিৎসা গ্রহণ করে সমস্যা গুলি দূর করতে পারেন।
 
আদা
আপনি যদি হজমের সমস্যায় ভোগেন, তবে সবসময় হাতের কাছে পাওয়া আদা হল সর্বোত্তম গৃহ চিকিৎসার উপাদান। এরজন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল এক টেবিল চামচ মধুর সাথে কয়েক ফোঁটা আদার রস মিশিয়ে খাওয়া এবং এতে করে পাকস্থলীর ব্যাথা এবং ফাঁপা কমে যাওয়া শুরু হবে।
 
পুদিনা পাতা
গলার এবং পাকস্থলীর সমস্যার নিরাময়ের জন্য পুদিনা পাতা একটি চমৎকার চিকিৎসা। কয়েকটি পুদিনা পাতা বেটে নিয়ে এর রস ছেঁকে নিয়ে এর সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে খান। আপনার পেটে গুড় গুড় আওয়াজ করা এবং পেট ব্যাথা ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে চলে যাবে।
 
লেবুর রস
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের অসুস্থতা থেকে মুক্ত হওয়ার জানা সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা হল লেবুর রস। এটার অম্লীয় বৈশিষ্ট্য খাদ্যে বিষক্রিয়ার অন্যতম উপাদান ব্যাক্তেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারে। একটি বা দুইটি লেবু চিপে এর রস বের করে একটি ছোট বাটিতে নিন এবং এর সাথে কয়েক চিমটি চিনি মেশান। অন্যান্য সিরাপ যেমন খান তেমনি এটা খেয়ে ফেলুন। এক কাপ কাল চায়েও আপনি কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।
 
জিরা বীজ
পেট কামড়ানো এবং পেট ফাঁপা নিরাময়ের জন্য আপনার স্যুপে জিরা ব্যবহার করতে পারেন এমনকি গরম পানিতে জিরা সিদ্ধ করেও তা খেতে পারেন।
 
কলা
কলা পটাসিয়ামের একটি ভাল উৎস এবং পেট ফাঁপা কমাতে যেমন তেমনি খাদ্যে বিষক্রিয়া নিরাময়ে এটি বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে। কয়েকটি কলা এবং আপেল পিশে নিয়ে খেয়েও আপনি খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারেন।
 
মেনথল পাতা
মেনথল (peppermint) পাতা শুধু সুগন্ধের কাজেই ব্যবহৃত হয় না। এর অনেক আরোগ্য মূলক বৈশিষ্ট্যও আছে। মৃদু পেট কামড়ানি এবং খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত রোগের নিরাময়ে এটা অন্যতম গৃহ চিকিৎসার উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। এটা আপনার পেটে একরকম আরামদায়ক অনুভুতি এনে দেয়। কয়েকটি মেন্থল পাতা পিষে এর রস নিয়ে কাল চায়ের সাথে খেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আপনার পেট কামড়ানি চলে যাবে।
 
পানি
যদি আপনি খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গে ভুগেন, তবে আপনার শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ জরুরী একারণে যে ডায়রিয়ার কারণে আপনার শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যেতে পারে। সুতরাং, আপনার শরীরে যাতে জলীয় অংশের ভারসাম্য নষ্ট না হয় সে জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে পারেন। এছাড়াও, পানি আপনার শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য এবং ব্যাকটেরিয়া নিষ্কাশিত হতে সহায়তা করে এবং দফায় দফায় খাদ্যের বিষক্রিয়া থেকে তাড়াতাড়ি আরোগ্য লাভে সাহায্য করে।
 
সক্রিয় কয়লা
সক্রিয় কয়লা (activated charcoal) হল একটি অন্যতম ভাল চিকিৎসা যা পাকস্থলী থেকে সকল অবাঞ্ছিত পদার্থ এবং গ্যাসযা পাকস্থলীর দেয়ালের আবরনের ক্ষতি করেতা শুষে নেয়। এটা পেট কামড়ানি থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।
 
আপেল সিডার ভিনেগার
ভিনেগারের ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য আছে এবং আপেল সিডার হল সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ভিনেগার যা পাকস্থলীর দেয়ালের ক্ষতি নিরাময় করে। এটা খাদ্য বিষক্রিয়া থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভে সাহায্য করে এবং সাথে সাথে পাকস্থলীর ভেতরে মেঘের মত পরিবেশ তৈরি করে যার ফলে সেখানে সহজে ব্যাকটেরিয়া বংশ বিস্তার করতে পারে না।
 
আপেল
বুক জ্বালাপোড়া এবং অস্থিরতা কমাতে আপেলকে সত্যই কার্যকরী দেখা যায়। এটা এমন একটা ফল যা এনজাইম উৎপন্ন করে যার আপনার পাকস্থলীতে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাধা দান করার শক্তি আছে এবং পাকস্থলীর ব্যাথা এবং ডায়রিয়া থেকে দ্রুত নিরাময়ে সহায়তা করে।
 
তুলসী পাতা
তুলসী পাতার চমৎকার ঔষধি গুণাগুণ আছে এবং এটা যুগ যুগ ধরে পাকস্থলীর আলসার, পাকস্থলীর ব্যাথা এবং ডায়রিয়া কমাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বমি বন্ধের একটা উপায় হল এলাচি সহযোগে তিন থেকে চারটি তুলসী পাতা চিবানো। এছাড়াও আপনি তুলসী পাতা থেকে এক চা চামচ তুলসীর রস বের করে নিয়ে এলাচ চূর্ণ এবং এক চিমটি লবঙ্গ চূর্ণের সাথে ভালভাবে মিশিয়ে সরাসরি খেতে পারেন। এটি আপনার বমিকে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
 
Aerated ড্রিংকস
পরিস্কার সোডা অথবা কমলা বা লেবুর নির্যাসের সাথে সোডা বা এমনকি মেনথল পাতার রস আপনার পাকস্থলীতে বিস্ময়কর ক্রিয়া করতে পারে এবং পেট কামড়ানি ব্যাপক ভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এর সাথে এটা আপনার পাকস্থলীর ব্যাথাও কমাতে সাহায্য করতে পারে।
 
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবারে ফিরে যাওয়া
একবার যখন আপনি খাদ্যে বিষক্রিয়া সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন তখন পূর্বের খাদ্যাভ্যাসে সহজে ফিরে যাওয়া ভাল হবে। প্রথমে সহজ পাচ্য খাবার যেমন, কলা, ভাত, সোডা ক্র্যাকার, টোষ্ট ইত্যাদি দিয়ে শুরু করে কয়েক দিন পরে অন্য খাবারের দিকে যাওয়া ভাল হবে।
 
যে সকল খাবার পরিত্যাগ করতে হবে
যদি আপনি মৃদু থেকে সহনীয় পর্যায়ের খাদ্য বিষক্রিয়ায় ভোগেন, তবে কিছু খাবার, যেমন অ্যালকোহল, নিকোটিন, চিনি, দুধজাত পন্য, চর্বিযুক্ত খাবার এবং এমনকি উচ্চ মশলা যুক্ত খাবার বর্জন করা বেশ জরুরী যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি ভাল এবং হালকা বোধ করেন। আপনাকে কয়েক দিন নরম ফল, স্যুপ, ঝোল, ফলের রস এবং সবজী জাতীয় হালকা খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
 
BRAT খাদ্য তালিকা
খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ব্যাক্তির জন্য সুপারিশকৃত অন্যতম সুপরিচিত খাবার হল BRAT খাদ্য তালিকা যার মধ্যে আছে আপেল সস, টোষ্ট, ভাত এবং কলা। এছাড়াও আপনি ক্র্যাকার, আলু এবং সেদ্ধ গাজর এর মত বৈশিষ্ট্যহীন হালকা খাবার খেতে পারেন।
 
ভেষজ খাদ্য
খাদ্যে বিষক্রিয়ার সাথে লড়াই করার জন্য আপনি প্রচুর পরিমাণে ভেষজ খাবার খেতে পারেন। কিছু ভেষজ খাবার যা বেশ ভাল ভাবে গৃহ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে সে গুলি হলঃ যষ্টিমধু (licorice), এশিয়ান জিনসেং, ক্যামোমিল (chamomile), অরেগন গ্রেপ (Oregon grape), দারুচিনির বাকল (

...

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ১০ ধরনের দুর্বোধ্য ব্যাথা উপেক্ষা করা একদম উচিত নয় পর্ব-১
Previous Health Tips: মানসিক চাপ বনাম সুস্থতা

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')